খুলনা | বৃহস্পতিবার | ২২ অক্টোবর ২০২৬ | ৬ কার্তিক ১৪৩৩

কারা যেতে পারেন

আবারও চালু হচ্ছে ডিভি লটারি, জেনে নিন আবেদনের সময়

খবর প্রতিবেদন |
০৪:১৪ পি.এম | ২১ অক্টোবর ২০২৬


যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৭ সালের ডাইভারসিটি ভিসা (ডিভি) লটারির নিবন্ধন চালু করতে ট্রাম্প প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছেন ফেডারেল বিচারক। নির্ধারিত সময়ে গ্রিন কার্ড লটারির নিবন্ধন শুরু না করায় আদালত এই নির্দেশ দিয়েছেন। এর ফলে সম্ভাব্য আবেদনকারীদের জন্য লটারিতে অংশ নেওয়ার সুযোগ আবার চালু করার পথ তৈরি হয়েছে।

আগামী ২৯ অক্টোবরের মধ্যে নিবন্ধনের সময়সূচি ঘোষণা করে ১ নভেম্বরের মধ্যে আবেদন গ্রহণ শুরু করার জন্য মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

গত ১৪ অক্টোবর ক্যালিফোর্নিয়ার ফেডারেল আদালতের বিচারক জিনসুক ওহতা এ আদেশ দেন।

আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, নিবন্ধন কার্যক্রম ৩০ দিন চালু থাকতে পারে। তবে আবেদনকারীদের চূড়ান্ত সময়সূচি, যোগ্যতার শর্ত ও আবেদন পদ্ধতি সম্পর্কে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার জন্য অপেক্ষা করতে বলা হয়েছে।

মামলাটি করেছিল রেড ঈগল ল নামের একটি আইন প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটির অভিযোগ ছিল, নির্ধারিত সময়ে আবেদন গ্রহণ শুরু না করে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর কার্যত কর্মসূচিটি আটকে রেখেছে। এতে আবেদনকারীদের পাশাপাশি লটারি-সংক্রান্ত আইনি সহায়তা দেওয়া প্রতিষ্ঠানটিরও আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে আদালতে দাবি করা হয়।

মামলায় মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং পররাষ্ট্র দপ্তরকে জবাবদিহির আওতায় আনা হয়। সরকারের পক্ষ থেকে যুক্তি দেওয়া হয়েছিল, নির্ধারিত সময় পেরিয়ে যাওয়ার পর আবেদন গ্রহণ শুরু করলে কর্মসূচির নিয়মের সঙ্গে সাংঘর্ষিক পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। তবে বিচারক মনে করেন, শুধু সময়সীমা পেরিয়ে যাওয়ার কারণে কংগ্রেস অনুমোদিত কর্মসূচি বন্ধ রাখা গ্রহণযোগ্য নয়। এ কারণে তিনি লটারি চালুর নির্দেশ দেন।

ডিভি লটারি সাধারণভাবে গ্রিন কার্ড লটারি নামে পরিচিত। এ কর্মসূচির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে তুলনামূলকভাবে কম অভিবাসী পাঠায়—এমন দেশগুলোর যোগ্য নাগরিকদের জন্য প্রতিবছর সর্বোচ্চ ৫৫ হাজার অভিবাসী ভিসা দেওয়া হয়। নির্বাচিত হলে আবেদনকারীরা যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ পেতে পারেন।

অন্যান্য অনেক কর্মভিত্তিক অভিবাসন প্রক্রিয়ার মতো এ লটারিতে অংশ নিতে সাধারণত যুক্তরাষ্ট্রের কোনো প্রতিষ্ঠানের চাকরির প্রস্তাব বা নিয়োগকর্তার পৃষ্ঠপোষকতা প্রয়োজন হয় না। তবে লটারিতে নাম উঠলেই গ্রিন কার্ড নিশ্চিত হয় না। নির্বাচিত আবেদনকারীদের নির্ধারিত যোগ্যতা পূরণ, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা এবং অভিবাসন ও নিরাপত্তা যাচাই সম্পন্ন করতে হয়।

আবেদনের জন্য সাধারণত উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বা সমমানের যোগ্যতা থাকতে হয়। বিকল্প হিসেবে নির্ধারিত শর্ত পূরণকারী পেশায় কাজের অভিজ্ঞতাও দরকার হতে পারে।

আদালতের নির্দেশে নিবন্ধন আবার চালু হলে যোগ্য দেশগুলোর আবেদনকারীরা যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য নতুন সুযোগ পাবেন। তবে আবেদন জমা দেওয়ার আগে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের সরকারি ঘোষণা ও যোগ্যতার শর্ত যাচাই করা জরুরি বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

ডিবি ভিসায় কারা যেতে পারেন
এর মাধ্যমে ছয়টি ভৌগোলিক অঞ্চলে—আফ্রিকা, এশিয়া, ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা, ওশেনিয়া এবং দক্ষিণ আমেরিকা (যার মধ্যে দক্ষিণ আমেরিকা, মধ্য আমেরিকা এবং ক্যারিবিয়ান দেশসমূহ অন্তর্ভুক্ত)—ঐতিহাসিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসনের হার কম এমন নির্বাচিত দেশগুলোর অধিবাসীদের মধ্য থেকে বিশেষভাবে বাছাই করা অল্প সংখ্যক বিদেশী নাগরিককে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দা কার্ড প্রদান করা হয়।

দেশগুলোর তালিকা প্রতি বছর পরিবর্তিত হয়। প্রতি বছর, মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর বিশ্বজুড়ে অভিবাসীদের মধ্য থেকে দৈবচয়নের ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের জন্য গ্রিন কার্ড প্রদান করে। এই শ্রেণীর অভিবাসীরা ‘ডাইভারসিটি ইমিগ্র্যান্ট’ বা ‘বৈচিত্র্য অভিবাসী’ নামে পরিচিত। যুক্তরাষ্ট্রে আরও বৈচিত্র্য আনার জন্য কংগ্রেস এই ডাইভারসিটি ইমিগ্র্যান্ট ভিসা প্রোগ্রামটি চালু করেছে। প্রতি বছর ৫৫ হাজারের বেশি ডাইভারসিটি ভিসা বা ডিভি মঞ্জুর করা হয় না।

ডিবি প্রোগ্রামের জন্য বর্তমানে যারা অযোগ্য
এর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ, ব্রাজিল, কানাডা, চীন (মূল ভূখণ্ডের জন্ম), কলম্বিয়া, ডোমিনিকান রিপাবলিক , ইকুয়েডর, এল সালভাদর, হাইতি, ভারত, জ্যামাইকা, মেক্সিকো, নাইজেরিয়া, পাকিস্তান, পেরু, ফিলিপাইন, দক্ষিণ কোরিয়া, যুক্তরাজ্য (উত্তর আয়ারল্যান্ড বাদে) এবং এর নির্ভরশীল অঞ্চল এবং ভিয়েতনাম।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ