খুলনা | বৃহস্পতিবার | ২২ অক্টোবর ২০২৬ | ৬ কার্তিক ১৪৩৩

আমাদের ইউরেনিয়াম অন্য কোথাও যাবে না : ইরান

খবর প্রতিবেদন |
০৪:২৪ পি.এম | ২১ অক্টোবর ২০২৬

 

ইরান তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম তৃতীয় কোনো দেশে পাঠানোর প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে। ইরানের নিরাপত্তা প্রধান মেজর জেনারেল মোহসেন রেজায়ি পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা প্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরকে জানিয়েছেন, তেহরান কোনো পারমাণবিক উপাদান দেশের বাইরে যেতে দেবে না।

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সংঘাত অবসানের প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে পাকিস্তান প্রস্তাব করেছিল যে, তেহরান যেন তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম কিংবা তার একটি অংশ অন্য কোনো দেশে স্থানান্তর করে।

ইরানের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা সংস্থা সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মোহসেন রেজায়ি সফররত পাকিস্তানি প্রতিরক্ষা প্রধানকে বলেন, সমৃদ্ধ পারমাণবিক উপাদানের সামান্যতম অংশও ইরানের বাইরে যাবে না।

উল্লেখ্য, এই পাকিস্তানি সামরিক নেতা বর্তমানে তেহরানে অবস্থান করছেন; ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শান্তি চুক্তি সম্পাদনের মধ্যস্থতার নতুন প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেই তিনি সেখানে গেছেন।

রেজায়ি আরও বলেন, এই ধরনের উপাদান ইরানের জনগণের জন্য একটি বড় সম্পদ ও জাতীয় ঐশ্বর্য, যা দেশের ভেতরেই ব্যবহারের জন্য রাখা হয়েছে।

রেজায়ি জোর দিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যতক্ষণ না আস্থা তৈরির জন্য অর্থবহ পদক্ষেপ নিচ্ছে, ততক্ষণ তাদের সঙ্গে কোনো আলোচনা হবে না।

এই প্রক্রিয়াটি শুরু হতে হবে ইরানের শর্তাবলি পূরণের মাধ্যমে, আসিম মুনিরকে বলেছেন রেজায়ি।

ইরানের শীর্ষ মুখপাত্র ও পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এবং প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানও আসিম মুনিরের কাছে একই ধরনের মন্তব্য করেছেন।

মুনিরের সঙ্গে বৈঠকে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান যুক্তরাষ্ট্রের হুমকির মুখে আলোচনার ধারণাটি প্রত্যাখ্যান করে বলেন, মার্কিনিদের প্রথমে হুমকি ও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করতে হবে; তবেই আমরা সংলাপে বসতে পারি।

তিনি আরও বলেন, সাধারণ ইরানিরা এখন যুক্তরাষ্ট্রকে বিশ্বাস করে না। তাদের ধারণা, আমরা যদি আলোচনায় বসি, তবে তারা আমাদের ওপর আবারও হামলা চালাবে।

গালিবাফ বলেন, আমাদের নতুন করে কিছু বলার নেই; যুক্তরাষ্ট্র যতক্ষণ না সাতটি শর্ত পূরণ করছে, ততক্ষণ তারা ইরানের আস্থা অর্জন করতে পারবে না।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, হুমকি বা সামরিক মহড়া ইরানের কৌশলগত সিদ্ধান্তগুলোকে প্রভাবিত করতে পারবে না।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সংঘাত নিরসনে একটি গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তান। তবে জুন মাসে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যে যুদ্ধবিরতি হয়েছিল, তা সংঘাতের স্থায়ী সমাধানের কোনো কাঠামো তৈরি করতে ব্যর্থ হয় এবং শেষ পর্যন্ত ভেস্তে যায়। এরপর থেকে মধ্যস্থতার প্রচেষ্টা কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। সম্প্রতি জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনের ফাঁকে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে যে পরোক্ষ আলোচনা হয়েছিল, তাও কোনো কার্যকর ফলাফল আনতে ব্যর্থ হয়েছে।

ইরানের দাবি
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের সূত্রপাত হয় ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ওপর ভয়াবহ হামলা চালায়। অথচ সেই সময়েই ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে আলোচনা চলছিল।

যুদ্ধ থামানোর শর্ত হিসেবে তেহরান অন্যান্য দাবির পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যুদ্ধবিরতি, বিদেশে আটকে রাখা তাদের সম্পদ অবমুক্ত করা এবং তেল খাতের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার দাবি জানিয়েছে।

এর আগে তেহরান জানিয়েছিল যে, তারা তাদের পারমাণবিক উপাদান—যা ৬০ শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধ করা হয়েছে (যা পারমাণবিক বোমা তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় ৯০ শতাংশ মাত্রার খুব কাছাকাছি)—অন্য কোনো দেশের হাতে তুলে দেবে না। তবে তারা ইরানের ভেতরেই এই উপাদানের ঘনত্ব কমিয়ে ফেলার (ডাইলুটিং) সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিয়েছিল।

ওয়াশিংটন ও তাদের মিত্ররা ইরানের ওপর একের পর এক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। তাদের অভিযোগ, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে। অবশ্য এ অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরেই অস্বীকার করে আসছে তেহরান।
সূত্র : এএফপি, এনডিটিভি

প্রিন্ট

আরও সংবাদ