খুলনা | বৃহস্পতিবার | ২২ অক্টোবর ২০২৬ | ৬ কার্তিক ১৪৩৩

বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হলো শারদীয় দুর্গোৎসব

খবর প্রতিবেদন |
১১:৪১ পি.এম | ২১ অক্টোবর ২০২৬


আনন্দ, উচ্ছ্বাস আর বিদায়ের করুণ সুরের মধ্য দিয়ে আজ (২১ অক্টোবর) শেষ হয়েছে হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। সন্ধ্যায় প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে মর্ত্যলোক ছেড়ে স্বর্গলোকের কৈলাসে স্বামীর ঘরে ফিরে গেছেন দেবী দুর্গা।

পূজার আনুষ্ঠানিকতা অনুযায়ী, বুধবার সকালে দর্পণ বিসর্জনের মাধ্যমে দেবীকে বিদায় জানান ভক্তরা। পরে সন্ধ্যা থেকে শুরু হয় প্রতিমা বিসর্জন।

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস, মানুষের মনের কাম, ক্রোধ, হিংসা ও লালসার মতো আসুরিক প্রবৃত্তি বিসর্জন দেওয়াই বিজয়া দশমীর মূল তাৎপর্য। প্রবৃত্তি ত্যাগ করে পরস্পরের সঙ্গে ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠা করাই এ আয়োজনের প্রধান উদ্দেশ্য।

গত ১৬ অক্টোবর ষষ্ঠী তিথিতে চণ্ডীপাঠ, বোধন ও অধিবাসের মধ্য দিয়ে ‘আনন্দময়ীর’ আগমনে শারদীয় দুর্গোৎসবের সূচিত হয়। পরবর্তী পাঁচ দিন রাজধানীসহ দেশের সব পূজামণ্ডপে পূজা-অর্চনার মাধ্যমে ভক্তরা দেবী দুর্গার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। অবশেষে দশমী তিথিতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হয় এই আয়োজন।

সনাতন ধর্মের বিশ্বাস অনুযায়ী, বিসর্জনের মধ্য দিয়ে দেবী দুর্গা মর্ত্যলোক (বাবার বাড়ি) থেকে স্বর্গলোকের কৈলাসে স্বামীর ঘরে ফিরে যান। আগামী বছর শরৎকালে তিনি পুনরায় ধরণীতে ফিরে আসবেন।

খুলনা মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি প্রশান্ত কুমার কুন্ডু বলেন, খুলনায় চরেরহাট, রেলিগেট, দৌলতপুর লঞ্চ ঘাটসহ ছয়টি স্থানে প্রতিমা বিসর্জনের আয়োজন করা হয়েছে। এর মধ্যে জেলখানা ঘাটে সবচেয়ে বেশি প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়। এখানে আনুমানিক ৩০ থেকে ৩২টি প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়।

তিনি আরও বলেন, বিসর্জন নির্বিঘ্ন করতে খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি) ও খুলনা মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের যৌথ উদ্যোগে নিরাপত্তা-ব্যবস্থা, আলোকসজ্জা, মঞ্চ ও জেনারেটরের ব্যবস্থা করা হয়েছে। খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) পক্ষ থেকে স্থাপন করা হয়েছে সিসি ক্যামেরা। সব মিলিয়ে ঘাট এলাকায় ব্যাপক নিরাপত্তা-ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

বিসর্জনকে কেন্দ্র করে জেলখানা, ঘাট ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা-ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। নৌ পুলিশ, কোস্টগার্ড ও জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে নিরাপত্তাবলয় তৈরি করা হয়েছে। ভক্তদের ভিড় সামলানো ও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে ঘাট এলাকায় পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা রাখা হয়। পাশাপাশি মোতায়েন করা হয় ফায়ার সার্ভিসের বিশেষ দল।

এ বছর খুলনা জেলায় ৮৮৭টি এবং খুলনা মহানগরে ৭৬টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা উদযাপিত হয়েছে। মহানগরে ছয়টি ঘাটে প্রতিমা বিসর্জনের আয়োজন করা হয়েছে।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ