খুলনা | বৃহস্পতিবার | ২২ অক্টোবর ২০২৬ | ৬ কার্তিক ১৪৩৩

প্রাথমিক শিক্ষা সংস্কারে কার্যকর পদক্ষেপ জরুরি

|
১২:০৭ এ.এম | ২২ অক্টোবর ২০২৬


প্রাথমিক শিক্ষা একটি জাতি গঠনের প্রথম ও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। শিশুদের মেধা, নৈতিকতা, সামাজিক মূল্যবোধ ও চিন্তাশক্তির প্রথম বিকাশ ঘটে এই প্রাথমিক শিক্ষা স্তরেই। দুঃখজনক হলেও সত্যি যে দেশে এখন পর্যন্ত আমরা যুগোপযোগী প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারিনি। এই পর্যায়ে বেশ কিছু বড় অসংগতি রয়ে গেছে, যার অবসান হওয়া অপরিহার্য।
দেশের প্রাথমিক শিক্ষা খাত নানা সমস্যায় জর্জরিত। কাঠামোগত ও গুণগত উভয় ধরনের সংকট বিদ্যমান।বিভিন্ন গবেষণা প্রতিবেদনে দেখা যায়, বড় ধরনের শিখন ঘাটতি রয়েছে। বিশ্বব্যাংকের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়, ১০ বছর বয়সী শিশু শিক্ষার্থীদের ৫১ শতাংশই তাদের বয়স উপযোগী সাধারণ বাংলা ও ইংরেজি পড়তে ও বুঝতে পারে না। শিক্ষার্থীরা মৌলিক ভাষা ও গাণিতিক দক্ষতা অর্জন করতে পারছে না। এর কারণগুলো আমাদের অজানা নয়-তীব্র শিক্ষকসংকট, প্রতিকূল শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাত, মাঠ পর্যায়ে দুর্বল তদারকি।অনেক প্রান্তিক অঞ্চলের বিদ্যালয়ে জরাজীর্ণ ভবন, খেলার মাঠ এবং প্রযুক্তিগত সুবিধা নেই বললেই চলে। মাঠ পর্যায়ে নানা অনিয়মের অভিযোগও প্রায়ই দেখা যায়।
এমন বাস্তবতায় বর্তমান সরকার প্রাথমিক শিক্ষা সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে। গতকাল কালের কণ্ঠে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, গত সোমবার রাজধানীতে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর ও ইউনিসেফের যৌথ আয়োজনে ‘ফ্রম দ্য ফিল্ড টু রিফর্ম : অ্যাডভান্সিং প্রাইমারি এডুকেশন ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক জাতীয় সংলাপ ও অভিজ্ঞতা বিনিময় কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন ও কাক্সিক্ষত সংস্কার বাস্তবায়নে কারিকুলাম, শিক্ষক, মনিটরিং, অবকাঠামো ও প্রযুক্তি-এই পাঁচটি বিষয়কে অগ্রাধিকার দিয়ে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
তিনি মনে করেন, প্রাথমিক শিক্ষার প্রতিটি ক্ষেত্র একে অন্যের সঙ্গে নিবিড়ভাবে সম্পর্কিত। একটি ক্ষেত্রে উন্নয়ন ঘটিয়ে অন্য ক্ষেত্রগুলোকে উপেক্ষা করলে কাক্সিক্ষত সাফল্য অর্জন সম্ভব নয়। তাই মাঠ পর্যায়ের বাস্তবতা ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতামতের ভিত্তিতে সমন্বিত সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নিতে হবে। প্রতিমন্ত্রী বলেন, ২০২৮ সালে নতুন কারিকুলাম চালুর লক্ষে শিখনফলভিত্তিক ও শিশুবান্ধব শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলা হচ্ছে।
মনে রাখা দরকার, প্রাথমিক শিক্ষার ভিত্তি যদি নড়বড়ে হয়, তবে উচ্চশিক্ষা বা পেশাগত জীবনে তার খেসারত দিতে হয় জাতিকে। তাই প্রাথমিক শিক্ষা সংস্কারে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। সব ধরনের আমলাতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক প্রভাবের ঊর্ধ্বে উঠে প্রাথমিক শিক্ষাকে প্রকৃত অর্থেই শিশুবান্ধব, বৈষম্যহীন ও মানসম্মত করে গড়ে তোলা হোক-এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ