খুলনা | শুক্রবার | ২৩ অক্টোবর ২০২৬ | ৭ কার্তিক ১৪৩৩

ঘুরে গেলেন প্রধানমন্ত্রী, অর্থনৈতিক বিপ্লবের আশা ব্যবসায়ী ও স্থানীয়দের

এস এস সোহান ও মাহমুদ হাসান |
০৬:৫৩ পি.এম | ২২ অক্টোবর ২০২৬


খুলনার দাকোপের নলীয়ান, বাগেরহাটের মোংলা বন্দরে জেটি ও ইকোনমিক জোন এলাকায় দিনভর ছিল উৎসবের রঙে রঙিন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মোংলা সমুদ্র বন্দরের হিরোনপয়েন্টে এলএমজি স্টেশন ও ইকোনমিক জোন সফরকে কেন্দ্র করে বন্দরের পশুর নদী সুন্দরবন ঘেঁষা পুরো উপকূলীয় অঞ্চলে সৃষ্টি হয়েছে এক অভূতপূর্ব জাগরণ।
বৃহস্পতিবার দিনব্যাপী এ সফর এবং সরেজমিন পরিদর্শনের মধ্যদিয়ে মোংলা বন্দর, প্রস্তাবিত ইকোনমিক জোন ও উপকূলীয় জনপদের দীর্ঘদিনের কাক্সিক্ষত উন্নয়ন বাস্তবে রূপ নেওয়ার এক নতুন সম্ভাবনার দুয়ার উন্মোচিত হলো। 
গতকাল সকালে ঢাকার তেজগাঁও বিমানবন্দর থেকে হেলিকপ্টারযোগে রওয়ানা হয়ে সুন্দরবন ও হিরণ পয়েন্টের অপার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আকাশপথে পর্যবেক্ষণ করেন প্রধানমন্ত্রী। প্রাকৃতিক সম্পদের অপার সম্ভাবনা ও উপক‚লীয় সুরক্ষার দিকটি প্রত্যক্ষ করে তিনি অবলোকন করেন রূপসী বাংলার রূপ। এরপর সকাল সাড়ে ১০টার দিকে খুলনার দাকোপ উপজেলার নলিয়ান মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে অবতরণ করেন প্রধানমন্ত্রী। নলিয়ান এলাকা পরিদর্শন শেষে নলিয়ানঘাট থেকে নৌপথে মোংলার নৌবাহিনীর দ্বিগরাজ ঘাঁটিতে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। দুপুরে নৌঘাঁটির জেটি এলাকায় পৌঁছে নির্ধারিত কর্মসূচিতে অংশ নেন এবং ওয়ার্করুমের সভাকক্ষে এক গুরুত্বপূর্ণ পর্যালোচনামূলক সভায় যোগ দেন তিনি। সেখানে বন্দরের সামগ্রিক দক্ষতা বৃদ্ধি ও উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়। 
সভা শেষে বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে প্রধানমন্ত্রী মোংলা বন্দরের জেটি, সার্বিক কার্যক্রম ও বিদ্যমান অবকাঠামো ঘুরে দেখেন। পরবর্তীতে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) প্রস্তাবিত মোংলা অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রত্যক্ষ করেন তিনি। পরিদর্শন শেষে বিকেল পৌনে ৫টায় মোংলা ত্যাগ করে হেলিকপ্টারে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হন দেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
এর আগে সকালে হেলিকপ্টারযোগে সুন্দরবন পরিদর্শন শেষে বেলা সাড়ে ১০টায় খুলনার দাকোপ উপজেলার নলিয়ান মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে নামেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পরে নৌপথে বানৌজা মোংলায় পৌঁছান তিনি। সেখানে ওয়াডরুমে নৌবাহিনী, মোংলা বন্দর ও স্থানীয় প্রশাসনের সাথে মতবিনিময় করেন।
এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ, অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, বন, পরিবেশ ও জলবায়ু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, খুলনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের হুইপ রকিবুল ইসলাম বকুল এবং খুলনা-১ আসনের সংসদ সদস্য আমীর এজাজ খান, খুলনা বিভাগীয় কমিশনার মোঃ আব্দুল্লাহ হারুন, মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল আরিফ আহমেদ মোস্তফা, বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মোঃ বাতেন, পুলিশ সুপার মোঃ জামিরুল ইসলামসহ নৌবাহিনী, কোস্টগার্ডের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। 
সভা ও মধ্যাহ্ন ভোজ শেষে বিকেলে মোংলা বন্দর জেটিতে আসেন প্রধানমন্ত্রী। জেটি পরিদর্শন শেষে প্রস্তাবিত বেজা ইকনোমিক জোন এলাকার উদ্দেশ্য রওনা দেন প্রধানমন্ত্রী।
মাঝপথে সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা নেতাকর্মীদের সাথে কুশল বিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পরে প্রধানমন্ত্রীর সান্নিধ্য পেয়ে খুশি নেতাকর্মী ও স্থানীয়রা।
স্থানীয় কালাম শেখ নামের এক ব্যক্তি বলেন, গাড়ি থেকে নেমেই প্রধানমন্ত্রী আমার সাথে হাত মিলিয়েছেন। ভিড়ের মধ্যে আরও একবার হাত মিলানোর সুযোগ পেয়েছি। প্রধানমন্ত্রীর সাথে হাত মিলানোর এমন সুযোগ জীবনে হয়তো আর আসবেনা। আমি অনেক খুশি।
রবিউল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি বলেন, একজন প্রধানমন্ত্রী এত সাদাসিধে জীবন যাপন করতে পারে, তা তারেক রহমানকে না দেখলে বুঝতাম না। গাড়ি  থেকে নামলেন নিজে এসেই সাধারণ মানুষের সাথে হাত মেলালেন। আমরা খুব খুশি হয়েছি। দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকা সার্থক হয়েছে।
পরে দীর্ঘ সময় ধরে  প্রস্তাবিত বেজা ইকনোমিক জোন এলাকা ঘুরে দেখেন প্রধান। স্বাধীনতার পর প্রথমবারের মত বাগেরহাটের মোংলা বন্দর সফর করলেন কোন প্রধানমন্ত্রী। পুরো সফর জুরে সাধারণ মানুষের উচ্ছ¡াস ছিল চোখে পড়ার মত। সরকার প্রধানের এই সফর যতটা না রাজনৈতিক, এই অঞ্চলের মানুষের কাছে তার থেকে বেশি অর্থনৈতিক।
সরকার প্রধানের গুরুত্বপূর্ণ এ সফরের ফলে মংলা বন্দরসহ দক্ষিণ পশ্চিম অঞ্চলের অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে মনে করেন স্থানীয় বাসিন্দা ও মোংলা বন্দর সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।
ব্যবসায়ী ফিরোজ আহমেদ বলেন, প্রধানমন্ত্রীর আগমন মানেই উন্নয়ন। আমরাও বিশ্বাস করি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই ছফর আমাদের এই অঞ্চলের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করবে। প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পরে তিনি চায়নার সাথে মোংলা বন্দর স¤প্রসারণ ও আধুনিকায়নের জন্য আর চুক্তি করেছে। এই চুক্তির বাস্তবায়ন হলে মোংলা বন্দরের যেমন স¤প্রসারণ হবে আর এই অঞ্চলেরও ব্যবসা-বাণিজ্যে গতি ফিরবে বলে মনে করেন তিনি।
হেমায়েত উদ্দিন নামের এক ব্যবসায়ী বলেন, দক্ষিণ পশ্চিম অঞ্চল ও মোংলা দীর্ঘদিন থেকে অবহেলিত। ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক উন্নতির প্রধান শর্ত অব কাঠামোর উন্নয়ন। প্রধানমন্ত্রীর এই ছফর অবঘন উন্নয়নে ব্যাপক ভূমিকা রাখবে। আমরা বিশ্বাস করি নতুন অর্থনৈতিক জন চালু হলে মংলায় বিপুল পরিমাণ মানুষের কর্মসংস্থান হবে। পাশাপাশি এলএনজি টার্মিনাল যখন চালু হবে তখন এই অঞ্চলে ব্যবসা-বাণিজ্য স¤প্রসারণ অনেক সহজ হবে।
বিএনপি নেতা হাফিজুর রহমান তুহিন বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মোংলা বন্দর জেটি, সুন্দরবনের আকরাম পয়েন্ট এলাকায় প্রস্তাবিত এলএনজি টার্মিনাল ও প্রস্তাবিত নতুন অর্থনৈতিক অঞ্চলের নির্ধারিত স্থান পরিদর্শন করেছেন।  প্রধানমন্ত্রীর এই পরিদর্শনের মধ্য দিয়ে অসম্পূর্ণ জেটি নির্মাণ, ড্রেজিংসহ যেসব প্রকল্প থমকে আছে দ্রুততম সময়ের মধ্যে তা সম্পন্ন হবে।  প্রস্তাবিত এলএনজি স্টেশন ও অর্থনৈতিক অঞ্চল এই দুই মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে এই এলাকার ব্যবসা বাণিজ্যে গতি ফিরবে, পাশাপাশি দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে বিপুল পরিমান মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।
মোংলা বন্দর বার্থ ও শিপ অপরেটর এ্যাসোসিয়েশন সাধারণ সম্পাদক মোঃ জুলফিকর আলী বলেন, মোংলা বন্দরের যে বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর আগম সেই সম্ভাবনাকে আরও তরান্বিত করবে। আমরা বিশ্বাস করি প্রস্তাবিত নতুন অর্থনৈতিক অঞ্চল ও এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ-ফ্লোটিং স্টোরেজ এন্ড রিগ্যাসিফিকেশন ইউনিট) নির্মানের মধ্য দিয়ে এই এলাকার ব্যবসা বানিজ্য স¤প্রসারণ হবে। এতে করে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনীতিতে ইতিচাবক প্রভাব পরবে।
অন্যদিকে মোংলা বন্দর দিয়ে আমদানিকৃত সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ পণ্য রিকনডিশন গাড়ি আমদানি কারকদের সংগঠন বারবিডা সভাপতি আব্দুল হক বলেন, রিকনডিশন গাড়ি আমদানি করেই মোংলা বন্দরে সব থেকে বেশি রাজস্ব আয় হয়। আমদানির ক্ষেত্রে বারবিডা  বৈষ্যমের শিকার হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর এই আগমনে  বৈষম্য নিরসনে ভূমিকা রাখবে বলে মনে করেন এই ব্যবসায়ী নেতা।
বাগেরহাট চেম্বার অব কমার্স এ্যান্ড ইন্ডাষ্ট্রির সভাপতি শেখ সাহেদ আলী রবি বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরের উপর চাপ কমাতে হলে, মোংলা বন্দরের সক্ষমতা অবশ্যই বাড়াতে হবে। আর সেজন্য মোংলা বন্দর চ্যানেলের নাব্যতা বৃদ্ধিতে ড্রেজিংয়ের পাশাপাশি ব্যবসা বাণিজ্যের স¤প্রসারণে মোংলা কাস্টোমস হাউস ও শুল্কো বিভাগকে  আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। প্রধানমন্ত্রীর এই আগমন এসব উদ্যোগকে আরও বেশি ত্বরান্বিত করবে বলে জানান এই ব্যবসায়ী নেতা।
প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে ঘিরে রাজনৈতিক নেতারা ইতিবাচক স্বপ্ন দেখছেন। এ সফরকে ঘিরে মোংলা বন্দর ও প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক অঞ্চল রূপ নেয় হাজারো মানুষের জনসমুদ্রে। 
মোংলা পোর্ট পৌরসভার সাবেক মেয়র ও বিএনপি মোংলা পৌর শাখার সভাপতি মোঃ জুলফিকার আলী এবং মোংলা উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি আব্দুল মান্নান হাওলাদার, সাধারণ সম্পাদক আবু হোসেন পনি, মাহবুবুর রহমান মানিকের নেতৃত্বে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ও সাধারণ জনগণ বন্দর এলাকায় সমবেত হন। প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে পুরো এলাকা করতালিতে মুখরিত হয়ে ওঠে। রাজনৈতিক নেতাকর্মী থেকে শুরু করে সাধারণ মেহনতি মানুষের উল্লাসে মোংলা বন্দর ও ইকোনমিক জোন এলাকা প্রকম্পিত হয়ে ওঠে, যা স্পষ্ট করে তোলে এই অঞ্চলের মানুষের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর আগমন নিয়ে কতটা উচ্ছ¡াসা উদ্দীপনা তৈরি হয়েছিল। 
পরিবেশ বন জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, এ অঞ্চলের সার্বিক অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ও সাধারণ মানুষের ভাগ্যোন্নয়ন নিশ্চিত করতে হলে শিল্পায়নের কোনো বিকল্প নেই। প্রধানমন্ত্রী মোংলা বন্দরের আধুনিকায়ন, বেজা অর্থনৈতিক অঞ্চলের কার্যক্রম এবং সুন্দরবনের পরিবেশগত বিষয় ও পর্যটন সম্ভাবনার ওপর সরাসরি নজর দিতেই এখানে সফর করেছেন। আমরা বিশ্বাস করি, এই ঐতিহাসিক পরিদর্শনের ফলে মোংলা বন্দর, ইকোনমিক জোন, ইপিজেড এবং সমগ্র শিল্পাঞ্চলের বাণিজ্যিক সক্ষমতা বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে। 
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বন্দরের অবকাঠামোগত আধুনিকায়ন ও পণ্য খালাস প্রক্রিয়া আরও দ্রæত ও গতিশীল হবে। মোংলা নদীর ওপর সেতু নির্মাণসহ স্থানীয় সড়ক ও আঞ্চলিক যোগাযোগ ব্যবস্থার দীর্ঘদিনের দাবিগুলো প্রধানমন্ত্রীর নজরে আনা সহজ হলো। সর্বোপরি, প্রধানমন্ত্রীর গতিশীল নেতৃত্বের মাধ্যমে মোংলা বন্দরকে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক হাব এবং দেশের দক্ষিণাঞ্চলকে বাণিজ্যের প্রাণকেন্দ্রে পরিণত করার প্রক্রিয়া আরও ত্বরান্বিত হবে।
এদিকে প্রধানমন্ত্রীর আগমন ঘিরে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিতসহ সব ধরনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা ছিল। যেসব এলাকায় প্রধানমন্ত্রী পরিদর্শন করবেন সেসব এলাকায় অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি পিজিআর সদস্য মোতায়েন ছিল। এছাড়াও সাদা পোশাকে গোয়েন্দা তৎপরতা, এসআরবি, নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড ও পুলিশ সদস্যরা নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করেছেন।
প্রধানমন্ত্রীর সফরকে সামনে রেখে স্থানীয় অবকাঠামোতে ত্বরান্বিত হয়েছে উন্নয়নের ছোঁয়া। দীর্ঘদিনের জরাজীর্ণ ও ভাঙাচোরা মোংলার দিগরাজ থেকে মোংলা বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত প্রায় ৫ কিলোমিটার সড়ক রেকর্ড সময়ে দৃষ্টিনন্দনভাবে সংস্কার করা হয়। এতে সড়কটিতে আসা-যাওয়াকারী লাখো মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান ঘটে তৈরি হয়েছে বড় স্বস্তি। এছাড়া মোংলা বন্দরের জেটি, নৌযান ও প্রধান প্রধান স্থাপনাগুলো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও সুসজ্জিত করে এক নতুন রূপ দেওয়া হয়, নতুন রুপে সাজিয়েছিল পুরো বন্দরটিকে।
সব মিলিয়ে, প্রধানমন্ত্রীর এই ঐতিহাসিক সফর শুধু একটি প্রাতিষ্ঠানিক ভিজিট ছিল না, এটি ছিল উপক‚লীয় মানুষের আস্থা ও ভালোবাসার এক নতুন স্মারক। মোংলা বন্দরকে কেন্দ্র করে যে বিশাল অর্থনৈতিক হাব গড়ে তোলার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, তা জাতীয় প্রবৃদ্ধিতে এক নতুন মাত্রা যোগ হলো। পশুর নদীর অববাহিকায় অবহেলিত জীবনের বদলে এক স্বাবলম্বী ও উন্নত ভবিষ্যতের যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে, তা বাস্তবায়নের দিকেই এখন ব্যাকুল আগ্রহে তাকিয়ে আছে মোংলা ও উপকূলের সর্বস্তরের জনগণ।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ