খুলনা | শুক্রবার | ২৩ অক্টোবর ২০২৬ | ৮ কার্তিক ১৪৩৩

সাতক্ষীরায় লংমার্চ প্রস্তুতি সভায় এমপি আব্দুল খালেক

সরকার গণভোটের গণরায় না মেনে জনগণের সঙ্গে চরম বিশ্বাসঘাতকতা করেছে

নিজস্ব প্রতিবেদক, সাতক্ষীরা |
১১:৫২ পি.এম | ২২ অক্টোবর ২০২৬


বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাতক্ষীরা-২ আসনের সংসদ সদস্য মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক বলেছেন, সরকার গণভোটের গণরায় না মেনে জনগণের সঙ্গে চরম বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। রায় উপেক্ষা করে তারা একদলীয় শাসন প্রতিষ্ঠা করতে চাচ্ছে। তবে ইতিহাস সাক্ষী, যেভাবে  স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা এ দেশ থেকে বিতাড়িত হয়েছেন, ঠিক তেমনি এই সরকারও জনগণের রায়কে তুচ্ছ করে ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারবে না।
আগামী ৩১ অক্টোবরের লংমার্চ সফল করার লক্ষ্যে বৃহস্পতিবার সাতক্ষীরার আল-আমিন ট্রাস্টের মিলনায়তনে পৌর ও সদর উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে আয়োজিত এক প্রস্তুতি সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক বলেন,  তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছেছে। সাতক্ষীরাসহ সারা দেশে সরকারি বিভিন্ন কার্যক্রম একদলীয়ভাবে পরিচালিত হচ্ছে। সাতক্ষীরা জেলার ৭৮টি ইউনিয়ন ও তিনটি পৌরসভায় দলীয় বিবেচনায় সারের ডিলার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এ নিয়োগকে কেন্দ্র করে কোটি কোটি টাকার লুটপাটের খবর গণমাধ্যমে উঠে এসেছে। জেলার বিভিন্ন কমিটিতে স্থানীয় সংসদ সদস্যদের উপেক্ষা করে শুধু দলীয় লোকজনকে স্থান দেওয়া হচ্ছে।
সরকারের বিভিন্ন কর্মকান্ডের তীব্র সমালোচনা করে তিনি বলেন, গত সাত-আট মাসে বিরোধী দল গণরায় বাস্তবায়নের দাবিতে দু’টি লংমার্চসহ নানা কর্মসূচি পালন করেছে। এ সময়ে সারের সংকট তৈরি হয়েছে, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য বেড়েছে এবং খুন-ধর্ষণের ঘটনা সীমা ছাড়িয়ে গেছে। দলীয়করণের মাধ্যমে সিটি কর্পোরেশন, জেলা পরিষদসহ বিভিন্ন স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান ও সরকারি পদে বেছে বেছে ছাত্রদল, যুবদল ও বিএনপি’র লোকজনকে বসানো হয়েছে। এখন প্রশ্ন উঠেছে, বিএনপি সরকার কি জনগণের সরকার, নাকি বিএনপি’র দলীয় সরকার?
সরকারের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, এখনো সময় আছে। সংসদে বিরোধী দলের সঙ্গে আলোচনা করে সংবিধান সংস্কারের যে প্রস্তাব জাতীয় ঐকমত্য কমিশনে গৃহীত হয়েছিল, তা অবিলম্বে বাস্তবায়ন করুন। জুলাই সনদের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, গণভোটে দেশের ৭০ শতাংশ মানুষ ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়ে ৮৪টি ঐকমত্যের বিষয়ে সমর্থন জানিয়েছে। এর মাধ্যমে বিএনপি’র সব ‘নোট অব ডিসেন্ট’ খারিজ হয়ে গেছে বলে তিনি দাবি করেন। তাঁর ভাষ্য, গণভোট ও জুলাই সনদের রায় প্রত্যাখ্যান করার অর্থ হলো জুলাই বিপ্লবের চেতনাকে ধারণ না করা।
সরকারকে হুঁশিয়ার করে তিনি অরো বলেন, দেশকে অরাজকতা ও অস্থিরতার দিকে ঠেলে দেবেন না। বিরোধী দলগুলো ঐক্যবদ্ধ থেকে যদি ৭০ শতাংশ মানুষের রায় মেনে নেওয়া হতো, তাহলে আওয়ামী লীগ কখনোই মাথাচাড়া দিয়ে ওঠার সুযোগ পেত না। আপনাদের ভুল রাজনীতির কারণেই আওয়ামী লীগ আবারও ফিরে আসার পথ পাচ্ছে। বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে তিনি আগামী ৩১ অক্টোবর ঢাকা-খুলনা-যশোর-ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়া রুটে অনুষ্ঠিতব্য তৃতীয় দফার লংমার্চ সফল করার জন্য সবার প্রতি আহŸান জানান।
সাতক্ষীরা সদর উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা মোশাররফ হোসেনের সভাপতিত্বে এবং পৌর জামায়াতের আমির জাহিদুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত প্রস্তুতি সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, জেলা কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা শাহাদাত হোসেন, পৌর জামায়াতের সেক্রেটারি খোরশেদ আলম, সদর উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা হাবিবুর রহমানসহ বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্বশীল নেতারা। সভায় সদর ও পৌর জামায়াতের রোকনরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ