খুলনা | শুক্রবার | ২৩ অক্টোবর ২০২৬ | ৭ কার্তিক ১৪৩৩

খুলনায় ১৪ ঘণ্টার ব্যবধানে গুলিতে নিহত ২

নিজস্ব প্রতিবেদক |
১২:৩৮ এ.এম | ২৩ অক্টোবর ২০২৬


খুলনা নগরীতে এক দিনে দুইজন খুন হয়েছেন। বৃহস্পতিবার ভোরে সদর থানার পূর্ব বানিয়াখামার মিস্ত্রিপাড়া এবং বিকালে লবণচরা থানার জিন্নাহপাড়া এলাকায় এ দুটি খুনের ঘটনা ঘটে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

মায়ের সামনে মেয়েকে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা
নগরীর জিন্নাহপাড়া এলাকায় রিকশা থেকে নামার পরই মায়ের সাথে কথা বলার সময় এক তরুণী গৃহবধূকে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে নগরীর জিন্নাপাড়া বউবাজারের সাত নম্বর গলিতে এ ঘটনা ঘটে। নিহত খুশি বেগম (২৪) ওই এলাকার খোকন শেখের মেয়ে। তার স্বামীর নাম সুমন সরদার।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার সময় খুশি মায়ের সঙ্গে দাঁড়িয়ে কথা বলছিলেন। এ সময় মিরাজ নামে এক যুবক এসে তার মাকে সালাম দিয়ে কথা বলা শুরু করেন। কথা বলার একপর্যায়ে তিনি পিস্তল বের করে খুশির মাথায় ও শরীরে গুলি করেন বলে জানা গেছে। পরে পরিবারের সদস্য ও প্রত্যক্ষদর্শীরা খুশিকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। অভিযুক্ত মিরাজের পূর্ণাঙ্গ পরিচয় জানাতে পারেনি পুলিশ।

খুশির মা বলেন, ‘সন্ধ্যায় বাজার করা শেষে রিকশায় করে মেয়েকে নিয়ে বাসার গলির মাথায় নামি। এ সময় খুশি আমার আগে রিকশা থেকে নামে। হঠাৎ মোটরসাইকেল নিয়ে দুই ব্যক্তি কাছাকাছি এসে স্বামীর কথা খুশির কাছে জানতে চায়। তখন খুশি বলেছিল কোথায় গিয়েছে, জানি না। এ অবস্থায় অস্ত্র বের করে তাদের একজন আমার সামনে খুশিকে গুলি করে এবং আরেকজন কুপিয়ে হত্যা করে চলে যায়। পরে শুনেছি তারা আশিক গ্র“পের লোকজন। কেন তারা আমার মেয়েকে এভাবে হত্যা করেছে, তা জানি না। আমি হত্যায় জড়িতদের বিচার চাই।’

লবণচরা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সৈয়দ মোশারেফ হোসেন জানান, মাদকসংক্রান্ত বিরোধের জেরে জিন্নাপাড়ার সড়কে দুর্বৃত্তরা খুশিকে গুলি ও কুপিয়ে জখম করে। পরে তাকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। 

তিনি আরও জানান, নিহতের স্বামী সুমন সরদার ‘ব্লেড বাবু’ নামে পরিচিত। তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে মাদক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে। ঘটনার পরপরই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। হত্যাকাণ্ডে কারা জড়িত, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে জানান ওসি।

নগরীতে যুবককে গুলি করে হত্যা, পলাশ গ্র“পের সদস্য পুলিশের দাবি
অপরদিকে বৃহস্পতিবার ভোর রাত সাড়ে ৫টার দিকে নগরীর মিস্ত্রিপাড়া বাজার সংলগ্ন আনসার উদ্দিন লেনে তুষার (৩২) নামের এক যুবককে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। পরে ঘটনাস্থল থেকে তার মরদেহ উদ্ধারের পর খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করে পুলিশ। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ একটি মোটরসাইকেল ও কিছুদূর থেকে গুলির দু’টি খোসা উদ্ধার করে। এ ঘটনার পর থেকে এলাকার মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। তুষার নগরীর লবণচরা থানার জিন্নাপাড়া এলাকার ৮ নম্বর গলির বাসিন্দা। তার বাবার নাম আব্দুর রাজ্জাক।

পুলিশের দাবি, নিহত তুষার সন্ত্রাসী পলাশ গ্র“পের সদস্য ছিলেন। তার বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে ও হত্যা-সংক্রান্ত মামলা রয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, ভোর সাড়ে ৫টার দিকে নগরীর পূর্ব বানিয়াখামার খাদেমুল উলুম মাদ্রাসা সংলগ্ন আনসার উদ্দিন লেনে কয়েকজন যুবকের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়। এসময় দুর্বৃত্তরা অস্ত্র বের করে গুলি করলে তুষারের পিঠে একটি গুলি বিদ্ধ হয়। ঘটনাস্থলে তার মৃত্যু হয়। পরবর্তীতে সদর থানা পুলিশকে খবর দেওয়া হলে লাশ উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে। তার মরদেহের পাশে রেজিস্ট্রেশনবিহীন কালো রঙের একটি আর-১৫ মোটরসাইকেল ছিল।

পুলিশের ভাষ্য, দুর্বৃত্তরা তুষারকে লক্ষ্য করে তিনটি গুলি ছোড়ে। এতে তার পিঠে গুলি লাগে। পরে তিনি মোটরসাইকেলসহ সড়কে পড়ে মারা যান।

খুলনা থানার এসআই মোঃ শাহ আলম বলেন, নিহত যুবক কারাগারে আটক খুলনার শীর্ষ সন্ত্রাসী পলাশ গ্র“পের সক্রিয় সদস্য। প্রতিপক্ষ গ্র“পের গুলিতে তার মৃত্যু হয়েছে।

খুলনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ লোকমান হোসেন রিপন বলেন, হত্যাকারীদের শনাক্ত করা গেছে। তাদের গ্রেফতারে অভিযান শুরু করেছে পুলিশ। নিহত তুষারের বিরুদ্ধে অন্তত দু’টি মামলার তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে একটি অস্ত্র আইনে এবং অন্যটি হত্যা মামলা। তিনি পলাশ গ্র“পের সদস্য ছিলেন বলেও দাবি করেন ওসি।

জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত খুলনা জেলা ও মহানগরীতে মোট ৭৮টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে খুলনা মহানগরীর আট থানা এলাকায় ৪২টি এবং জেলার নয় থানা এলাকায় ৩৬টি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ