খুলনা | শুক্রবার | ২৩ অক্টোবর ২০২৬ | ৭ কার্তিক ১৪৩৩

উৎসব মুখর ছিল উপকূলীয় উপজেলার জনপদ

হাফ কিলোমিটার রাস্তা পায়ে হেঁটে নলিয়ান কোস্ট গার্ডের পন্টুনে তারেক রহমান

মোজাফ্ফর হোসেন, দাকোপ |
০১:১৫ এ.এম | ২৩ অক্টোবর ২০২৬


প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আগমনে উৎসবমুখর ছিলো সমুদ্র উপকলীয় ও ঐতিহ্যবাহী ম্যানগোভ সুন্দরবন সংলগ্ন খুলনার দাকোপ উপজেলার ওজোপাড়া গাঁও গোটা নলিয়ান গ্রাম।  বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টা ২৯ মিনিটে প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী হেলিকপ্টার দাকোপের নলিয়ান মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মাঠে অবতরণ করে। সেখান থেকে প্রায় হাফ কিলোমিটার রাস্তা প্রধানমন্ত্রী পায়ে হেঁটে নলিয়ান কোস্টগার্ডের পন্টুনে আসেন তিনি। সরকার প্রধানের আগমন ঘিরে দুর্গম এ উপকূলীয় উপজেলার জনপদে এক অন্যরকম উৎসব মুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়। আগমনের পথের রাস্তার দুইপাশে দাঁড়িয়ে থাকা বিএনপি’র দলীয় বিভিন্ন পর্যায়ের তৃণমূল নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার প্রায় অর্ধলক্ষাধিক মানুষ করোতালি ও নানা স্লোগানের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানাতে থাকেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী রাস্তার দু’পাশে দাঁড়িয়ে থাকা অনেকেরই সাথে তিনি হাতে হাত মিলিয়ে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। তখন প্রতিটি মানুষের মধ্যে দেখা দেয় অন্যরকম আনন্দ আর উৎসবের আমেজ, যেন কেউর থেকে কেউর ভিতরে এ আমেজের বিন্দুমাত্র কমতি ছিলো না। এ আনন্দঘন পরিবেশের সময় প্রধানমন্ত্রীর পাশে ছিলেন খুলনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের হুইপ রকিবুল ইসলাম বকুল এবং খুলনা-১ আসনের সংসদ সদস্য আমীর এজাজ খানসহ জেলার বিভিন্ন এলাকার সংসদ সদস্য ও বিএনপি দলীয় নেতৃবৃন্দ।
এই প্রথম কোন ওজোপাড়া গাঁয়ের সুন্দরবন সংলগ্ন দাকোপ উপজেলার নলিয়ানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আকস্মিক সফরকে কেন্দ্র করে নলিয়ান লঞ্চঘাট থেকে শুরু করে নলিয়ান মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মাঠের হেলিপ্যাড পর্যন্ত সাজানো হয়ে ছিলো অন্যরুপে। 
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এ সফরকে প্রাণবন্ত করতে অত্র জেলা ও উপজেলাসহ পাশর্^বর্তী বিভিন্ন জেলার উপজেলা থেকে বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ ও বিএনপি দলীয় নেতাকর্মীরা কাকডাকা ভোর থেকে শুরু করে নলিয়ান গ্রামে জড়ো হতে থাকে। ঘড়ির কাটা যখন সাড়ে ৯ পৌঁছায় তখন নলিয়ান গ্রাম ও তার পাশর্^বর্তী এলাকায় প্রায় লক্ষাধিক মানুষের অনাগোনা চোখে পড়ে। এদের মধ্যে কারো কারো হাতে থাকা প্লাকাডে লেখা ছিলো আমরা উপকূলীয় দাকোপ উপজেলাবাসী বাঁচার মত বাঁচতে চাই, দুর্যোগ সহনশীল যুগোপযোগী টেকসই বাঁধ নির্মাণ দেখকে চাই, পানখালী-বরণপাড়ার ঝঁপঝপিয়া নদী, পোদ্দারগঞ্জের চুনকুড়ি নদী ও বটবুনিয়ার ঢাকী নদীর ওপর সেতু নির্মাণ দেখতে চাই, নলিয়ানে পর্যটন কেন্দ্র স্থাপন দেখতে চাই, খুলনার গল্লামারী-বটিয়াঘাটা হয়ে নলিয়ান ও কালাবগী পর্যন্ত মহাসড়ক চাই, সুপেয় খাবার পানির নিশ্চয়তা চাইসহ নানা চাওয়া-পাওয়ার লিফলেট চোখে পড়ে। কেউ কেউ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে স্ব-চোখে দেখার জন্য এবং প্রধানমন্ত্রীর আগমনের পথে তার হাতে হাত মেলাতে অধীর আগ্রহে ছিলেন। 
প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে নলিয়ানের প্রতিটি স্থানে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের ছিলো নিñিদ্র নিরাপত্তা বলায়। নলিয়ান মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মাঠ  ও আশাপাশ এলাকায় পুলিশি টহল জোরদার করা হয়। প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্ট (পিজিআর), নৌ-বাহিনী, কোস্টগার্ডসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সতর্ক অবস্থানে রাখা হয়। হেলিকপ্টার অবরতরণের স্থানে ডগ স্কোয়াড দিয়েও তল্লাশী চালানো হয়। সরকারি সফর হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সকালে হেলিকপ্টারে সুন্দরবনের হিরণ পয়েন্ট ও সংলগ্ন এলাকা পরিদর্শনের পর নলিয়ানে অবতরণ করেন। সেখান থেকে নৌপথে মোংলার নৌঘাঁটির উদ্দেশ্য যাত্রা করেন তিনি।   
এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সফর সঙ্গী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্টমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহম্মেদ, অর্থ মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, খুলনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের হুইপ রকিবুল ইসলাম বকুল এবং খুলনা-১ আসনের সদস্য আমীর এজাজ খান। এ ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন খুলনা বিভাগীয় কমিশনার মোঃ আব্দুল্লাহ হারুন, জেলা প্রশাসক মিজ হুরে জান্নাত, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ বোরহান উদ্দিন মিঠু, দাকোপ থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ আব্দুল্লাহ আল মামুনসহ সরকারের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। 
স্থানীয় সংসদ সদস্য আমীর এজাজ খান বলেন, অল্প সময়ের জন্য হলেও প্রধানমন্ত্রীর এ সফরে সমুদ্র উপকূলীয় দাকোপ-বটিয়াঘাটা উপজেলার মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা ও আবেগ কাজ করছে। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের এটিই দাকোপ উপজেলা ওজোপাড়া গায়ের নলিয়ানে প্রধম সফর। তার আগমকে ঘিরে এলাকার সাধারণ মানুষের পাশাপাশি ও দলীয় নেতাকর্মীর মধ্যেও ব্যাপক আগ্রহ দেখা গেছে। এ সফরে দক্ষিণাঞ্চলসহ সমুদ্র উপকূলীয় এ দাকোপ উপজেলায় নদী শাসন পূর্বক টেকসই ভেড়িবাঁধ নির্মাণ, সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, গুরুত্বপূর্ণ সড়ক পথের নদীর ওপর সেতু নির্মাণ, বিশুদ্ধ খাবার পানি নিরসনসহ কৃষি ও কৃষকদের স্বার্থ বিবেচনায় প্রধানমন্ত্রী হয়তো বিশেষ বার্তা দেবেন।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ