খুলনা | শুক্রবার | ২৩ অক্টোবর ২০২৬ | ৭ কার্তিক ১৪৩৩

‘বাদাম বেচি, প্রধানমন্ত্রীর সাথে হাত মিলাইছি-আলহামদুলিল্লাহ’

দাকোপ প্রতিনিধি |
০২:২৯ এ.এম | ২৩ অক্টোবর ২০২৬


‘বাদাম বেচি, বাংলাদেশের সরকার, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে হাত মিলাইছি, আর কী লাগে!’ এভাবেই নিজের উচ্ছ¡াস প্রকাশ করেন খুলনার স্থানীয় বাদাম বিক্রেতা রাজু। এ সময় তিনি আরও বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ। আমি সার্থক।’ বৃহস্পতিবার দাকোপ উপজেলার নলিয়ানে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে হাত মেলানোর পর আনন্দে আত্মহারা হয়ে পড়েন রাজু। প্রধানমন্ত্রীকে কাছে পেয়ে নিজের অনুভ‚তির কথা জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা ২৮ মিনিটে হেলিকপ্টারে দাকোপ উপজেলার নলিয়ান মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে অবতরণ করেন। পরে সেখান থেকে হেঁটে নলিয়ান কোস্টগার্ডের পন্টুনের দিকে যান তিনি।
এ সময় সড়কের দুই পাশে দাঁড়িয়ে থাকা বিএনপি’র নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষকে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান প্রধানমন্ত্রী। তাকে স্বাগত জানিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেন নেতাকর্মীরা। যাওয়ার পথে উপস্থিত অনেকের সঙ্গে হাত মেলান তারেক রহমান। কারও কারও মাথায় হাত বুলিয়ে দেন তিনি।
এ সময় স্থানীয় বাদাম বিক্রেতা রাজুর সঙ্গেও হাত মেলান প্রধানমন্ত্রী। প্রিয় নেতাকে কাছে পেয়ে দাকোপের চালনা পৌরসভার আচাভুয়া গ্রামের বাসিন্দা ও পিতৃহারা বাদাম বিক্রেতা রাজু বলেন, ‘অসংখ্য ধন্যবাদ স্যার। আমার খুব ভালো লাগছে।’
এরপর সকাল ১০টা ৪৮ মিনিটে পন্টুন থেকে নৌপথে মোংলার উদ্দেশ্যে রওনা হন প্রধানমন্ত্রী। দুপুর ১২টা ৫৫ মিনিটে তিনি নৌপথে বানৌজা মোংলার জেটিতে পৌঁছান।
বাদাম ও বুট ভাজা বিক্রেতা রাজু গাজী জানান আমার বয়স তখন ১০ বছর এবং ছোট ভাইয়ের বয়স প্রায় ৭ বছর। তখন আমার বাবা আমাদেরকে ফেলে রেখে কোথায় চলে যান তা আজও জানতে পারিনি। আর সেই থেকে সংসারের হাল ধরতে হয়েছে আমাকে। আমি বর্তমানে চালনা এম এম কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র এবং ছোট ভাই সপ্তম শ্রেণিতে পড়াশোনা করেন। সংসারের হাল ধরার কারণে অধ্যাবসায়ও সঠিক সময়ে করতে পারছি না। বাদাম ও বুট ভাজা বিক্রয়ের উপর আমার সংসার চলে। রাজু যখন তার সংসারের কষ্টের কথা গুলো বলছিলো তখর তার চোখে ছিলো অশ্র“সিক্ত আর দীর্ঘস্বাস। পরিশেষে রাজু তার জন্য ও তার পরিবারের জন্য দোয়া চান। 
রাজু গাজী বলেন, নলিয়ানে প্রধানমন্ত্রীর প্রোগ্রামে বিভিন্ন শ্রেণি পেশার লোকের সমগম হবে এটাই স্বাভাবিক। আর সেখানে যেতে পারলে আমার বাদাম ভাজা, বুট ভাজা কেনা বেচাও ভাল হবে। সেটা ভেবে আমি ২১ অক্টোবর রাতে চালনা বাজার লঞ্চঘাট থেকে লঞ্চে উঠে নলিয়ানের উদ্দেশ্য রওনা হই। ততক্ষণে আমার ঝুলিতে থাকা বাদাম ও বুট ভাজা বিক্রি করতে করতে রাত আনুমানিক ২টায় নলিয়ান লঞ্চঘাটে পৌঁছায়। লঞ্চ থেকে নামার পর সারা রাত আমাকে নলিয়ান লঞ্চঘাটে নিদ্রাহীন ভাবে কাটাতে হয়। কাক ডাকা ভোর হওয়ার সাথে সাথে লঞ্চঘাট থেকে উঠে নলিয়ান বাজারের বিভিন্ন স্থানে আমি আমার এ বাদাম ও  বুট বেচা শুরু করি। প্রায় প্রত্যেকেই আমার কাছ থেকে বাদাম ও বুট ভাজা কেনায় আমার বেচা কেনাও ইনশাআল্লাহ ভালো হয়েছে। 
এদিন আনুমানিক সকাল ১০টার দিকে আমি নলিয়ান বাজার থেকে হেঁটে হেঁটে নলিয়ান মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দিকে যায়। যেখানে প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে হেলিকপ্টার অবতরণ করবেন। এর কিছুক্ষণ পর নলিয়ানের আকাশে একটি হেলিকপ্টার দেখতে পাই, যে হেলিকপ্টারে করে আমাদের প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে আশা হয়েছে। তখন আমার মত করে নলিয়ান গ্রামে আশা প্রায় লক্ষাধিক মানুষ সবার চোখই ছিলো আকাশের দিকে। 
স্কুল মাঠে অবতরণ করা ওই হেলিকপ্টার থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নেমে রাস্তা দিয়ে হেঁটে আসছিলেন। এ সময় রাস্তার দু’পাশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে দাঁড়িয়ে থাকা নানা শ্রেণি পেশার উৎসুক হাজার হাজার মানুষ প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাবেন। আমিও প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানাতে ওই সময় তাদের কাতারে গিয়ে সামিল হই। ওই সময় আমি দেখি রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ গুলো প্রধানমন্ত্রীকে দেখে হাত বাড়িয়ে দিলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও নির্দ্ধিধায় তাদের দিকে হাত বাড়িয়ে দিয়ে হাত মেলাচ্ছেন। অন্যান্যের মত আমিও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্যার আমার সামনে আসলেই আমিও আমার এ গরীব হাতটি প্রধানমন্ত্রীর দিকে বাড়িয়ে দিলেও প্রধানমন্ত্রীও আমার সাথে তার হাত মেলান এবং কথা বলেন। আমি কোন দিন কল্পনাও করিনি যে প্রধানমন্ত্রীর আমারমত একজন বাদাম ও বুট ভাজা বিক্রেতার সাথে হাত মেলাবেন। আজ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে আমার হাত মেলানোর পর আমার যে কতটা আনন্দ লাগছে আমি কাউকে বলে বোঝাতে পারবো না। আমি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দীর্ঘায়ু ও সুস্থতার জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করি।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ