খুলনা | শনিবার | ২৪ অক্টোবর ২০২৬ | ৯ কার্তিক ১৪৩৩

‘পাঁচ বছরে ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদনের টার্গেট’

রামপালে ৪৪২ মেগাওয়াট সৌর বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ, মোংলায় কেসিসি প্রশাসক

মোংলা প্রতিনিধি |
১০:২৯ পি.এম | ২৩ অক্টোবর ২০২৬


সরকার পরিবেশবান্ধব নবায়নযোগ্য জ্বালানি স¤প্রসারণে অত্যন্ত আন্তরিক এবং সেই ধারাবাহিকতায় রামপালে ৪৪২ মেগাওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন একটি সৌর বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন খুলনা সিটি কর্পোরেশনের (কেসিসি) প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু। শুক্রবার বিকেল ৫টায় মোংলা উপজেলার নারিকেলতলা মাঠে আয়োজিত এক জনসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। 

“নবায়নযোগ্য জ্বালানি, এখনই” শীর্ষক স্লোগানে বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবন রক্ষা ও দ্রুত পরিবেশবান্ধব জ্বালানি স¤প্রসারণের দাবিতে এ জনসমাবেশের আয়োজন করে ‘ধরিত্রী রক্ষায় আমরা’ (ধরা), ‘ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ’ এবং ‘পশুর রিভার ওয়াটারকিপার’। 

প্রধান অতিথির বলেন, রামপালে ৪৪২ মেগাওয়াট সৌর বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগই প্রমাণ করে বর্তমান সরকার পরিবেশবান্ধব ও টেকসই জ্বালানি স¤প্রসারণে কতটা সুদৃঢ়। তিনি সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার চিত্র তুলে ধরে জানান, আগামী ৫ বছরে দেশে ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদনের টার্গেট নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সাথে ২০৩০ সালের মধ্যে মোট বিদ্যুৎ চাহিদার ২০ শতাংশ এবং ২০৪০ সালের মধ্যে ৩০ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে উৎপাদনের রূপরেখা নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে সাধারণ মানুষের মধ্যে সৌর বিদ্যুৎ ব্যবহারে ব্যাপক আগ্রহের সৃষ্টি হয়েছে এবং এই ধারা অব্যাহত রাখতে সরকারি ভবন, স্কুল-কলেজের ছাদসহ স্থানীয় সরকারের ভবনে সৌর প্যানেল বসানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। 

জ্বালানি নিরাপত্তা বিষয়ে কেসিসি প্রশাসক আরও উলে­খ করে বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে জ্বালানি খাতে আমাদের আমদানি নির্ভরতা বহুগুণে কমবে। এতে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হওয়ার পাশাপাশি সামগ্রিক অর্থনৈতিক ও বিদ্যুৎ খাতের ওপর আর্থিক চাপ অনেকটাই কমে আসবে।

ধরা’-র কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সচিব ও ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশের সমন্বয়কারী শরীফ জামিলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে অংশ নেন গবেষক ও শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মীর মোহাম্মদ আলী, রিভার বাংলা সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ, মোংলা পৌর বিএনপি’র সভাপতি সাবেক মেয়র মোঃ জুলফিকার আলী, উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি আব্দুল মান্নান হাওলাদার ও সাধারণ সম্পাদক আবু হোসেন পনি, পৌর বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক শ্রমিক নেতা মাহবুবুর রহমান মানিক এবং কৃষক নেতা বদরুল আলমসহ আরো অনেকে।  এছাড়াও সুন্দরবন ও উপকূল সুরক্ষা আন্দোলনের নিখিল চন্দ্র ভদ্র, সচেতন ফাউন্ডেশনের মোঃ হাবিবুর রহমান, মিশন গ্রীন বাংলাদেশের আহসান রনি, হাওর অঞ্চলবাসীর জাকিয়া শিশির, কসমস সংস্থার মেহনাজ মালা, ব্রাইটার্স-এর সাইদুর রহমান সিয়াম, বেঙ্গল পিস ফাউন্ডেশনের মাসফিকুল হাসান টনি, ক্লাইমেট ফ্রন্টিয়ারের জুবায়ের ইসলাম এবং ওয়েব ফাউন্ডেশনের আসাদুজ্জামান তুহিন অনুষ্ঠানে সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন।

সভাপতির বক্তব্যে শরীফ জামিল সরকারের রামপাল সৌর বিদ্যুৎ প্রকল্প অনুমোদনকে স্বাগত জানিয়ে ধন্যবাদ জানান। তবে সুন্দরবন সুরক্ষায় সরকারের সামগ্রিক ভূমিকা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, দেশের জ্বালানি নিরাপত্তার স্বার্থে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে। আমরা আশা করি, সরকার দ্রুত রামপাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং আকরাম পয়েন্টে প্রস্তাবিত এলএনজি টার্মিনাল ও পাইপলাইন প্রকল্প বাতিল করে বিজ্ঞানভিত্তিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

সমাবেশের সঞ্চালনায় ছিলেন সুন্দরবন রক্ষায় আমরা-র সমন্বয়কারী ও পশুর রিভার ওয়াটারকিপার মোঃ নূর আলম শেখ। তিনি বলেন, জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভর প্রকল্প বাদ দিয়ে বাংলাদেশের জ্বালানি রূপান্তর হতে হবে সবুজ, ন্যায্য, জনকেন্দ্রিক ও পরিবেশবান্ধব। সমাবেশের শেষাংশে জলবায়ু পরিবর্তন ও সচেতনতার বার্তা ছড়িয়ে দিতে বাঘের মহড়া, পুতুল খেলা, বাউল গান ও ঐতিহ্যবাহী গাজীর গানের আয়োজন করা হয়, যা উপস্থিত দর্শনার্থীদের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলে।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ