খুলনা | শনিবার | ২৪ অক্টোবর ২০২৬ | ৯ কার্তিক ১৪৩৩

কয়রায় সংঘর্ষে পল্লী চিকিৎসক রব্বানীর মৃত্যু : আটক ২

বিচারের দাবিতে স্বজনদের আহাজারি মানববন্ধনে উত্তাল এলাকাবাসী

কয়রা প্রতিনিধি |
১২:০৭ এ.এম | ২৪ অক্টোবর ২০২৬


কয়রায় সরকারি জমি ও কলাগাছ কাটাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে গুরুতর আহত হয়ে মারা যাওয়া পল্লী চিকিৎসক গোলাম রব্বানীর মৃত্যুর ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রিয়জন হারানোর শোক বুকে নিয়ে মানববন্ধনে অংশ নেন তাঁর পরিবারের সদস্য, স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা। এ সময় তাঁরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন শেষে উপজেলার মহারাজপুর ইউনিয়নের রাজ্জাক চেয়ারম্যানের মোড়ে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে বক্তৃতা করেন জেলা বিএনপি’র সদস্য এম এ হাসান ও মনিরুজ্জামান বেল্টু, কয়রা উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি শরিফুল আলম, নিহত গোলাম রব্বানীর মেয়ে বৈশাখী ও ছেলে বিল্লাল হোসেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন কয়রা উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহŸায়ক ও ইউপি সদস্য নুরুল ইসলাম খোকা, উপকূল ও সুন্দরবন সংরক্ষণ আন্দোলনের সভাপতি এম আনোয়ার হোসেনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, জমি নিয়ে বিরোধের জেরে একজন মানুষকে প্রাণ হারাতে হয়েছে এ ঘটনা অত্যন্ত মর্মান্তিক। গোলাম রব্বানীর মৃত্যুর সঠিক কারণ ও ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের ভূমিকা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করতে হবে। একই সঙ্গে নিরাপরাধ কেউ যেন হয়রানির শিকার না হন, তা নিশ্চিত করে প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।
তাঁরা আরও বলেন, একজন স্বজনকে হারিয়ে পরিবারটি গভীর শোক ও অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। এই শোকাবহ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করা জরুরি, যাতে ভবিষ্যতে জমিজমা নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে এমন প্রাণঘাতী সংঘর্ষের পুনরাবৃত্তি না ঘটে।
যেভাবে ঘটনার সূত্রপাত : স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার (১৯ অক্টোবর) সকাল ৯টার দিকে উপজেলার পশ্চিম মঠবাড়ি গ্রামে ১৩ শতক সরকারি জমির দখল ও কলা কাটাকে কেন্দ্র করে গোলাম রব্বানী (৫২) এবং তাঁর চাচাতো ভাই সিদ্দিক সরদারের (২৬) পক্ষের লোকজনের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে গোলাম রব্বানীসহ চারজন গুরুতর আহত হন। আহত অন্যরা হলেন তাঁর ছেলে বিল্লাল সরদার (১৭), স্ত্রী নাজমা খাতুন (৩৮) ও মা রাহিলা বেগম (৫৫)। আহতদের প্রথমে কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে তাঁদের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। গোলাম রব্বানীর অবস্থার আরও অবনতি হওয়ায় তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার (২১ অক্টোবর) বিকেলে তাঁর মৃত্যু হয়।
মামলা হয়নি, আটক দু’জন : কয়রা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ রাশেদুল আলম বলেন, এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো মামলা হয়নি। তবে ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে আজমিরা খাতুন (১৮) ও তাসলিমা বেগমকে (৩৫) আটক করা হয়েছে। 
এদিকে গোলাম রব্বানীর মৃত্যুকে ঘিরে এলাকায় শোক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। মানববন্ধন থেকে দ্রুত ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সম্পন্ন করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং পরিবারের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ