খুলনা | শনিবার | ২৪ অক্টোবর ২০২৬ | ৯ কার্তিক ১৪৩৩

যুবদল নেতা সাকের হত্যা, দায়িত্বে অবহেলায় চিকিৎসককে অব্যাহতি

মাগুরা প্রতিনিধি |
০১:৩৫ এ.এম | ২৪ অক্টোবর ২০২৬


মাগুরায় যুবদল নেতা সাকের হোসেনের হত্যার ঘটনায় প্রাথমিক মেডিকেল পরীক্ষায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে মাইনুল হাসান নামের এক চিকিৎসককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তিনি মাগুরা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের জরুরি বিভাগে দায়িত্ব পালন করছিলেন। শুক্রবার সকালে হাসপাতালের তত্ত¡াবধায়ক মোহসিন উদ্দিন ফকির বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, পূজার ছুটি শেষে এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। আপাতত ওই চিকিৎসককে সাময়িক বরখাস্তের চিঠি দেওয়া হয়েছে।
হাসপাতালের তত্ত¡াবধায়ক বলেন, সাকেরকে প্রথমবার হাসপাতালে আনার সময় জরুরি বিভাগে দায়িত্বে ছিলেন চিকিৎসক মাইনুল হাসান। তিনি ইসিজি রিপোর্টের ভিত্তিতে সাকেরের মৃত্যুর বিষয়টি ঘোষণা করেন। তবে তাঁর মাথার পেছনে গুলির ক্ষত থাকার বিষয়টি তখন শনাক্ত করা হয়নি।
পরবর্তী সময়ে বাড়িতে মরদেহ গোসলের প্রস্তুতি নেওয়ার সময় পরিবারের সদস্যরা মাথার পেছনে ছিদ্র দেখতে পান। পরে তাকে আবার হাসপাতালে নেওয়া হলে গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হয়।
প্রাথমিকভাবে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ ওঠায় চিকিৎসককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে জানিয়ে মোহসিন উদ্দিন ফকির বলেন, ছুটি শেষে তদন্ত কমিটি গঠন করে প্রকৃত ঘটনা অনুসন্ধান করা হবে।
এর আগে, বৃহস্পতিবার সাকের হত্যার বিচারের দাবিতে মাগুরা শহরে বিক্ষোভ সমাবেশ করেন বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। এ সময় তারা চিকিৎসকের অদক্ষতা ও দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ তোলেন। তাদের দাবি, প্রথমবার হাসপাতালে আনার সময় যথাযথ পরীক্ষা করা হলে গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যুর বিষয়টি তখনই শনাক্ত করা সম্ভব হতো। মরদেহ গোসলের সময় মাথার পেছনের ক্ষতটি ধরা না পড়লে হত্যাকাণ্ডটি আড়ালে থেকে যাওয়ার আশঙ্কা ছিল বলেও তারা মন্তব্য করেন।
প্রসঙ্গত, গত বুধবার ভোরে মাগুরা পৌর টার্মিনালের রয়েল পরিবহনের কাউন্টারে দুর্বৃত্তের গুলিতে নিহত হন কাউন্টার মাস্টার সাকের হোসেন। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার দু’জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তারা হলেন ঢাকা মহানগর যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও মাগুরা শহরের তাঁতিপাড়ার বাসিন্দা রনি শিকদার এবং মাগুরার বুজরুকশ্রীকুন্ডি গ্রামের শামীমা তাবাসসুম।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ