খুলনা | শনিবার | ২৪ অক্টোবর ২০২৬ | ৯ কার্তিক ১৪৩৩

পাইকগাছায় জরাজীর্ণ কুঁড়েঘরে বৃদ্ধ সাকাত দম্পতির মানবেতর জীবন, আকুতি একটি নিরাপদ মাথার গোঁজার ঠাঁইয়ের

পাইকগাছা প্রতিনিধি |
০১:৩৬ এ.এম | ২৪ অক্টোবর ২০২৬


পাইকগাছা উপজেলার ২নং কপিলমুনি ইউনিয়নের সিলেমানপুর গ্রামে চরম অনিশ্চয়তা ও মানবিক সংকটে দিন কাটাচ্ছেন ৭০ বছর বয়সী বৃদ্ধ মোঃ সাকাত মোড়ল ও তার অসুস্থ স্ত্রী আনোয়ারা বেগম। মাথার ওপর ফাটা টিন, ভাঙা টালি আর পলিথিনের ছাদ দূর থেকে দেখে মনে হতে পারে পরিত্যক্ত কোনো ঝুপড়ি ঘর। কিন্তু বাস্তব চিত্রটি আরও মর্মান্তিক; কয়েকখণ্ড বাঁশ আর পলিথিনের বেড়ায় ঘেরা এই জরাজীর্ণ স্থানেই জীবন যুদ্ধের নির্মম বাস্তবতার মুখোমুখি হয়ে টিকে আছেন এই নিঃস্ব বৃদ্ধ দম্পতি।
সংসারে দুই ছেলেকে বিয়ে দেওয়ার পর শ্বাসকষ্টে ভোগা স্ত্রীকে নিয়ে একাই থাকেন সাকাত মোড়ল। নিজস্ব জমি বলতে মাত্র দুই শতক, যার ওপর দাঁড়িয়ে আছে ছেলেদের ঘরসহ তাদের এই ভাঙা কুঁড়ে ঘরটি। আয়ের কোনো স্থায়ী উৎস নেই; সামান্য সরকারি বয়স্ক ভাতা ছাড়া আর কোনো সামাজিক বা সরকারি সহায়তা পান না তারা। বৃষ্টি এলেই পলিথিনের ফাঁক গলে পানি ঢুকে ঘরের মেঝে কাঁদা হয়ে যায়, তখন বাধ্য হয়ে আশ্রয় নিতে হয় অন্যের ঘরে। রাতে শোয়ার মতো একটি খাট পর্যন্ত নেই, মাটির ওপরে পলিথিন বিছিয়েই কাটে তাদের রাত। শীতের কনকনে ঠান্ডা কিংবা বর্ষার কাঁদা-পানিতে ভিজে কোনো মতে টিকে থাকা এই দম্পতির দিন কাটে অনাহারে-অর্ধাহারে ও প্রতিবেশীদের সামান্য সাহায্য-সহযোগিতায়।
বর্তমানে স্থানীয়দের সহানুভূতিই তাদের বেঁচে থাকার একমাত্র অবলম্বন। জীবন সায়াহ্নে এসে বৃদ্ধ সাকাত মোড়লের আকুল স্বপ্ন তার যেন একটি ছোট্ট নিরাপদ মাথা গোঁজার ঠাঁই হয়, যেখানে ঝড়-বৃষ্টির রাতে কাউকে আর বলতে হবে না, একটু থাকতে দেবেন? 
সরকার ও সমাজের বিত্তবানদের প্রতি তাদের আকুল আবেদন, সরকারি আবাসন কিংবা একটি টিনের ঘরের ব্যবস্থা হলে জীবনের শেষ দিনগুলো অন্তত কিছুটা শান্তিতে কাটাতে পারতেন তারা। একই সাথে এলাকার সচেতন মহল ও স্থানীয় প্রশাসনকে এই অসহায় পরিবারটির পাশে দাঁড়াতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহবান জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ