খুলনা | রবিবার | ২৫ অক্টোবর ২০২৬ | ১০ কার্তিক ১৪৩৩

গোপালগঞ্জে ‘জয়বাংলা’ স্লোগান দিয়ে পুলিশের ওপর হামলা: গাড়ি ভাঙচুর এসআই-কনস্টেবল আহত

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি |
০১:২৪ এ.এম | ২৫ অক্টোবর ২০২৬


গোপালগঞ্জ সদর উপজেলায় একটি মিছিল থেকে পুলিশের ওপর হামলা ও গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এতে সদর থানার এক উপ-পরিদর্শক ও এক কনস্টেবল আহত হয়েছেন। শনিবার দুপুরে উপজেলার রঘুনাথপুর খেয়াঘাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে নিশ্চিত করেন গোপালগঞ্জ সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ আমিনুল ইসলাম।
এদিকে শনিবার দুপুরে ঘটে যাওয়া এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযো গমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওটি নিজেদের ফেসবুক আইডিতে শেয়ার করেছেন মিছিলে অংশ নেওয়া ছাত্রলীগ ও যুবলীগের কয়েকজন নেতাকর্মী।
পুলিশ জানায়, পাঁচ সদস্যের একটি দল সেখানে নিয়মিত টহল দিচ্ছিল। এ সময় এসআই ফুলমিয়াসহ দুই পুলিশ সদস্য গাড়ি থেকে নেমে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন। হঠাৎ একটি গলি থেকে কয়েকজন স্লোগান দিয়ে মিছিল নিয়ে এসে পুলিশের ওপর হামলা চালান এবং গাড়ি ভাঙচুর করেন। এতে এসআই মোঃ ফুলমিয়া খান ও  কনস্টেবল মাহাবুবুর রহমান আহত হন। পরে হামলাকারীদের ধাওয়ার মুখে পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থল থেকে সরে যান।
ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও অনুযায়ী, রঘুনাথপুর চরপাড়া সড়ক থেকে লাঠিসোঁটা হাতে মিছিল নিয়ে খেয়াঘাট এলাকায় পৌঁছান মিছিলকারীরা। সেখানে টহলরত পুলিশের একটি গাড়িতে হামলা চালিয়ে পুলিশের গাড়িটি ভাঙচুর করা হয়। এ সময় গোপালগঞ্জ সদর থানার এসআই মোঃ ফুলমিয়া ও এক কনস্টেবলকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
ভিডিওতে দেখা যায়, গাড়িতে ভাঙচুরের পরপরই পুলিশ সদস্যরা গাড়ি নিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। তবে কী পরিস্থিতিতে তারা সেখান থেকে সরে যান, তা ভিডিও থেকে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে যান। এ ঘটনার পর এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। পুলিশের ওপর হামলা ও সরকারি গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
গোপালগঞ্জ সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ আমিনুল ইসলাম বলেন, কার্যক্রম নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীরা মিছিল থেকে অতর্কিতভাবে পুলিশের গাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করেন এবং পুলিশ সদস্যদের মারধর করেন। অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। দোষীদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ঘটনার পেছনে কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তি বা মহলের ইন্ধন আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান চলছে। 

প্রিন্ট

আরও সংবাদ