খুলনা | রবিবার | ২৫ অক্টোবর ২০২৬ | ১০ কার্তিক ১৪৩৩

জামায়াতে ইসলামীর শূরা বৈঠক

১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-খুলনা-কুষ্টিয়া লংমার্চ সফল করতে আহবান মাওলানা আজাদের

খবর বিজ্ঞপ্তি |
০১:৪৬ এ.এম | ২৫ অক্টোবর ২০২৬


আগামী ৩১ অক্টোবর ১১ দলীয় ঐক্যের ঐতিহাসিক ঢাকা-খুলনা-কুষ্টিয়া লংমার্চ সফল ও সার্থক করার লক্ষ্যে সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে মহানগরী জামায়াতে ইসলামী। এ উপলক্ষে নগরীর সোনাডাঙ্গাস্থ আল ফারুক সোসাইটি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত গরীর শূরা বৈঠকে প্রধান অতিথির গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও খুলনা অঞ্চল টিম সদস্য মাওলানা আবুল কালাম আজাদ এমপি। 
গতকাল শনিবার সকালে অনুষ্ঠিত এই শূরা বৈঠকে সভাপতিত্বকালে তিনি লংমার্চের সার্বিক প্রস্তুতি ও বাস্তবায়নের সর্বশেষ পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেন এবং তৃণমূল পর্যায়ের সকল শাখা ও নেতাকর্মীদের একযোগে ঝাঁপিয়ে পড়ার উদাত্ত আহŸান জানান।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও খুলনা মহানগরী আমীর মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমানের সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারি এড. শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলাল এমপির পরিচালনায় বিশেষ অতিথি ছিলেন খুলনা অঞ্চল টিম সদস্য মাস্টার শফিকুল আলম। বৈঠকে বক্তৃতা করেন ও উপস্থিত ছিলেন নায়েবে আমীর অধ্যাপক নজিবুর রহমান, সহকারী সেক্রেটারি এড. শাহ আলম, প্রিন্সিপাল শেখ জাহাঙ্গীর আলম ও আজিজুল ইসলাম ফারাজী, অফিস সেক্রেটারি মীম মিরাজ হোসাইন, মহানগরী কর্মপরিষদ সদস্য ড. আবু রুবাবা, মহানগরী যুব বিভাগের সভাপতি মুকারম বিল্লাহ, তারবিয়াত বিভাগের সেক্রেটারি মাওলানা শেখ মোহাম্মদ অলিউল্লাহ, সমাজ কল্যাণ বিভাগের সেক্রেটারি অধ্যাপক ইকবাল হোসেন, প্রচার সেক্রেটারি মুহাম্মদ আব্দুল গফুর, দাওয়া ও প্রকাশনা সেক্রেটারি মাওলানা শাহারুল ইসলাম, অধ্যাপক জুলফিকার আলী, এড. শফিকুল ইসলাম লিটন, খুলনা সদর থানা আমীর এস এম হাফিজুর রহমান, সোনাডাঙ্গা থানা আমীর জি এম শহিদুল ইসলাম, খালিশপুর থানা আমীর মুহা. আব্দুল্লাহ আল মামুন, দৌলতপুর থানা আমীর মুশাররফ আনসারী, আড়ংঘাটা থানা আমীর মাওলানা মোনাওয়ার আনসারী, পেশাজীবী থানা আমীর জাফর সাদিক, ব্যবসায়ী থানা সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান প্রমুখ।
আবুল কালাম আজাদ বলেন, আগামী ৩১ অক্টোবর ১১ দলীয় ঐক্যের ঐতিহাসিক ‘ঢাকা-খুলনা-কুষ্টিয়া লংমার্চ’। এই লংমার্চ কেবল একটি সাধারণ রাজনৈতিক কর্মসূচী নয়; এটি শোষিত, নিপীড়িত ও অধিকার বঞ্চিত জনতার এক প্রতিবাদী পদযাত্রা। খুলনা মহানগরী এই লংমার্চের অন্যতম প্রধান কেন্দ্রবিন্দু। তাই এই কর্মসূচিকে শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল এবং নজিরবিহীন সফলতায় উন্নীত করা আমাদের সংগঠন ও আন্দোলনের নৈতিক দায়িত্ব। শূরা বৈঠক থেকে তিনি খুলনা মহানগরীর প্রতিটি থানা, ওয়ার্ড এবং ইউনিট পর্যায়ের দায়িত্বশীল ও কর্মী-সমর্থকদের উদ্দেশ্যে স্পষ্টভাবে কয়েকটি দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। আমাদের লংমার্চের মূল শক্তি হলো সাধারণ জনগণ। খুলনা মহানগরীর প্রতিটি ঘরে ঘরে দাওয়াত ও লংমার্চের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য পৌঁছে দিতে হবে। সাধারণ মানুষকে সাথে নিয়ে এই কর্মসূচিকে একটি গণজাগরণে রূপ দিতে হবে। ব্যবসায়ী, শ্রমিক, পেশাজীবী ও ছাত্র-জনতাকে এই লংমার্চে যুক্ত করতে হবে। তিনি পরিবহন, রুট পরিকল্পনা এবং স্বেচ্ছাসেবক টিমসহ ১৭টি বিভাগের সর্বশেষ প্রস্তুতিতে গুরুত্ব দিতে হবে।
জামায়াতের এই কেন্দ্রীয় নেতা আবুল কালাম আজাদ বলেন, ১১ দলীয় ঐক্যের বন্ধন অত্যন্ত মজবুত ও সুদৃঢ়। আমাদের সহযোগী দলগুলোর সাথে সার্বক্ষণিক নিবিড় যোগাযোগ রক্ষা করতে হবে। জামায়াতে ইসলামীর কর্মীরা সবসময় শৃঙ্খলার প্রতীক। আগামী ৩১ অক্টোবরের রাজপথেও শৃঙ্খলা ও ভ্রাতৃত্বের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে হবে। তিনি বলেন, সত্য ও সুন্দরের পথে পথচলা কখনোই মসৃণ নয়। আমাদের রাজপথের সকল বাধা-বিপত্তি ও প্রতিক‚লতাকে ঈমানী শক্তি, ধৈর্য ও সাহসিকতার সাথে মোকাবেলা করতে হবে। রাজনৈতিক চাপ কিংবা অশুভ শক্তির কোনো উস্কানিতে প্ররোচিত না হয়ে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে যেতে হবে। তিনি আরও বলেন, ইতিহাস সাক্ষী, যখনই এ দেশের মানুষ কোনো ন্যায়সঙ্গত দাবিতে একতাবদ্ধ হয়েছে, তখনই বিজয়ের সূচনা হয়েছে। ১১ দলীয় ঐক্যের এই লংমার্চের মূল লক্ষ্যই হলো দেশের সাধারণ মানুষের অধিকার ও দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা। খুলনা হলো ঐতিহাসিকভাবে আন্দোলনের সূতিকাগার। খুলনার আন্দোলনমুখী জনতা কখনোই কোনো অন্যায়ের কাছে মাথা নত করেনি। ৩১ অক্টোবরের লংমার্চে খুলনাবাসী প্রমাণ করে দেবে যে, তারা অধিকার আদায়ের ব্যাপারে বিন্দুমাত্র আপোস করতে রাজি নয়।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ