খুলনা | রবিবার | ২৫ অক্টোবর ২০২৬ | ১০ কার্তিক ১৪৩৩

এবার দুর্গাপূজায় কেউ নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেননি: পূজা উদযাপন ফ্রন্ট

খবর প্রতিবেদন |
০২:৪৩ পি.এম | ২৫ অক্টোবর ২০২৬


এবারের দুর্গাপূজা দেশজুড়ে শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ পূজা উদযাপন ফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক মিল্টন বৈদ্য। তিনি বলেন, পূজার সময় সনাতন ধর্মাবলম্বীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেননি। সরকারের নিরাপত্তাব্যবস্থা, আর্থিক সহযোগিতা ও ছুটি বাড়ানোর উদ্যোগে উৎসবের আনন্দ আরও বেড়েছে।

রোববার (২৫ অক্টোবর) সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী মিলনায়তনে পূজা উদযাপন ফ্রন্ট আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।

লিখিত বক্তব্যে মিল্টন বৈদ্য বলেন, কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই দেশজুড়ে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে দুর্গাপূজা উদযাপন বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক ইতিহাসে অনন্য দৃষ্টান্ত তৈরি করেছে। তার ভাষ্য, এবারের পূজায় সনাতন ধর্মাবলম্বীরা নিরাপদ পরিবেশে উৎসব পালনের সুযোগ পেয়েছেন।

তিনি বলেন, অতীতে যারা নিজেদের সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বন্ধু বলে দাবি করতেন, তাদের প্রতিশ্রুতির সঙ্গে বাস্তবতার মিল ছিল না। তবে বর্তমান বিএনপি সরকার ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কাজের মাধ্যমে ধর্মীয় সম্প্রীতি ও নিরাপত্তার বিষয়ে তাদের অবস্থান তুলে ধরেছেন।

মিল্টন বৈদ্য বলেন, প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত ‘ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার; নিরাপত্তা পাবার অধিকার সবার’—এই বক্তব্যের বাস্তব প্রতিফলন এবারের পূজায় দেখা গেছে। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হওয়ায় তাঁরা স্বস্তি ও আনন্দের সঙ্গে উৎসব উদযাপন করতে পেরেছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।

পূজার আর্থিক সহযোগিতা ও ছুটির বিষয়ে তিনি বলেন, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রত্যাশার তুলনায় সরকার এবার প্রায় দ্বিগুণ আর্থিক বরাদ্দ দিয়েছে। পাশাপাশি উৎসব উপলক্ষে ছুটি বাড়িয়ে পাঁচ দিন করায় সাধারণ মানুষ ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা পরিবারের সঙ্গে বেশি সময় কাটিয়ে পূজার আনন্দ ভাগাভাগি করার সুযোগ পেয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রীর পূজামণ্ডপ পরিদর্শনের বিষয়টি উল্লেখ করে মিল্টন বৈদ্য বলেন, অতীতে সরকারপ্রধানেরা ঢাকায় পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করলেও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের বিভিন্ন পূজামণ্ডপে গিয়ে শুভেচ্ছা বিনিময় ও মানুষের খোঁজখবর নিয়েছেন। তার মতে, এ উদ্যোগ সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে রাষ্ট্রের সম্পর্ক ও পারস্পরিক আস্থা জোরদারে ভূমিকা রেখেছে।

পূজার নিরাপত্তাব্যবস্থা সম্পর্কে তিনি বলেন, পুলিশ, র‍্যাব, আনসারসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বয়ে তিন স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন ও গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে নিরাপত্তা নিশ্চিতের উদ্যোগ নেওয়া হয়। উৎসবের আগে ও পরে অপপ্রচার এবং ধর্মীয় উসকানি মোকাবিলায় সরকারের কঠোর অবস্থানও মানুষের মধ্যে আস্থা তৈরিতে ভূমিকা রেখেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

মিল্টন বৈদ্য বলেন, ধর্মীয় উৎসব নির্বিঘ্নে উদযাপনের পরিবেশ বজায় রাখা এবং সব সম্প্রদায়ের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সামাজিক সম্প্রীতি ও পারস্পরিক আস্থা জোরদারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ