খুলনা | রবিবার | ২৫ অক্টোবর ২০২৬ | ১০ কার্তিক ১৪৩৩

মাদকের কারণে দুই মাসে পুলিশের ২৭ সদস্যকে জেলে পাঠানো হয়েছে: বাগেরহাটে আইজিপি

নিজস্ব প্রতিবেদক |
০৪:২৭ পি.এম | ২৫ অক্টোবর ২০২৬


মাদকের কারণে গত দুই মাসে ২৭ জন পুলিশ সদস্যকে জেলে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির। তিনি বলেন, ‘আগে ঘর পরিষ্কার হোক, তারপরে আপনারা পরিষ্কার হবেন।’ মাদকের বিরুদ্ধে তথ্য দিয়ে সকলকে সহযোগিতা করার আহবানও জানিয়েছেন পুলিশ প্রধান।

রোববার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে বাগেরহাট পুলিশ লাইন্স মিলনায়তনে মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, দুর্নীতি, কিশোর গ্যাং ও উগ্রবাদ বিরোধী কমিউনিটি পুলিশিং সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আইজিপি এসব কথা বলেন।

আইজিপি বলেন, ‘গত দুই মাসে আমি মাদকের কারণে ২৭ জন পুলিশ সদস্যকে জেলে পাঠিয়েছি। আগে ঘর পরিষ্কার হোক, তারপরে আপনারা পরিষ্কার হবেন।’ মাদকবিরোধী কার্যক্রম জোরদারে তথ্য দিয়ে পুলিশকে সহযোগিতা করার জন্য সবার প্রতি আহŸান জানান তিনি।

সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে মো. আলী হোসেন ফকির আরও বলেন, গত ১৭ বছরে সরকারিভাবে পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে দেশের পাড়ায় পাড়ায় মাদকের আখড়া তৈরি করা হয়েছে। এখন প্রশ্ন হলো, এসব মাদক নির্ম‚ল করবে কে? এ জন্য পুলিশ ও জনগণকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

দেশে পুলিশের জনবল সংকটের কথা তুলে ধরে আইজিপি বলেন, বর্তমানে দেশে পুলিশের সংখ্যা মাত্র ২ লাখ ১৫ হাজার। চলতি বছর ২০ হাজার পুলিশ সদস্য নিয়োগ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে একসঙ্গে ২০ হাজার সদস্যকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত অবকাঠামো নেই। এ জন্য নতুন প্রশিক্ষণকেন্দ্র তৈরি করতে হবে। তিনি বলেন, দেশের উন্নয়নে কোনো শর্টকাট পথ নেই। সরকারকে সবাই মিলে সহযোগিতা না করলে দেশের অগ্রগতি সম্ভব নয়। শান্তি, সমৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

কিশোর গ্যাং প্রতিরোধে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের (ওসি) সমন্বয়ে বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে জানিয়ে পুলিশপ্রধান বলেন, জেলা থেকে ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত এসব কমিটি কাজ করবে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানেন, তাঁদের এলাকার কোন কিশোর কী ধরনের কর্মকাÐে জড়িত। তাই স্থানীয়দের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা কমানো সম্ভব হবে।

সাইবার অপরাধ প্রতিরোধে দক্ষ সাইবার ইউনিট গঠন করা হয়েছে উলে­খ করে আইজিপি বলেন, এ ইউনিট গুজব ও মব প্রতিরোধে কাজ করবে।

যুবকদের অপরাধে জড়িয়ে পড়ার অন্যতম কারণ হিসেবে বেকারত্বকে দায়ী করেন মো. আলী হোসেন ফকির। তিনি বলেন, প্রতিবছর দেশে ২৭ লাখ বেকার যুক্ত হচ্ছেন। তাঁদের মধ্যে হতাশা তৈরি হচ্ছে, অথচ তাঁদের কর্মক্ষমতা কাজে লাগানো যাচ্ছে না। ব্যবসায়ীরাও বিনিয়োগ করছেন না; অনেকে ব্যাংকে টাকা রেখে দিচ্ছেন। বিনিয়োগ না বাড়লে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে না।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরার বিষয়ে বক্তব্য দিতে গিয়ে আইজিপি বলেন, ‘গুজব, আপা আসবে, কে আসবে আর না আসবে, তা নিয়ে আমাদের প্রশাসনের, কমিউনিটি পুলিশের কোনো ভাবনা নেই।’

বাগেরহাটের পুলিশ সুপার মো. জামিলুর ইসলামের সভাপতিত্বে সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি মো. রেজাউল করিম, বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন, সরকারি পিসি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক পারভীন আক্তার, বাগেরহাট প্রেসক্লাবের সভাপতি আবু সাইদ শুনু এবং হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের নেতা প্রদীপ বসু শন্তুসহ জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।

সমাবেশে মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, দুর্নীতি, কিশোর গ্যাং ও উগ্রবাদ প্রতিরোধে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন উপস্থিত সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ