খুলনা | সোমবার | ২৬ অক্টোবর ২০২৬ | ১১ কার্তিক ১৪৩৩

১১ দলীয় ঐক্য খুলনার লিফলেট বিতরণ

অধিকার আদায়ের ৩১ অক্টোবরের লংমার্চ সফলের আহবান

খবর বিজ্ঞপ্তি |
০২:৩১ এ.এম | ২৬ অক্টোবর ২০২৬


বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও খুলনা মহানগরী আমীর মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান বলেছেন, দেশের সাধারণ মানুষ আজ অন্যায়, বৈষম্য ও অধিকার হরণের বিরুদ্ধে ঘুরে দাঁড়িয়েছে। আগামী ৩১ অক্টোবর ‘ঢাকা-খুলনা-কুষ্টিয়া লংমার্চ’ এর জনস্রোত থেকে আমাদের এই বার্তা দেশের প্রতিটি কোণে পৌঁছে দিতে হবে। এই লংমার্চ কোনো সাধারণ কর্মসূচি নয়; এটি আজ সাধারণ মানুষের অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই। লংমার্চ কর্মসূচির দাবিগুলো দেশের আপামর জনসাধারণের মৌলিক অধিকার ও প্রত্যাশার সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তিনি বলেন, গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন; জুলাই গণহত্যারের বিচার; বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সার সংকট নিরসন; আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি; সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধ এবং দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও দখলদারি বন্ধের দাবিতে রাজপথে নেমেছি। এই দাবিগুলো কেবল ১১ দলীয় ঐক্যের নয়, এটি দেশের প্রতিটি বঞ্চিত মানুষের মনের কথা। আগামী ৩১ অক্টোবর শনিবারের ঢাকা-খুলনা-কুষ্টিয়া লংমার্চ সফল করার মধ্য দিয়েই আমাদের এই দাবি আদায়ের আন্দোলনকে চূড়ান্ত রূপ দিতে হবে। 
গতকাল রোববার বিকেলে লংমার্চ সফল করতে ১১ দলীয় ঐক্য নগরীর ডাকবাংলো মোড় থেকে প্রচার-প্রচারণার অংশ হিসেবে লিফলেট বিতরণকালে তিনি এসব কথা বলেন।
১১ দলীয় ঐক্য খুলনার সমন্বয়কারী এড. শাহ আলমের পরিচালনায় বক্তৃতা করেন ও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের খুলনা মহানগর সভাপতি মুফতি শরীফ সাঈদুর রহমান, লেবার পার্টির মহানগর সভাপতি অধ্যক্ষ মোঃ সাইফুদ্দোহা, বিডিপির মহানগর সভাপতি এড. মোঃ হানিফ উদ্দীন, এনসিপির খুলনা মহানগর যুগ্ম-আহবায়ক শরীফ বদরুদ্দোজা ও সাংগঠনিক সম্পাদক শামসুল আরেফিন, লেবার পার্টির মহানগর সাধারণ সম্পাদক সোহেল হাওলাদার, জেলা জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর মাওলানা কবিরুল ইসলাম, নগর জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি আজিজুল ইসলাম ফারাজী, শেখ মোঃ অলিউল্লাহ, প্রচার সেক্রেটারি মুহাম্মাদ আব্দুল গফুর, খেলাফত আন্দোলন মহানগর মুখপাত্র মোঃ সাকিব বিল্লাহ, মহানগরী ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি ইসরাফিল হোসেন, জামায়াত নেতা এস এম হাফিজুর রহমান, জাহিদুর রহমান নাঈম, হুমায়ুন কবীর, সাব্বির তালুকদার, মশিউর রহমান রমজান, হাবিবুর রহমান, মুঞ্জুর কাদের, শ্রমিক নেতা কাজী মাহফুজুর রহমান, এস এম মাহফুজুর রহমান, হায়দার আলী নিরু, নাসিম মোল্লা  প্রমুখ। 
বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সার সংকট নিরসন প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়ে তিনি আরও বলেন, আজ দেশের সাধারণ মানুষ ও কৃষকরা চরম দুর্বস্থার মধ্য দিয়ে দিন কাটাচ্ছেন। জ্বালানি ও বিদ্যুতের অভাবে শিল্পকারখানা ও উৎপাদনমুখী খাত মুখ থুবড়ে পড়ছে। অন্যদিকে আমাদের অন্নদাতা কৃষকরা সেচ এবং ফসলের জন্য প্রয়োজনীয় সার ও জ্বালানি সময়মতো পাচ্ছেন না। এই বহুমুখী সংকট অবিলম্বে নিরসন করতে হবে, অন্যথায় দেশের অর্থনীতি ও কৃষি জীবন পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যাবে।   
নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদির ঊর্ধ্বগতি রোধে কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, বাজার সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্যে আজ চাল, ডাল, তেল থেকে শুরু করে প্রতিটি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে। খেটে খাওয়া, মেহনতি ও নিম্নআয়ের মানুষ আজ দু’বেলা ঠিকমতো খাবার জোগাড় করতে হিমশিম খাচ্ছে। সিন্ডিকেট ভাঙতে হবে এবং অতিদ্রুত জিনিসপত্রের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে নিয়ে আসার কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।   
আইনশৃঙ্খলা চরম অবনতি উল্লেখ করে মাহফুজুর রহমান বলেন, একটি স্বাধীন দেশে সাধারণ মানুষের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের সর্বাগ্রে দায়িত্ব। অথচ আজ সমাজে নিরাপত্তাহীনতার এক মারাত্মক আতঙ্ক বিরাজ করছে। ছিনতাই, রাহাজানি এবং অপরাধমূলক কর্মকান্ড বেড়ে যাওয়ায় মানুষ চরম উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছে। দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আশু উন্নতি ঘটিয়ে নাগরিকের মৌলিক নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিতে হবে।   
সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, অতীতে আমরা দেখেছি কীভাবে প্রশাসন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও রাষ্টীয় প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ সংস্থাকে দলীয় স্বার্থে ব্যবহার করে ধ্বংস করা হয়েছে। মেধার মূল্যায়ন না করে দলীয়করণের মাধ্যমে পুরো রাষ্ট্রযন্ত্রকে পঙ্গু করে দেওয়া হয়েছে। এই সংকীর্ণ দলীয়করণের সংস্কৃতি থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। রাষ্ট্রে সমঅধিকার ও মেধার ভিত্তিতে প্রশাসন পুনর্গঠন করতে হবে।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ