খুলনা | বুধবার | ২৮ অক্টোবর ২০২৬ | ১৩ কার্তিক ১৪৩৩

সাতক্ষীরায় মা-মেয়ে হত্যার আসামি আব্দুর রউফের মৃত্যুদন্ডাদেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক, সাতক্ষীরা |
০১:৫৬ এ.এম | ২৭ অক্টোবর ২০২৬


সাতক্ষীরায় যৌতুকের দাবিতে নির্যাতন ও পারিবারিক বিরোধের জেরে মা ও শিশুকন্যাকে হত্যার দায়ে আব্দুর রউফ সরদারকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাঁকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। সোমবার সাতক্ষীরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোঃ জাকারিয়া হোসেন এক জোনাকীর্ণ আদালতে এ রায় ঘোষণা করেন। তবে রায় ঘোষণাকালে আসামি আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিল না। 
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মোঃ আব্দুর রউফ সরদার কালিগঞ্জ উপজেলার ঘোনা গ্রামের মোঃ আব্দুল­াহ সরদারের ছেলে। মামলার বাদী জাহানারা খাতুন (৫৬) কালিগঞ্জ উপজেলার তারালি সরদার পাড়া এলাকার বাসিন্দা। মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ঘটনার প্রায় সাড়ে তিন বছর আগে বাদী জাহানারা খাতুনের মেয়ে সাবিনা ইসলাম (২৬) কালিগঞ্জের ঘোনা গ্রামের আব্দুর রউফ সরদারের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। বিয়ের পর তাঁদের সংসারে একটি কন্যা সন্তানের জন্ম হয়। পরে পারিবারিক বিরোধ ও যৌতুকের দাবিকে কেন্দ্র করে তাঁদের মধ্যে অশান্তি দেখা দেয়। একপর্যায়  আসামির মায়ের চিকিৎসার খরচের জন্য ৫০ হাজার টাকা এবং মোটরসাইকেল কেনার জন্য আরো কিছু টাকার জন্য চাপ দেওয়া হয়। এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিরোধের একপর্যায়ে সাবিনা ইসলাম তাঁর সন্তানকে নিয়ে বাবার বাড়িতে চলে আসেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৫ সালের ৮ সেপ্টেম্বর রাতে পরিবারের সদস্যরা ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় সাইকেলের শব্দ শুনে বাদী জেগে ওঠেন। পরে ঘরের ভেতরে গিয়ে তিনি মেয়ে সাবিনা ইসলাম ও নাতনি আয়েশা সিদ্দিকাকে খাটের ওপর নিথর অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। তাঁদের বাঁচানোর চেষ্টা করা হলেও শেষ পর্যন্ত প্রাণ রক্ষা করা সম্ভব হয়নি বলে এজাহারে উলে­খ করা হয়।
এ ঘটনায় জাহানারা খাতুন বাদী হয়ে কালিগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। গ্রেফতার হওয়ার পর আসামি আব্দুর রউফ আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন। পরবর্তীতে আসামি উচ্চ আদালত থেকে জামিন নিয়ে পালিয়ে যায়। 
পরে পুলিশ তদন্ত করে আসামি আব্দুর রউফ সরদারের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। মামলাটি বিচারের জন্য উক্ত আদালতে প্রেরিত হলে বিচারক মামলার নথি ও ১২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে আসামি আব্দুর রউফ সরদারকে দোষী সাব্যস্ত করে তাকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন। একই সাথে আসামিকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। 
মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) শেখ আলমগীর আশরাফ। তিনি বলেন যৌতুকের মতো সামাজিক ব্যাধির কারণে মা ও শিশুকন্যার প্রাণহানির এ ঘটনা এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছিল। আদালতের এ রায়ের মধ্য দিয়ে নিহতদের পরিবারের ন্যায়বিচার পাওয়ার প্রত্যাশা পূরণ হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ