খুলনা | বুধবার | ২৮ অক্টোবর ২০২৬ | ১৩ কার্তিক ১৪৩৩

জ্বালানি মহাপরিকল্পনা প্রণয়নে জাতীয় স্বার্থ ও জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিতের দাবিতে মানববন্ধন

খবর বিজ্ঞপ্তি |
১২:২৩ এ.এম | ২৮ অক্টোবর ২০২৬


বাংলাদেশের জ্বালানি মহাপরিকল্পনা প্রণয়নে জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া এবং পরিকল্পনা প্রক্রিয়ায় জনগণের কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার দাবিতে মঙ্গলবার খুলনাতে একটি জনসংহতি ও সচেতনতামূলক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি, পরিবেশকর্মী, জ্বালানি খাতের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এবং স্থানীয় জনগণ অংশগ্রহণ করেন। ফোরাম অন ইকোলজি এন্ড ডেভেলপমেন্ট খুলনার প্রধান উপদেষ্টা বিশিষ্ট রোটারিয়ান আতহার আলীর সভাপতিত্বে সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন বিশিষ্ট সমাজ সেবক  বাপা'র কেন্দ্রীয় সদস্য ও জেলা সমন্বয়কারী এড. মোঃ বাবুল হাওলাদার। অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা করেন সহকারী অধ্যাপক এস এম সোহেল ইসহাক, হাকিম মতিয়ারা বেগম, কবি মোঃ রহমত আলী, সহকারী অধ্যাপক উত্তম দাস, ধ্র“ব সংস্থার নির্বাহী পরিচালক মিসেস রেখা মারিয়া বৈরাগী এবং সাংবাদিক তন্দ্রা দাস, লাবণ্য আক্তার, এশা ক্যাথারিনা প্রমুখ।
কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, জ্বালানি মহাপরিকল্পনা বাংলাদেশের অর্থনীতি, পরিবেশ, জনজীবন এবং ভবিষ্যৎ জ্বালানি নিরাপত্তার সঙ্গে গভীর ভাবে সম্পর্কিত। তাই দেশের জ্বালানি খাতের ভবিষ্যৎ নির্ধারণকারী এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ পরিকল্পনা প্রণয়নে বিদেশি স্বার্থ বা পরামর্শের ওপর এককভাবে নির্ভর না করে বাংলাদেশের নিজস্ব বাস্তবতা, সক্ষমতা ও জনগণের প্রয়োজনকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।
বক্তারা আরও বলেন, জ্বালানি মহাপরিকল্পনা কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠী বা প্রতিষ্ঠানের স্বার্থে নয়, বরং দেশের মানুষের কল্যাণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রণীত হওয়া উচিত। এ জন্য পরিকল্পনা প্রণয়নের শুরু থেকেই নাগরিক সমাজ, বিশেষজ্ঞ, গবেষক, পরিবেশকর্মী, স্থানীয় জনগোষ্ঠী ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতামত গ্রহণ করতে হবে। পরিকল্পনার খসড়া জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা এবং উন্মুক্ত আলোচনা ও পরামর্শের মাধ্যমে জনগণের মতামত প্রতিফলিত করার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
তাঁরা উল্লেখ করেন, দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমদানিনির্ভর জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতার ঝুঁকি বিবেচনায় নেওয়া জরুরি। একই সঙ্গে সৌরবিদ্যুৎসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানির সম্ভাবনা কাজে লাগিয়ে একটি সাশ্রয়ী, পরিবেশবান্ধব ও টেকসই জ্বালানি ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। জ্বালানি পরিকল্পনা প্রণয়নের ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক ব্যয়, পরিবেশগত প্রভাব এবং জনগণের ওপর সম্ভাব্য প্রভাবও যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।
কর্মসূচি থেকে সরকারের প্রতি আহŸান জানানো হয়, জ্বালানি মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের প্রতিটি পর্যায়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে; বিদেশি নির্ভরতার পরিবর্তে জাতীয় স্বার্থ ও দেশীয় সক্ষমতাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে; পরিকল্পনার বিষয়ে জনগণের মতামত গ্রহণের কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে; এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারে বাস্তবসম্মত ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ