খুলনা | বুধবার | ২৮ অক্টোবর ২০২৬ | ১৩ কার্তিক ১৪৩৩

লাইসেন্স বহি আলামত নষ্ট, অর্থ আত্মসাৎ ও সহযোগিতা

কেসিসির লাইসেন্স শাখার ৬ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক |
০১:০৯ এ.এম | ২৮ অক্টোবর ২০২৬


খুলনা সিটি কর্পোরেশনের (কেসিসি) ট্রেড লাইসেন্স শাখার ১১টি লাইসেন্স বহি অপরাধম‚লক বিশ্বাসভঙ্গের মাধ্যমে অপরাধের প্রমাণ/আলামত নষ্ট, ৩৪ লাখ টাকা আত্মসাৎ এবং সঠিকভাবে হিসাব যাচাই না করে আত্মসাতে সহযোগিতা করায় সিনিয়র লাইসেন্স অফিসার (সাময়িক বরখাস্ত) ফারুক হোসেন তালুকদার সহ ৬ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পৃথক দু’টি মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। মঙ্গলবার  দুদকের উপ-সহকারী পরিচালক আশিকুর রহমান বাদি হয়ে মামলা দু’টি দায়ের করেন। মামলা দু’টির নম্বর হচ্ছে ২০ ও ২১, তারিখ- ২৭/১০/২০২৬।
প্রথম মামলার বিবরণ : খুলনা সিটি কর্পোরেশনের লাইসেন্স পরিদর্শক (বর্তমানে কনজারভেন্সি সুপারভাইজার) মোঃ হাবিবুর রহমান, লাইসেন্স পরিদর্শক (বর্তমানে কনজারভেন্সি সুপারভাইজার) মনিরুল ইসলাম,  লাইসেন্স পরিদর্শক শেখ শাহেদ হাসান ও লাইসেন্স পরিদর্শক (বর্তমানে কনজারভেন্সি সুপারভাইজার) কাজী মনজুর-উল-আলম ২০১৬-১৭ অর্থবছরের ট্রেড লাইসেন্স (বাণিজ্য) শাখার রাজস্ব আদায়ের ১১টি লাইসেন্স বহি অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গের মাধ্যমে অপরাধের প্রমাণ/আলামত নষ্ট করার অসাধু অভিপ্রায়ে গায়েব এবং সিনিয়র লাইসেন্স অফিসার (সাময়িক বরখাস্ত) ফারুক হোসেন তালুকদার অসৎ উদ্দেশ্যে সঠিকভাবে তদারকী না করে দায়িত্বে অবহেলার মাধ্যমে লাইসেন্স পরিদর্শকদের সহায়তাপূর্বক সরকারি কর্মচারী হয়ে পরস্পর যোগসাজসে অর্থ আত্মসাৎ করে দণ্ডবিধির ৪০৯/২০১/১০৯ এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন ১৯৪৭ এর ৫(২) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন।
দ্বিতীয় মামলার বিবরণ : কেসিসির লাইসেন্স পরিদর্শক (বর্তমানে কনজারভেন্সি সুপারভাইজার) মোঃ হাবিবুর রহমান-এর বিরুদ্ধে ট্রেড লাইসেন্স (বাণিজ্য) শাখার রাজস্বের উত্তোলিত মোট ৩৪,২১,১১২/- টাকা আত্মসাতের বিষয়টি কর্তৃপক্ষের অডিট ও তদন্তে প্রমাণিত হয়, পরবর্তীতে ২০১৭-১৮, ২০১৮-১৯ এবং ২০১৯-২০ অর্থবছরে উক্ত টাকা ফেরত প্রদান করেন তিনি। একই সংস্থার সিনিয়র লাইসেন্স অফিসার (সাময়িক বরখাস্ত) ফারুক হোসেন তালুকদার উক্ত বিষয়ে সঠিকভাবে তদারকী না করে দায়িত্বে অবহেলা এবং ক্যাশিয়ার (হিসাব বিভাগ) সঞ্জীব কুমার সাহা রাজস্ব উত্তোলিত টাকা ক্যাশে জমা গ্রহণের সময় সঠিকভাবে হিসাব না করে সরকারী কর্মচারী হয়ে প্রতারণার মাধ্যমে পরষ্পর যোগসাজসে অর্থআত্মসাৎ এবং দায়িত্বে অবহেলা করে দণ্ডবিধির ৪২০/৪০৯/১০৯ এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন ১৯৪৭ এর ৫(২) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন।
কেসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিব আহমেদ জানান, আরও ৬-৭ বছর আগের ঘটনায় মামলাগুলো দায়ের হয়েছে। এখনও কোনো নথি আমরা হাতে পাইনি। বিষয়টি বিশ্লেষণ করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ