খুলনা | বুধবার | ২৮ অক্টোবর ২০২৬ | ১৩ কার্তিক ১৪৩৩

ভয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবক

চিতলমারী বিদ্যালয়ের মাঠে অর্ধশত বেওয়ারিশ কুকুর : এক শিক্ষার্থী আহত

এস এস সাগর, চিতলমারী |
০২:৫৫ পি.এম | ২৮ অক্টোবর ২০২৬


বাগেরহাটের চিতলমারী এ কে ফায়জুল হক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে প্রতিদিন সকালে অর্ধশত কুকুর আশ্রয় নেয়। সকালের এই সময়টায় শিশু শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে আসে। স্কুলগামী শিক্ষার্থীদের দেখে কুকুরগুলো আক্রমন করতে তেড়ে আসে। ভয়ে শিশুরা দিগি¦দিক্ ছোটাছুটি করে। ইতোমধ্যে কুকুরের কামড়ে প্রাক-প্রাথমিকের আহাদ নামে এক শিক্ষার্থী আহত হয়েছে। তাই ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা বর্তমানে চরম আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন।  

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এ কে ফায়জুল হক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি উপজেলা সদরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত। এটি স্থাপিত হয় ১৯৭৬ সালে। অদ্যবধি এই বিদ্যালয়ের কোন সীমানা প্রাচীর নির্মান হয়নি। এখানে প্রতিদিন ৯ জন শিক্ষক-কর্মচারী, ৩৫০ জন শিক্ষার্থী ও অসংখ্য অভিভাবক যাতায়াত করেন। কিন্তু বিদ্যালয়ের সীমানা প্রাচীর না থাকায় সদর বাজারের অর্ধশত বেওয়ারিশ কুকুরগুলো আশ্রয় নেয়। বেশীর ভাগ শিক্ষার্থীই সকালে একা বা দুই থেকে তিনজন মিলে স্কুলে আসে। তারা বিদ্যালয়ে প্রবেশের সময় কুকুরগুলো আক্রমনাত্মক হয়ে ওঠে। এ সময় বিদ্যালয়গামী শিশুরা চিৎকার-চেচামেচি ও দিগি¦দিক্ ছোটাছুটি করে।

এ কে ফায়জুল হক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জানায়, সকালে রাস্তায় লোকজন কম থাকে। ছোটদের দেখে কুকুর গুলো বেশী হিং¯্র হয়ে ওঠে। তাই তাদের স্কুলে আসতে খুব ভয় লাগে।

অভিভাবক জান্নাতী আক্তার জানান, তার ছেলে আহাদ শেখ এ কে ফায়জুল হক সরকারি প্রথমিক বিদ্যালয়ে পড়াশুনা করে। স্কুলে যাবার পথে কয়েকটি কুকুর আহাদের উপর আক্রমণ চালায়। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে কামড়ে গুরুতর জখম করে। বর্তমানে শিশুটির চিকিৎসা চলছে।

আরেক অভিভাবক জোসনা বেগম জানান, বিদ্যালয়ে সন্তানদের পাঠিয়ে আতঙ্কিত থাকতে হয়। তাই সংসারের সকল কাজ-কর্ম ফেলে রেখে সন্তানকে নিয়ে স্কুলে আসি। কিন্তু এভাবে কত দিন ?

আড়–য়াবর্ণি গ্রামের বাসিন্দা মোহন খান জানান, তার চোখের সামনে এ কে ফায়জুল হক স্কুলের সামনে একটি মেয়েকে অনেকগুলি কুকুর মিলে তাড়া করে। ভয়ে মেয়েটি চিৎকার দিয়ে পালাতে গেলে সে রাস্তার পাশে পড়ে যায়। এ সময় কুকুরগুলি মেয়েটির উপর আক্রমণ চালালে আশপাশের লোকজন তার চিৎকার শুনে ছুটে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে।

এ কে ফায়জুল হক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষিকা মানছুরা আক্তার জানান, উপজেলার মধ্যে তাদের স্কুলে সবচাইতে বেশী শিক্ষার্থী পড়াশুনা করে। কিন্তু বিদ্যালয়টির কোন সীমানা প্রাচীর নেই। সীমানা প্রাচীর থাকলে এ ধরণের ঘটনা ঘটত না।  

এ কে ফায়জুল হক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মহিতুল ইসলাম জানান, কুকুরের হিং¯্রতা খুবই বেড়ে যাওয়ায় অভিভাবকরা এখন স্কুলে শিশুদের একা পাঠাতে ভয় পাচ্ছেন। অনেকেই সন্তানদের সাথে করে নিয়ে আসছেন। কুকুরের কামড়ে ওই বিদ্যালয়ের শিশুরা আহত হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন। বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখার জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট দপ্তরের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

চিতলমারী উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. আহমেদ ইকবাল জানান, দিন দিন কুকুরের সংখ্যা বাড়ছে কিন্তু তাদের খাদ্যের কোন যোগান নেই। কুকুর আগে যত্র-তত্র খাবার পেত। এখন পায় না। তাই কুকুরের আক্রমণ বেড়ে গেছে। বিষয়টি বনবিভাগসহ সংশ্লিষ্ট সকলের হস্তক্ষেপ জরুরী। তাছাড়া বিদ্যালয়টিতে সীমানা প্রাচীর থাকলে শিক্ষার্থীরা নিরাপদে থাকত।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ