খুলনা | বৃহস্পতিবার | ২৯ অক্টোবর ২০২৬ | ১৩ কার্তিক ১৪৩৩

লাখো শিক্ষক পদ শূন্য ঘাটতি পূরণ করতে হবে

|
১১:৫৮ পি.এম | ২৮ অক্টোবর ২০২৬


দেশের শিক্ষা খাতে যেসব সংকট রয়েছে, এর মধ্যে শিক্ষকস্বল্পতার বিষয়টিই প্রথমে সামনে আসে। বহু প্রতিষ্ঠানে প্রয়োজনের তুলনায় শিক্ষকসংখ্যা কম। প্রত্যন্ত অঞ্চলের অবস্থা আরো শোচনীয়। প্রাথমিক, উচ্চ মাধ্যমিক ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রায় এক লাখ ১৫ হাজার শিক্ষক পদ শূন্য। বলা বাহুল্য, এতে শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মক ব্যাহত হচ্ছে। 
পত্রিকায় প্রকাশিত খবরে নওগাঁর রানীনগর উপজেলার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে, যেখানে শিক্ষার্থী ১১১ জন হলেও শিক্ষক মাত্র দু’জন। অথচ স্কুলটিতে শিক্ষকের পদ ছয়টি। শুধু এই বিদ্যালয়টিই নয়, দেশের প্রাথমিক, মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক, মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রায় সবখানেই শিক্ষকসংকট প্রকট। কোথাও প্রধান শিক্ষক নেই, কোথাও বিজ্ঞান, গণিত ও তথ্য-প্রযুক্তির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে শিক্ষক নেই। আবার কোথাও পদ খালি থাকলেও নিয়োগের জন্য প্রয়োজনীয় যোগ্য প্রার্থী পাওয়া যাচ্ছে না।
জানা গেছে, দেশের ৬৫ হাজার ৫৬৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অনুমোদিত শিক্ষক পদ চার লাখ ২৯ হাজার ৫৩১টি। এর মধ্যে শূন্যপদ রয়েছে প্রায় ৫৬ হাজার। বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রেও বড় ধরনের ঘাটতি রয়েছে। চলতি বছরের ২৮ জানুয়ারি বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) সপ্তম বিশেষ নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির ফল প্রকাশ করা হয়। ৬৭ হাজার ৮৭টি শূন্যপদের বিপরীতে আবেদন জমা পড়ে মাত্র ১৮ হাজার ৩৯৯টি।
যাচাই-বাছাই শেষে ১১ হাজার ৭১৩ জনকে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করা হয়। ফলে ওই নিয়োগপ্রক্রিয়ায় ৫৫ হাজার ৪৯৫টি পদ শূন্য থেকে যায়। কারিগরি শিক্ষার প্রসারে সরকার গুরুত্ব দিলেও এ খাতের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও শিক্ষকসংকট গুরুতর। কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনুমোদিত ১৫ হাজার ৮৪৪টি শিক্ষক পদের মধ্যে আট হাজার ৪৮৬টি পদ শূন্য। অর্থাৎ অর্ধেকের বেশি পদে শিক্ষক নেই। এই হলো দেশে শিক্ষা খাতের বাস্তব চিত্র। 
খবরে বলা হয়েছে, সরকারি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোর শূন্যপদ পূরণে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। স¤প্রতি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক ও সহকারী প্রধান শিক্ষকের প্রায় দুই হাজার শূন্যপদ পূরণে সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। এসব প্রক্রিয়া যত দ্রুত সম্পন্ন হবে, ততই মঙ্গল। 
আমরা মনে করি, শিক্ষা খাতে দুর্বলতা কাটাতে প্রয়োজনীয় শিক্ষক নিয়োগের বিকল্প নেই। একই সঙ্গে কোন অঞ্চলে কত শিক্ষক প্রয়োজন, কোন বিষয়ে ঘাটতি বেশি এবং কোথায় শিক্ষক নিয়োগের পরও ধরে রাখা যাচ্ছে না এসব বিবেচনায় নিয়ে পরিকল্পনা করতে হবে।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ