খুলনা | বৃহস্পতিবার | ২৯ অক্টোবর ২০২৬ | ১৩ কার্তিক ১৪৩৩

কক্সবাজারে টুপটুপ রিসোর্ট ট্রাজেডি

মণিরামপুরে মায়ের কবরের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত নাহিদ ও তার স্ত্রী-সন্তানেরা

মণিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি |
০১:১৪ এ.এম | ২৯ অক্টোবর ২০২৬


স্বজনদের চোখের পানি শুকিয়ে গেছে। প্রতিবেশীরা স্বজনহারাদের সান্ত্বনা দেওয়ার ভাষা হারিয়ে ফেলেছেন। একই পরিবারের চারজনের এমন মৃত্যুতে শোকাবহ পরিবেশের সুনসান নীরবতার মাঝে হঠাৎ করে কোনো এক স্বজনের আর্তচিৎকারে আশপাশের পরিবেশ ভারি হয়ে ওঠে। একটি পরিবারের চারজনের মৃত্যুতে নিহতদের স্বজন, প্রতিবেশীসহ আগন্তুকদের কেউ চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি।
কক্সবাজারে টুপটুপ রিসোর্টের অগ্নিকাণ্ডে নিহত একই পরিবারের চারজনের লাশ বুধবার ভোরে যশোরের মনিরামপুর পৌর এলাকার মোহনপুর গ্রামে পৌঁছায়।
এদিকে লাশ শনাক্তের খবর পেয়ে আগে থেকেই নিহত নাহিদুর রহমানের মায়ের কবরের পাশে পরপর চারটি কবর খুঁড়ে প্রস্তুত করা হয়।
ক্যান্সার আক্রান্ত মা ২০১৬ সালে নাহিদুর রহমানের কোলে মাথা রেখে মারা যান বলে জানান, নিহতের অশীতিপর বৃদ্ধ বাবা মতিয়ার রহমান।
বুধবার বিকেল ৩টায় বাঁধাঘাট ঈদগাহ মাঠে জানাজা শেষে মায়ের কবরের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন নাহিদ ও তার স্ত্রী-সন্তানেরা।
এর আগে অগ্নিকাণ্ডে নিহত ১০ জনের লাশ গত মঙ্গলবার বিকেল ৩টার দিকে স্বজনদের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়। দীর্ঘ ১০ দিন পর ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে তাদের পরিচয় নিশ্চিত হলে কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কক্সবাজার সদর হাসপাতাল মর্গ থেকে এসব লাশ স্বজনদের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়। সেই সঙ্গে দাফনকার্য সম্পন্নে নিহতদের প্রতিটি পরিবারকে ৫০ হাজার টাকা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়।
একই পরিবারের নিহত ছয়জনের লাশ ওই পরিবারের স্বজন আমিনুর রহমান এবং অপর একই পরিবারের নিহত চারজনের লাশ বড় ভাই জাহিদুর রহমানের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
জাহিদুর রহমান জানান, সদর হাসপাতাল মর্গ থেকে তার ছোট ভাই ও তার স্ত্রী-সন্তানদের লাশ হস্তান্তরের সময় উপস্থিত ছিলেন-কক্সবাজার জেলা প্রশাসক আবদুল মান্নান, বিশেষ পুলিশ সুপার (সিআইডি) মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ, পুলিশ সুপার সাজেদুর রহমানসহ জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন ও সিআইডির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
তিনি আরও জানান, গত ১৭ অক্টোবর সকাল ৭টার দিকে অগ্নিকাণ্ডের পর থেকে তার ছোট ভাই নাহিদুর রহমান (৪১), তার স্ত্রী আফসানা মতিন তানজী (৩৬) ও তাদের দুই শিশুসন্তান রোজাইনা ইনায়া (৭) ও মুনাইনা ইহানা (৩) নিখোঁজ হন। ওই দিনই রিসোর্টের একটি ওয়াশরুম থেকে একসঙ্গে চারজনের লাশ উদ্ধার হয়। পরদিন তারা সেখানে পৌঁছার পর উদ্ধারকৃত ওই চারজনের লাশ তাদের স্বজনদের বলে তারা ধারণা করেন। কিন্তু উদ্ধারকৃত লাশ অগ্নিদগ্ধ হয়ে চেনার উপায় না থাকায় ডিএনএ পরীক্ষার পর তা শনাক্ত হয়।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ