খুলনা | বৃহস্পতিবার | ২৯ অক্টোবর ২০২৬ | ১৩ কার্তিক ১৪৩৩

প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিজ দেশের এ্যাম্বাসেডর হিসেবে কাজ করার আহবান তারেক রহমানের

খবর প্রতিবেদন |
০১:২৮ এ.এম | ২৯ অক্টোবর ২০২৬


প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিজ দেশের এ্যাম্বাসেডর হিসেবে কাজ করার আহবান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।  বুধবার জাপানে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ আহবান জানান। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন সহধর্মিণী ডাঃ জুবাইদা রহমান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশকে জাপান সরকারের সামনে নতুনভাবে উপস্থাপন করেছি। তারা কীভাবে আরও বিনিয়োগ করতে পারে, সে বিষয়ে আলোচনা করেছি। বিভিন্ন ব্যবসায়ীদের সঙ্গেও আলাপ হয়েছে। তারা বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে প্রস্তুত। এই বিনিয়োগে দেশের চাহিদা পূরণ হবে। মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারব।
তরুণদের শক্তিকে কাজে লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, যদিও অনেকে বলেন বাংলাদেশের জনসংখ্যা ১৬-১৭ কোটি। কিন্তু আমার ধারণা ২০ কোটির কম হবে না। এর মধ্যে তরুণদের সংখ্যাই বেশি। কর্মসংস্থান তাদের প্রয়োজন। কিন্তু পৃথিবীর ইকোনমি পাল্টে গেছে। এখন সরকার ব্যবসা করে না। ব্যক্তি পর্যায়ে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরি করাই এখন সরকারের কাজ। 
উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগ পরিবেশ করে দিতে সরকার কাজ করছে জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, কর্মসংস্থান তৈরিতে দেশীয় উদ্যোক্তা এবং ব্যবসায়ীদের সুযোগ তৈরি করছে সরকার। ২০২৭ সালের মধ্যে ৪৬টি বন্ধ মিল কারখানা চালু করা হবে। যে ব্যবস্থা নিলে কর্মসংস্থান তৈরি হবে, সব ধরনের ব্যবস্থা সরকার শুরু করেছে, সামনেও করবে।
এ সময় সরকার প্রধান বলেন, বিএনপিই প্রথম রাজনৈতিক দল, যারা রাষ্ট্র গঠনে সংস্কারের কথা বলেছিল। প্রাথমিক শিক্ষা এবং পুরো শিক্ষাব্যবস্থা যত মজবুত করা যাবে, জাতি তত উন্নত হবে। বাংলা, ইংরেজির পাশাপাশি তৃতীয় ভাষা শিক্ষা চালু করতে যাচ্ছে সরকার। সেখানে জাপানি ভাষাসহ আরও কিছু ভাষা থাকবে। শিশুরা তাদের তৃতীয় ভাষা বেছে নিতে পারবে। আগামী বছর থেকেই এটি শুরু হবে বলেও জানান তিনি।
স্বাস্থ্য সেবার উন্নয়নে সরকার কাজ করছে জানিয়ে তিনি বলেন, আমাদের দেশে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা খুবই অপ্রতুল। এটি উন্নত করার চেষ্টা করছে সরকার। সব উপজেলা হাসপাতালকে ১৫০ বেডে উন্নীত করা হবে। উপজেলায় ডায়ালাইসিস চালু হবে। শিশু এবং নারীদের জন্যও আলাদা ওয়ার্ড করা হবে বলেও জানান তিনি। 
চার দিনের সরকারি সফরে স্থানীয় সময় সোমবার সকাল সোয়া ৯টায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বাণিজ্যিক ফ্লাইটে সরকার প্রধান ও তার সফরসঙ্গীরা নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। মঙ্গলবার টোকিওতে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ‘কানতেই’-এ দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও সানায়ে তাকাইচির নেতৃত্বে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পর যৌথ ঘোষণা আসে।
এতে বলা হয়, দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ককে নতুন পর্যায়ে নিতে ‘বিগ-বি’ উদ্যোগকে ‘অভিন্ন সমৃদ্ধির লক্ষ্যে বিগ-বি’ নামে এগিয়ে নেয়া হবে। এ উদ্যোগের আওতায় বিদ্যুৎ, জ্বালানি, গভীর সমুদ্রবন্দর, শিল্প ও তথ্যযোগাযোগ প্রযুক্তির অবকাঠামো উন্নয়নে সমন্বিত ভাবে কাজ করবে দুই দেশ। এর মাধ্যমে শিল্পের মূল্য সংযোজন ও সরবরাহ ব্যবস্থার গুরুত্বপ‚র্ণ কেন্দ্র গড়ে তোলা, বাণিজ্য ও পণ্য সরবরাহের প্রবেশদ্বার হিসেবে বাংলাদেশকে গড়ে তোলা এবং প্রবৃদ্ধি ও সমৃদ্ধি বাড়ানো হবে।
এ জন্য চারটি ক্ষেত্রে কাজ করা হবে-যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন; প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও ভ‚রাজনৈতিক অনিশ্চয়তাসহ বিভিন্ন ঝুঁকি মোকাবিলার সক্ষমতা বাড়ানো; অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সুযোগ তৈরি ও নীতিমালা প্রণয়নে সরকারি- বেসরকারি অংশীদারিত্ব বাড়ানো এবং শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় সহযোগিতা জোরদার করা।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ