খুলনা | বৃহস্পতিবার | ২৯ অক্টোবর ২০২৬ | ১৩ কার্তিক ১৪৩৩

রাষ্ট্রীয় ব্যাংককে রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতার হাতিয়ার করা যাবে না : ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ

খবর প্রতিবেদন |
০১:৩১ এ.এম | ২৯ অক্টোবর ২০২৬


রাষ্ট্রীয় ব্যাংকগুলোকে রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা ও অন্যায় ভাবে সুবিধা বিুরণের প্রতিষ্ঠানে পরিণত না করার আহবান জানিয়েছেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ। বুধবার বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের (বিআইবিএম) আয়োজনে ১১তম বার্ষিক ব্যাংকিং সম্মেলন (এবিসি) ২০২৬-এর প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন বিশ্বব্যাংক-বাংলাদেশ ও ভুটানের ডিভিশন ডিরেক্টর জন পিসুমে, বাংলাদেশ এ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকস (বিএবি)-এর চেয়ারম্যান ও ঢাকা ব্যাংক পিএলসির চেয়ারম্যান মোঃ আবদুল হাই সরকার এবং সিটি ব্যাংক পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এবং অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশ লিমিটেডের (এবিবি) চেয়ারম্যান মাসরুর আরেফিন।
ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন, ‘আর্থিক খাত পুরো অর্থনীতির ‘‘হৃদপিন্ড’’। তাই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যাংকিং ও আর্থিক খাতকে ব্যবহার করা কোনো ভাবেই ঠিক নয়। এ বিষয়ে রাজনৈতিক সরকারকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে।’
ব্যাংকিং খাতের সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘অতীতে বাংলাদেশ ব্যাংক ও ব্যাংকিং খাত সংস্কারের মাধ্যমে ঋণখেলাপির সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে বেসরকারি ব্যাংকের একটি বড় অংশকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা সম্ভব হয়েছিল। কিন্তু আওয়ামী লীগ শাসনামলে কিছু বিধিবিধান শিথিল করার ফলে ব্যাংকিং খাত আবারও বড় ধরনের সংকটে পড়েছে।’
তিনি বলেন, ‘ব্যাংকিং খাতের বর্তমান সংকট মোকাবিলায় কিছু ক্ষেত্রে পুনঃঅর্থায়ন ও প্রয়োজনীয় শিথিলতা দিতে হতে পারে। তবে এক্ষেত্রে যথাযথ সুরক্ষা ব্যবস্থা থাকতে হবে। প্রকৃত উদ্যোক্তা ও প্রকৃত ব্যবসায়ীদের যাচাই করে অর্থায়নের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে, যাতে আগের ভুলের পুনরাবৃত্তি না ঘটে।’তিনি আরও বলেন, ‘শুধু নিয়ম ও বিধিবিধান দিয়ে ব্যাংকিং খাতের সুশাসন নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। এর সাথে ব্যাংকার, উদ্যোক্তা ও শিল্পোদ্যোক্তাদের মধ্যে ন্যূনতম নৈতিকতা থাকতে হবে। নৈতিকতার ঘাটতি থাকলে যত বেশি নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হোক না কেন, তা কার্যকর হবে না।’
রাষ্ট্রীয় ব্যাংকের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘বেসরকারি ব্যাংকিং খাতে বিভিন্ন সংস্কারের মাধ্যমে অনেক ক্ষেত্রে উন্নতি হলেও রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংকের ক্ষেত্রে পুরোনো সমস্যা অনেকটাই রয়ে গেছে। রাজনৈতিক সরকারগুলো দীর্ঘদিন ধরে রাষ্ট্রীয় ব্যাংকগুলোকে বিভিন্ন সুবিধা বিুরণের প্রতিষ্ঠান হিসেবে ব্যবহারের সুযোগ নিয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতার সংস্কৃতি কখনো বেশি, কখনো কম থাকলেও ব্যাংকিং ও আর্থিক খাতে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। তবে রাজনৈতিক কারণে সুবিধা বিুরণের প্রয়োজন হলে অর্থনীতির ক্ষতি না হয়-এমন ক্ষেত্র বেছে নেওয়া উচিত। কিন্তু দেশের পুরো অর্থনীতির ‘হৃদপিন্ড’ আর্থিক খাত ও ব্যাংকিং ব্যবস্থাকে রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতার আওতায় আনা উচিত নয়।’
ড. ওয়াহিদউদ্দিন বলেন, এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক বা ব্যাংকারদের এককভাবে কিছু করার নেই; এটি শেষ পর্যন্ত রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের বিষয়। রাজনৈতিক সরকারকে বিষয়টি অনুধাবন করতে হবে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, দেশের সাম্প্রতিক পরিবর্তন ও অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে সরকার ও সংশ্লিষ্টরা আর্থিক ও ব্যাংকিং খাতে অতীতের ভুলের পুনরাবৃত্তি করবেন না।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ