খুলনা | বৃহস্পতিবার | ২৯ অক্টোবর ২০২৬ | ১৩ কার্তিক ১৪৩৩

হাইকোর্টে আগাম জামিন খারিজ, ইডি দপ্তর থেকে বেরোতেই গ্রেফতার ইন্দ্রনীল সেন

খবর প্রতিবেদন |
০১:৩৫ এ.এম | ২৯ অক্টোবর ২০২৬


হাইকোর্টে খারিজ হয়েছিল আগাম জামিনের আবেদন। সুপ্রিম কোর্টেও গ্রেফতারি এড়ানোর চেষ্টায় মেলেনি তাৎক্ষণিক স্বস্তি। শেষ পর্যন্ত দুর্গাপূজার প্রবেশপত্র বিক্রিকে কেন্দ্র করে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে কলকাতা পুলিশের হাতে গ্রেফতার হলেন পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মন্ত্রী ও বিশিষ্ট সংগীতশিল্পী ইন্দ্রনীল সেন।
বুধবার সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার দফতরে হাজিরা দিতে গিয়েছিলেন তিনি। সেখান থেকে বেরিয়ে আসার পরই তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ বলে জানা গেছে।
ইন্দ্রনীল সেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ, কলকাতার দুর্গাপূজা আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাওয়ার পর সেই স্বীকৃতির নাম ব্যবহার করে বিশেষ প্রবেশপত্র ও আগাম মণ্ডপ দর্শনের টিকিট বিক্রির মাধ্যমে বিপুল অর্থ সংগ্রহ করা হয়েছিল। এই অভিযোগের তদন্ত করছে কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ। পাশাপাশি সংগৃহীত অর্থের লেনদেন ও গতিপথ খতিয়ে দেখছে কেন্দ্রীয় আর্থিক তদন্তকারী সংস্থা।
অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছে ‘মাস আর্ট’ নামে একটি সাংস্কৃতিক সংস্থা, যার সঙ্গে ইন্দ্রনীল সেনের স্ত্রী মধুছন্দা সেন যুক্ত বলে জানা গেছে। অভিযোগ, আন্তর্জাতিক সাংস্কৃতিক সংস্থার অনুমোদিত সহযোগী হিসেবে নিজেদের পরিচয় দিয়ে দুর্গাপূজার আগে কলকাতার ২৪টি নির্বাচিত মণ্ডপে বিশেষ দর্শনের জন্য টিকিট বিক্রি করা হয়েছিল। প্রতিটি টিকিটের দাম ছিল প্রায় ১ হাজার ৭৪৯ টাকা থেকে ৫ হাজার ৪৯৯ টাকা।
তদন্তকারীদের প্রশ্ন, সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক সংস্থার নাম ও প্রতীক ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় অনুমোদন আদৌ ছিল কি না। এই অনুমোদন এবং টিকিট বিক্রির মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থের হিসাবও তদন্তের আওতায় রয়েছে।
এই ঘটনায় বউবাজার থানায় অভিযোগ দায়ের হওয়ার পর তদন্ত শুরু করে কলকাতা পুলিশ। অভিযোগের সূত্র ধরে ইন্দ্রনীল সেন ও তাঁর স্ত্রীর নাম সামনে আসে। অন্যদিকে, বিপুল অঙ্কের অর্থ সংগ্রহ এবং সেই অর্থ কোথায় ও কীভাবে ব্যবহার করা হয়েছে, তা খতিয়ে দেখতে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাও তদন্ত শুরু করে।
তদন্তের অংশ হিসেবে ইন্দ্রনীল সেনের একাধিক ঠিকানা এবং তার সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালানো হয়। এর আগেও তাকে একাধিকবার সিজিও কমপ্লেক্সে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল। প্রতিবারই দীর্ঘ সময় ধরে তাঁর বক্তব্য এবং আর্থিক লেনদেন-সংক্রান্ত নথি খতিয়ে দেখেন তদন্তকারীরা।
তদন্তকারী সূত্রের খবর, ব্যাংকের হিসাব, আয়-ব্যয়ের বিবরণ এবং সংশ্লিষ্ট সাংস্কৃতিক সংস্থার আর্থিক নথি নিয়ে তাকে প্রশ্ন করা হয়েছিল। টিকিট বিক্রি থেকে কত টাকা সংগ্রহ হয়েছিল এবং সেই অর্থের লেনদেন কীভাবে হয়েছে, তা জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা।
হাইকোর্টে খারিজ আগাম জামিন, সুপ্রিম কোর্টেও তাৎক্ষণিক সুরক্ষা মেলেনি : গ্রেফতারের আশঙ্কায় প্রথমে কলকাতা হাইকোর্টে আগাম জামিনের আবেদন করেছিলেন পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মন্ত্রী। কিন্তু বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের বেঞ্চ তার আবেদন খারিজ করে দেয়। এরপর গ্রেফতারি এড়াতে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন তিনি। সেখানেও তাৎক্ষণিক রক্ষাকবচ না মেলায় তাঁর গ্রেফতারির আশঙ্কা আরও বেড়ে যায়।
সুপ্রিম কোর্টে মামলার শুনানি নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়। পরবর্তী শুনানির জন্য ২ নভেম্বর তারিখের কথা প্রকাশ্যে আসে। এর মধ্যেই বুধবার কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার দফতরে হাজিরা দিতে যান ইন্দ্রনীল সেন।
সিজিও কমপ্লেক্স থেকে বেরোতেই গ্রেফতার : বুধবার ইন্দ্রনীল সেনের সিজিও কমপ্লেক্সে হাজিরাকে ঘিরে নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়ায়। দফতরের ভিতরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছিল। বাইরে মোতায়েন ছিলেন কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের আধিকারিকরা। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তিনি দফতর থেকে বেরিয়ে আসার পরই পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে বলে জানা যায়।
এই গ্রেফতারির ঘটনায় দুর্গাপূজার প্রবেশপত্র বিক্রিকে কেন্দ্র করে ওঠা আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ নতুন মাত্রা পেল। তবে ঠিক কোন মামলায় এবং কোন ধারায় তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে।
তদন্তের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে নজর : এই মামলায় ওঠা অভিযোগের সত্যতা আদালতে প্রমাণিত হওয়া এখনও বাকি। টিকিট বিক্রির হিসাব, সংগৃহীত অর্থের লেনদেন এবং তদন্তে পাওয়া নথিপত্রের ভিত্তিতে কলকাতা পুলিশ ও কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে।
গ্রেফতারের পর ইন্দ্রনীল সেনকে আদালতে তোলার প্রক্রিয়া এবং পুলিশের আনুষ্ঠানিক বক্তব্যের ওপর এখন নজর রয়েছে। তদন্তে আর কী তথ্য উঠে আসে এবং মামলার পরবর্তী শুনানিতে কী হয়, তা জানার অপেক্ষায় সংশ্লিষ্ট মহল।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ