খুলনা | বৃহস্পতিবার | ২৯ অক্টোবর ২০২৬ | ১৩ কার্তিক ১৪৩৩

ট্রাজেডিতে নগর জামায়াতের সভায় মাহফুজুর

২৮ অক্টোবরের সেই পৈশাচিক ও নারকীয় হত্যাকান্ডের বিচার নিশ্চিত করতে হবে

খবর বিজ্ঞপ্তি |
০১:৫২ এ.এম | ২৯ অক্টোবর ২০২৬


জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও মহানগরী আমীর মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান বলেছেন, রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে কখনো কোনো শোষকের ভিত স্থায়ী হতে পারে না। শহীদের রক্তের প্রতিটি ফোটা আমাদের ঈমানি শক্তি ও লড়াই করার প্রেরণা জোগায়। কোনো জুলুম-নির্যাতনই হক ও ইনসাফের পথ থেকে আমাদের বিচ্যুত করতে পারেনি, আর পারবেও না। ২৮ অক্টোবরের সেই পৈশাচিক ও নারকীয় হত্যাকান্ডের বিচার নিশ্চিত করতে এবং সত্য, ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় সকলকে ঐক্যবদ্ধ ভূমিকা পালন করতে হবে। 
বুধবার বিকেলে নগরীর আল ফারুক সোসাইটি মিলনায়তনে মহানগরী জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে ২৮ অক্টোবরের নারকীয় হত্যাকান্ডের বিচারের দাবিতে আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।  
মহানগরী সেক্রেটারি এড. শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলাল এমপির পরিচালনায় বক্তৃতা করেন ও উপস্থিত ছিলেন নায়েবে আমীর অধ্যাপক নজিবুর রহমান, সহকারী সেক্রেটারি এড. শাহ আলম ও আজিজুল ইসলাম ফারাজী, মহানগরী ছাত্রশিবিরের সভাপতি রাকিব হাসান, মীম মিরাজ হোসাইন, ড. আবু রুবাবা, মাওলানা আবু বকর সিদ্দিক, মুহাম্মদ আব্দুল গফুর, মাওলানা শাহারুল ইসলাম, অধ্যাপক জুলফিকার আলী, সদর থানা আমীর এস এম হাফিজুর রহমান, সোনাডাঙ্গা থানা আমীর জি এম শহিদুল ইসলাম, খালিশপুর থানা আমীর মুহাঃ আব্দুল্লাহ আল মামুন, দৌলতপুর থানা আমীর মুশাররফ আনসারী, আড়ংঘাটা থানা আমীর মাওলানা মোনাওয়ার আনসারী, পেশাজীবী থানা আমীর জাফর সাদিক, ব্যবসায়ী থানা সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান, সদর সেক্রেটারি আব্দুস সালাম, সোনাডাঙ্গা থানা সেক্রেটারি জাহিদুর রহমান নাঈম, খালিশপুর থানা সেক্রেটারি আব্দুল আওয়াল, দৌলতপুর থানা সেক্রেটারি আলমগীর মহিউদ্দিন, ব্যবসায়ী থানা সেক্রেটারি আজিজুর রহমান স্বপন প্রমুখ।
মহানগরী আমীর বলেন, ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক অভিশপ্ত ও কলঙ্কিত দিন। তৎকালীন চারদলীয় জোট সরকারের মেয়াদ শেষে যখন একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রস্তুতি চলছিল, ঠিক তখনই আওয়ামী লীগ ও তার মিত্র গোষ্ঠী পল্টনের রাজপথে যে পৈশাচিক নারকীয়তা চালিয়েছিল, তা বিশ্ববিবেককে স্তব্ধ করে দিয়েছিল। 'লগি-বৈঠা' নিয়ে হিংস্র হায়েনার মতো মেতে উঠেছিল নিরীহ মানুষের রক্তের হোলিখেলায়। সাপের মতো পিটিয়ে মানুষ হত্যা করার পর লাশের ওপর লাফিয়ে পড়ে যে উল্লাস প্রকাশ করা হয়েছিল তা কেবল মানবতা বিরোধীই ছিল না, ছিল সভ্যতার মুখে এক চরম চপেটাঘাত।
মাহফুজুর রহমান বলেন, ২৮ অক্টোবরের লগি-বৈঠার তান্ডবের মাধ্যমেই বাংলাদেশে আইন ও বিচার ব্যবস্থার প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। এর ধারাবাহিকতায় এই দেশে সূচনা হয়েছিল দীর্ঘকালের ভোটাধিকার হরণ, গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাকান্ড এবং স্বৈরাচারী শাসনের। যারা নিজেদেরকে গণতন্ত্রের মানসকন্যা ও রক্ষক বলে দাবি করত, তাদের সেই ভন্ডামির মুখোশ সেদিন রাজপথেই উন্মোচিত হয়ে গিয়েছিল।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ