খুলনা | শুক্রবার | ৩০ অক্টোবর ২০২৬ | ১৫ কার্তিক ১৪৩৩

আতঙ্কিত শহর, ধারাবাহিক ভাঙচুরের পর চাঁদাবাজির দাবি, হুমকিতে বন্ধ চয়নিকা ফার্মেসি, আত্মগোপনে ব্যবসায়ী

নিজস্ব প্রতিবেদক |
১২:৫২ এ.এম | ৩০ অক্টোবর ২০২৬


নগরীর টুটপাড়া সেন্ট্রাল রোডের চয়নিকা ফার্মেসির মালিকের কাছে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি ও হুমকির অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনার পর থেকে নিরাপত্তার ঝুঁকিতে ফার্মেসি বন্ধ রেখেছেন মালিকপক্ষ এবং ব্যবস্থাপকও বাড়ি ছেড়ে পালিয়েছেন। উদ্বেগ দেখা দিয়েছে স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, পাঁচ দিন আগে চয়নিকা ফার্মেসির ম্যানেজার বাবুর মুঠোফোনে কল করে খুলনার একটি সন্ত্রাসী বাহিনীর প্রধান পরিচয়ে ২০ লাখ টাকা ও ১০টি মোটরসাইকেল চাঁদা দাবি করেন। একই সঙ্গে বিষয়টি প্রতিষ্ঠানের মালিককে জানাতে বলা হয়। জবাবে বাবু বলেন, ‘আমি এ প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী। আমাকে বলে কোনো লাভ নেই।’ এর দুইদিন পর ওই বাহিনীর দুই সদস্য সরাসরি ফার্মেসিতে গিয়ে ম্যানেজার বাবুর সঙ্গে দেখা করেন। তাঁরা আবারও চাঁদার দাবি জানান এবং টাকা না দিলে প্রতিষ্ঠানের মালিককে হত্যার হুমকি দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এরপর আতঙ্কে বুধবার রাত সাড়ে ৮টার পর ফার্মেসিটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। দীর্ঘ দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে চিকিৎসাসেবা দিয়ে যাওয়া এই পরিচিত প্রতিষ্ঠানটি হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় স্থানীয় সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে।
চয়নিকা ফার্মেসির মালিকের বাড়িতে গেলে প্রথমে তার অনুপস্থিতির কথা জানানো হলেও পরে তিনি জানালার আড়াল থেকে প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা বলেন। তবে চাঁদা দাবির বিষয়টি তিনি এড়িয়ে যান।
মিয়াপাড়া সুলতানা হামিদ আলী স্কুলের পাশের একটি পাঁচতলা ভবনের নিচতলায় থাকেন ম্যানেজার বাবু। সেখানে গিয়ে তার ঘরের দরজায় তালা ঝুলতে দেখা যায়। প্রতিবেশীরা জানান, কবে কখন তিনি বাড়ি ছেড়ে চলে গেছেন, তা তারা নিশ্চিত করে বলতে পারেননি।
ফার্মেসির আশপাশের ব্যবসায়ীরা জানান, সাধারণত তারা গভীর রাত পর্যন্ত দোকান খোলা রাখেন। কিন্তু গত বুধবার রাত সাড়ে ৯টার পর থেকে চয়নিকা ফার্মেসি বন্ধ রয়েছে এবং বৃহস্পতিবারও কোনো দোকান খোলা হয়নি।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় এক যুবক বলেন, একটি সন্ত্রাসী বাহিনীর প্রধান পরিচয়ে ফোন করে ম্যানেজারের কাছে ২০ লাখ টাকা ও ১০টি মোটরসাইকেল চাঁদা দাবি করা হয়েছে। এরপর থেকেই ফার্মেসিটি বন্ধ রয়েছে।
এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা অভিযোগ করেন, টুটপাড়া সেন্ট্রাল রোড এলাকায় কিশোর গ্যাং ও অপরাধী চক্রের তৎপরতায় তাঁরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তাঁদের দাবি, প্রায় এক মাস আগে ‘সেই স্বাদ’ বিরিয়ানির মালিকের কাছেও চাঁদা দাবি করা হয়েছিল। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্ত ব্যক্তিরা সেখানে নিয়মিত যাতায়াত করতেন বলে তাঁরা জানান।
এ বিষয়ে খুলনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ লোকমান হোসেন রিপন বলেন, চাঁদা দাবির বিষয়টি তিনি শুনেছেন। তবে ভুক্তভোগীরা নির্দিষ্ট করে কারো নাম বা সুনির্দিষ্ট তথ্য জানাননি এবং থানায় কোনো লিখিত অভিযোগও করেননি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উলে­খ্য, এর আগে চাঁদা না দেওয়ায় নগরীর কুইন্স হাসপাতাল, সন্ধানী ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার এবং রেস্তোরাঁ চাইনিজ প্যালেসে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছিল।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ