খুলনা | শুক্রবার | ৩০ অক্টোবর ২০২৬ | ১৫ কার্তিক ১৪৩৩

মেঘনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে জেলেদের সংঘর্ষ, গুলিতে নিহত ১

খবর প্রতিবেদন |
০১:৩৩ এ.এম | ৩০ অক্টোবর ২০২৬


বরিশালে মেঘনা নদীতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য এবং জেলেদের মধ্যে সংঘর্ষকালে গুলিবিদ্ধ হয়ে আকতার হোসেন হাওলাদার (৪০) নামে এক জেলে নিহত হয়েছেন। আরও চার জেলে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। তাদের গোপনে বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে। বৃহস্পতিবার বরিশালের হিজলা উপজেলার গৌরবদী ইউনিয়নের শাওড়া অরাকুল মাছ ঘাট-সংলগ্ন এলাকায় মেঘনা নদীতে এ সংঘর্ষ হয়। নিহত আকতার হোসেন হিজলা উপজেলার মেমানিয়া ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের চর মেমানিয়া গ্রামের বাসিন্দা সুলতান হাওলাদারের ছেলে। 
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ইলিশ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞার শেষ দিন বুধবার (২৮ অক্টোবর) দিবাগত শেষরাতে মেঘনা নদীতে জেলেদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এ সংঘর্ষ হয়। 
তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা বলেন, ২১ দিনের নিষেধাজ্ঞা চলাকালে ঢিলেঢালা অভিযান চালানো হলেও শেষ দিনে অভিযানে কঠোরতা প্রমাণে গুলিবর্ষণ করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, বুধবার দিবাগত রাতে মেঘনা নদীতে মাছ ধরতে যান আকতার হোসেন ও তার সহযোগীরা। শেষরাতে হিজলা উপজেলার গৌরবদী ইউনিয়নের শাওড়া অরাকুল মাছ ঘাট-সংলগ্ন এলাকায় মেঘনা নদীতে অভিযান পরিচালনাকারী আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটি দলের সঙ্গে জেলেদের সংঘর্ষ হয়। এ সময় আত্মরক্ষার্থে অভিযানিক দল এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়ে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ের এক কর্মকর্তা বলেন, ল²ীপুরের রায়পুর-সংলগ্ন মেঘনা নদীতে মা ইলিশ রক্ষায় অভিযান চালাচ্ছিলেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। এ সময় জেলে ও অভিযানিক দলের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। আত্মরক্ষার্থে অভিযানিক দলের ছোড়া গুলি আকতার হোসেনের বুকে লাগে। পাশাপাশি আরও চার জেলে গুলিবিদ্ধ হন। পরে গুলিবিদ্ধ আকতার হোসেনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। বর্তমানে তার (আকতার) মরদেহ হিজলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রাখা হয়েছে। ঘটনার পর আহত জেলেরা আত্মগোপনে চলে গেছেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও আহত জেলেদের বরাত দিয়ে নিহতের বোন সাথী আক্তার স্থানীয় সংবাদ কর্মীদের জানিয়েছেন, আকতার হোসেন হালদারসহ অন্যরা বুধবার রাতে মাছ শিকারের জন্য মেঘনা নদীতে গিয়েছিলেন। বৃহস্পতিবার ভোরে মেঘনা নদীর হিজলা উপজেলার গৌরবদী ইউনিয়নের শাওড়া অরাকুল মাছ ঘাট-সংলগ্ন এলাকায় কোস্ট গার্ড এবং চাঁদপুর নৌ পুলিশের অতর্কিত গুলিতে তার ভাই গুরুতর আহত হন। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে প্রথমে হিজলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে আকতার হোসেন হাওলাদারের মৃত্যু হয়। যদিও কোস্ট গার্ড এবং নৌ পুলিশ অভিযানে অংশ কথা অস্বীকার করেছে।  তিনি বলেন, “আমাদের পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো প্রকার অভিযোগ নেই। তাই, আমরা ভাইয়ের লাশ ময়নাতদন্ত ছাড়াই দাফন করতে চাই।”
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কোস্ট গার্ড দক্ষিণ জোনের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সংঘর্ষের সময় মেঘনায় কোস্ট গার্ডের কোনো অভিযান চলছিল না। 
নৌ পুলিশের বরিশাল অঞ্চলের দায়িত্বপ্রাপ্ত এক কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, নৌ পুলিশেরও কোনও অভিযান ছিল না।
হিজলা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা কে এম মাহফুজুর রহমান জানিয়েছেন, জেলের মৃত্যুর বিষয়টি বৃহস্পতিবার সকালে তিনি জানতে পেরেছেন। বুধবার রাতে তাদের কোনো অভিযানিক দল মেঘনা নদীতে যায়নি। তাদের স্পিডবোট দুই দিন ধরে বিকল থাকায় ছোট ট্রলার নিয়ে গত দুই দিন সীমিত পরিসরে অভিযান চালানো হয়েছে।  তিনি বলেন, অন্য কোনো জেলার অভিযানিক দল সেখানে অভিযান পরিচালনা করে থাকতে পারে।
মেমোনিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আফসার উদ্দিন জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার ভোরে কয়েকজন জেলে তাকে খবর দিয়েছে যে, মেঘনা নদীতে এক জেলেকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় ফেলে রাখা হয়েছে। খবর পেয়ে তিনি গিয়ে ওই জেলেকে উদ্ধার করেন। এরপর পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ এসে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। তবে, কে বা কারা গুলি করেছে, সে বিষয়টি এখনও জানা যায়নি।
হিজলা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সোলাইমান হোসেন জানিয়েছেন, এ বিষয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। আখতারের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। এ ঘটনায় তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ