খুলনা | শুক্রবার | ৩০ অক্টোবর ২০২৬ | ১৫ কার্তিক ১৪৩৩

১১ দলীয় ঐক্যের প্রেসব্রিফিং

৩১ অক্টোবরের লংমার্চ শুধু রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়

খবর বিজ্ঞপ্তি |
০১:৫৭ এ.এম | ৩০ অক্টোবর ২০২৬


১১ দলের লংমার্চ বাস্তবায়ন কমিটি খুলনার আহবায়ক ও মহানগর জামায়াতের আমীর মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান বলেন, লংমার্চ শুধু রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়; জনগণের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক দাবি তুলে ধরার গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ। বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের জীবনযাত্রা কঠিন হয়ে পড়েছে। জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় এ কর্মসূচি ভ‚মিকা রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি, চাঁদাবাজি বন্ধ, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নসহ সাত দফা দাবিতে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-খুলনা-কুষ্টিয়া লংমার্চ উপলক্ষে মহানগরীর ঐতিহাসিক বাবরী চত্বর (শিববাড়ী) ও ফুলতলা বাসস্ট্যান্ডের পথসভা সফল করতে বৃহস্পতিবার দুপুরে খুলনা প্রেসক্লাবে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন। ১১ দলীয় ঐক্য খুলনার উদ্যোগে এ প্রেসব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়। 
প্রেসব্রিফিংয়ে অন্যান্যের মধ্যো বক্তৃতা করেন ও উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের অঞ্চল পরিচালক অধ্যক্ষ মোঃ ইজ্জত উল্লাহ এমপি, খুলনা অঞ্চল টিম সদস্য মাওলানা আবুল কালাম আজাদ এমপি, মহানগর সেক্রেটারি এড. শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলাল এমপি, এনসিপির মহানগর আহবায়ক আহম্মদ হামিম রাহাত, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহানগর সভাপতি মুফতি শরীফ সাইদুর রহমান, লেবার পার্টির সভাপতি অধ্যক্ষ মোঃ সাইফুদ্দোহা, বিডিপির মহানগর সভাপতি এড. মোঃ হানিফ উদ্দিন, জাগপার সভাপতি খান মোঃ রাশেদ, মহানগরী জামায়াতের নায়েবে আমীর অধ্যাপক নজিবুর রহমান, সহকারী সেক্রেটারি এড. শাহ আলম, প্রচার সেক্রেটারি মুহাম্মাদ আব্দুল গফুর, ইসলামী ছাত্রশিবিরের মহানগরী সভাপতি রাকিব হাসান, এনসিপির ফয়জুল্লাহ ইকবাল শাকিল, ডাঃ মোঃ আবদুল্লাহ চৌধুরী, আব্দুল খালেক শিকদার, খালিদ সাইফুল্লাহ, মোঃ মনির হোসেন, গাজী শরিফুল ইসলাম (ওহিদ), নূরুল আলম নূর, মোহাম্মাদুল্লাহ হাফেজী আরিয়ান, মোছাম্মদ জাকিয়া আক্তার, ছাত্রশিবির নেতা আব্দুর রশীদ, জামায়াত নেতা নাসিম মোল্লা প্রমুখ।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার ব্যর্থ হলে পদত্যাগ করা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও খুলনা অঞ্চল সহকারী পরিচালক মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক এমপি। তিনি বলেন, জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারকে আন্তরিক হতে হবে। তা করতে ব্যর্থ হলে সরকারের পদত্যাগ করা উচিত। আমরা আন্দোলন করছি, পরবর্তী সিদ্ধান্ত জনগণই নেবে।
১১ দলের লংমার্চ বাস্তবায়ন কমিটি খুলনার আহবায়ক মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান আরও জানান, ঐতিহাসিক এ লংমার্চ কর্মসূচি বাস্তবায়নে ১৭টি উপ-কমিটি গঠন করা হয়েছে। শৃঙ্খলা রক্ষায় দায়িত্ব পালন করবেন ১ হাজার ২৬৬ জন স্বেচ্ছাসেবক। শনিবার সকাল ৭টায় ঢাকার বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটে সমাবেশের পর সকাল ৮টায় গাড়িবহর যাত্রা করবে। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বাগেরহাটের কাটাখালি মোড়ে পথসভা অনুষ্ঠিত হবে। দুপুর সাড়ে ১২টায় মহানগরীর এবং সোয়া ২টার দিকে ফুলতলা বাসস্ট্যান্ডে পথসভায় আমীরে জামায়াত ডাঃ শফিকুর রহমানসহ ১১ দলের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত হবেন। পরে গাড়িবহর যশোরের মুরলী মোড়, চুয়াডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ডে পথসভা করে কুষ্টিয়ায় বিশাল সমাবেশের মাধ্যমে লংমার্চের এই তৃতীয় দফা সমাপ্ত ঘটবে ইনশাআল্লাহ। এখানে  প্রধান অতিথি থাকবেন বিরোধীদলীয় নেতা ও আমীরে জামায়াত ডাঃ শফিকুর রহমান। 
প্রচার-প্রচারণার কথা উল্লেখ করে তিনি বরেন, লংমার্চের বার্তা গণমানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চালানো হচ্ছে। প্রচারের অংশ হিসেবে আকর্ষণীয় পোস্টার,  হ্যান্ডবিল,  ফেস্টুন, ব্যানার ও বিলবোর্ড প্রস্তুত করা হয়েছে। এছাড়া কুদির বটতলা, রূপসা সেতু, জিরো পয়েন্ট, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে, গল্লামারী, ময়লাপোতা মোড়, জোড়াগেট, বৈকালী, নতুন রাস্তা, দৌলতপুর, ফুলবাড়িগেট, শিরোমনি, আফিস গেট, ফুলতলা থানাসহ ২০টি সুদৃশ্য তোরণ তৈরি করা হয়েছে, যা লংমার্চের পরিবেশকে আরও উৎসবমুখর ও প্রাণবন্ত করে তুলবে।
মঞ্চ নির্মাণের প্রস্তুতি তুলে ধরে মাহফুজুর রহমান বলেন, পথসভা সফল ও সুন্দর করার লক্ষ্যে মূল পথসভাস্থলে ৪৫/২৪ বর্গফুট বিশাল আকৃতির একটি  মঞ্চ নির্মাণের কাজ বর্তমানে দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। এছাড়া আমন্ত্রিত সম্মানিত অতিথি, সাংবাদিকবৃন্দ এবং দূর-দূরান্ত থেকে আসা সাধারণ অংশগ্রহণকারীদের সুবিধার্থে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও আধুনিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হচ্ছে। বিশেষ করে, চমৎকার সাউন্ড সিস্টেমের সুব্যবস্থা রাখতে দুই শতাধিক  হর্ন এবং আনুষঙ্গিক অন্যান্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
শৃঙ্খলা বিভাগ ও নিরাপত্তা ব্যাপারে তিনি বলেন, আসন্ন এই সমাবেশকে সম্পূর্ণ সুশৃঙ্খল ও শান্তিপূর্ণ রাখতে সুগঠিত শৃঙ্খলা বিভাগের অধীনে বিপুল সংখ্যক নিবেদিত প্রাণ স্বেচ্ছাসেবক মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালন করবেন। তারা সমাবেশস্থলে আগত সাধারণ মানুষকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করবেন এবং সার্বিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে তৎপর থাকবেন। পাশাপাশি, প্রশাসনের পক্ষ থেকেও আমাদের সার্বিক সহযোগিতা প্রদানের জন্য ইতিবাচক আশ্বাস প্রদান করা হয়েছে।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ