খুলনা | শনিবার | ৩১ অক্টোবর ২০২৬ | ১৫ কার্তিক ১৪৩৩

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে পরীক্ষামূলক উৎপাদন শুরু

খবর প্রতিবেদন |
০৫:৩১ পি.এম | ৩০ অক্টোবর ২০২৬

 

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে পরীক্ষামূলক বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হয়েছে।

শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) বিকেলে এ উৎপাদন কার্যক্রম শুরু হয়। এর মধ্য দিয়ে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের পথে আরও গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি অর্জন করল দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, আল­াহর রহমতে দুপুর ১২টায় দ্বিতীয় দফা পারমাণবিক বিক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। এরপর ধীরে ধীরে পরীক্ষামূলকভাবে নিয়ন্ত্রিত শক্তি উৎপাদন প্রক্রিয়া বা বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হবে।

প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রথম ইউনিটের রিঅ্যাক্টরে প্রাথমিক জ্বালানি লোডিং সম্পন্ন হওয়ার পর সেটি সর্বনিম্ন নিয়ন্ত্রণযোগ্য শক্তিস্তরে (এমসিপিএল) পৌঁছেছে। বাণিজ্যিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের পথে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ কারিগরি মাইলফলক। বর্তমানে বিভিন্ন পর্যায়ে সক্ষমতা বৃদ্ধি ও কারিগরি পরীক্ষা-নিরীক্ষার কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

এদিকে কেন্দ্রটির দ্বিতীয় ইউনিটের রিঅ্যাক্টরে প্রাথমিক জ্বালানি লোডিংয়ের প্রস্তুতিও শুরু হয়েছে। এ জন্য প্রয়োজনীয় পারমাণবিক জ্বালানির প্রথম চালান বাংলাদেশে পৌঁছেছে। পাশাপাশি প্রথম ইউনিটের পরবর্তী জ্বালানি পুনঃস্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় নতুন জ্বালানিও প্রকল্প এলাকায় আনা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) রাতে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু শক্তি করপোরেশন রসাটমের বাংলাদেশে নিযুক্ত জনসংযোগ বিভাগের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, রসাটমের জ্বালানি বিভাগের আওতাধীন নভোসিবিরস্ক কেমিক্যাল কনসেন্ট্রেট প্ল্যান্টে বিশেষ পারমাণবিক জ্বালানি অ্যাসেম্বলিগুলো তৈরি করা হয়েছে। এগুলোর প্রথম চালান বিশেষ কার্গো উড়োজাহাজে বাংলাদেশে আনা হয়। পাশাপাশি সাইবেরিয়া থেকে প্রথম ইউনিটের পরবর্তী রিফুয়েলিংয়ের জন্য প্রয়োজনীয় জ্বালানিও পাঠানো হয়েছে।

প্রকল্প এলাকায় পৌঁছানোর পর আন্তর্জাতিক বিকিরণ নিরাপত্তাবিধি অনুসরণ করে জ্বালানিভর্তি বিশেষ কনটেইনারগুলো নির্ধারিত সুরক্ষিত সংরক্ষণাগারে রাখা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, রিঅ্যাক্টরে স্থাপনের আগে প্রতিটি জ্বালানি অ্যাসেম্বলি চাক্ষুষ ও আধুনিক যন্ত্রের সাহায্যে পরীক্ষা করা হবে। এ জন্য বাংলাদেশ সরকারের প্রতিনিধি, মূল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এবং রুশ জ্বালানি প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে একটি যৌথ কমিশন কাজ করছে। সব পরীক্ষা ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত ছাড়পত্র কঠোর পারমাণবিক সুরক্ষাবিধি অনুসরণ করে সম্পন্ন করা হবে।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের আগে কয়েক ধাপে সক্ষমতা বৃদ্ধি ও কারিগরি পরীক্ষা সম্পন্ন করতে হবে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ) এবং বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের প্রয়োজনীয় চূড়ান্ত অনুমোদন নিতে হবে।

রাশিয়ার সর্বাধুনিক প্রজন্ম-৩+ প্রযুক্তির দুটি ভিভিইআর-১২০০ রিঅ্যাক্টর নিয়ে নির্মিত হচ্ছে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। প্রতিটি ইউনিটের উৎপাদনক্ষমতা ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট। দুটি ইউনিট পূর্ণ সক্ষমতায় চালু হলে কেন্দ্রটির মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনক্ষমতা দাঁড়াবে ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াটে।

প্রকল্পটির নকশা প্রণয়ন ও প্রধান সাধারণ ঠিকাদারের দায়িত্ব পালন করছে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু শক্তি করপোরেশন রসাটমের প্রকৌশল বিভাগ।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ