খুলনা | শনিবার | ৩১ অক্টোবর ২০২৬ | ১৬ কার্তিক ১৪৩৩

সার আমদানিতে জটিলতা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিন

|
১১:৫১ পি.এম | ৩০ অক্টোবর ২০২৬


দেশের কৃষক যেসব সমস্যা মোকাবেলা করে থাকেন, সেগুলোর মধ্যে অন্যতম সারসংকট। কখনো চাহিদা অনুযায়ী সার পাওয়া যায় না, কখনো সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে কিনতে হয়। সরবরাহ ও ডিলার নিয়োগে বড় অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া রয়েছে সার আমদানি নিয়ে নানা জটিলতা। প্রকাশিত খবরে জানা যায়, সার আমদানির ভর্তুকির টাকা সরকারের কাছেই আটকে আছে। এতে ব্যাংকঋণ পরিশোধে চাপের মুখে রয়েছে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি)।ফলে নতুন করে সার আমদানির ঋণপত্র (এলসি) খোলার অর্থায়ন নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। 
সা¤প্রতিক সময়ে জ্বালানিসহ নানা কারণে দেশে সার উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে। এ কারণে চাহিদার উল্লেখযোগ্য অংশ আমদানি করতে হয়। বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করা সার সরকার নির্ধারিত দামে কৃষকের কাছে বিক্রি করা হয়।
আন্তর্জাতিক বাজার থেকে সার কেনা, পরিবহন ও অন্যান্য ব্যয় মিলিয়ে প্রকৃত খরচ বিক্রয়মূল্যের চেয়ে বেশি হলে সরকার ভর্তুকির মাধ্যমে তা পূরণ করে। কিন্তু ভর্তুকির অর্থ সময়মতো ছাড় না হলে আমদানির জন্য নেওয়া ব্যাংকঋণ পরিশোধ কঠিন হয়ে পড়ে। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা, সারের দাম, ডলারের বিনিময় হার ও জাহাজভাড়া পরিবর্তনের কারণে আমদানি ব্যয় বাড়তে পারে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, আমদানি ব্যয় বাড়লেও কৃষক পর্যায়ে সেই অনুপাতে দাম বাড়ানো যায় না। এতে ভর্তুকির ওপর আরো চাপ বেড়ে যায়।
খবরে বলা হয়, বিএডিসির কাছে সরকারের ভর্তুকি বকেয়ার পরিমাণ ১০ হাজার ২৪৯ কোটি টাকা। অন্যদিকে নন-ইউরিয়া সার আমদানির বিপরীতে ব্যাংকগুলোর কাছে বিএডিসির দায় ২২ হাজার ৭৪২ কোটি ৯৪ লাখ টাকা। এই পরিস্থিতিতে সময়মতো এলসি খোলা না হলে ভবিষ্যতে সার আমদানি ব্যাহত হতে পারে, যার প্রভাব গিয়ে পড়বে কৃষি উৎপাদনে।
এদিকে গত ৯ সেপ্টেম্বর সরকারের তরফ থেকে বলা হয়, রবি ও বোরো মৌসুমে সারের মোট চাহিদা ৩৫ লাখ ৮৭ হাজার টন। এর বিপরীতে প্রস্তুত সরবরাহের পরিমাণ ৫১ লাখ ৭১ হাজার টন। দেখা যাচ্ছে, চাহিদার চেয়েও প্রস্তুত সরবরাহের পরিমাণ ১৫ লাখ টন বেশি। এ ক্ষেত্রে সরবরাহে অনিয়মের বিষয়টি সামনে আসে। একটি দৈনিকে প্রকাশিত খবরে জানা গেছে, ডিলার নিয়োগের নীতিমালায় আগে থেকে সার ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত আবেদনকারীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলা হলেও বাস্তবে রাজনৈতিক নেতাদের স্ত্রী, সন্তান, ভাই ও আত্মীয়দের ডিলারশিপ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া বিভিন্ন স্থানে বেশি দামে সার বিক্রির খবরও আসছে।
প্রকাশিত খবরে জানা যায়, দেশে সার উৎপাদন বাড়িয়ে আমদানিনির্ভরতা কমাতে আগামী নভেম্বর মাসের মধ্যে বন্ধ থাকা তিনটি সার কারখানা চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। পাশাপাশি বিদ্যমান কারখানা আধুনিকায়ন ও নতুন কারখানা স্থাপনের মাধ্যমে আগামী তিন থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে বার্ষিক সার উৎপাদন ২৭ লাখ মেট্রিক টনে উন্নীত করার পরিকল্পনা নিয়েছে বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি)। বলা বাহুল্য, এই উদ্যোগ অত্যন্ত সময়োপযোগী।
আমরা মনে করি, সারের ভর্তুকির অর্থ সময়মতো পরিশোধ করতে সরকারকেই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে। এ ক্ষেত্রে প্রশাসনিক পর্যায়ে দক্ষতা ও জবাবদিহি জরুরি। পাশাপাশি স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়তে সার আমদানিনির্ভরতা কমানোর বিকল্প নেই। সরকার তিনটি সার কারখানা চালুর যে উদ্যোগ নিয়েছে, তা সময়মতো বাস্তবায়ন করতে হবে। সার সরবরাহে অনিয়ম বন্ধেও কঠোর পদক্ষেপ অপরিহার্য।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ