খুলনা | শনিবার | ৩১ অক্টোবর ২০২৬ | ১৬ কার্তিক ১৪৩৩

পাসের হারে শীর্ষে ঢাকা বোর্ড, সর্বনিম্ন বরিশাল

খবর প্রতিবেদন |
১১:৫৬ এ.এম | ৩১ অক্টোবর ২০২৬


২০২৬ সালের উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় বিভাগ ও সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোর মধ্যে ঘোষিত ফলাফলে সাধারণ ৯টি শিক্ষা বোর্ডের মধ্যে সর্বোচ্চ পাসের হার নিয়ে শীর্ষে জায়গা করে নিয়েছে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড। অন্যদিকে সবচেয়ে কম পাসের হার ও সর্বোচ্চ ফেলের হার নিয়ে তালিকার তলানিতে নেমে গেছে বরিশাল বোর্ড। সার্বিকভাবে দেশের বিভিন্ন বিভাগের ফলাফলে বড় ধরনের ব্যবধান লক্ষ্য করা গেছে।

পাসে শীর্ষে ঢাকা
সাধারণ ৯টি শিক্ষা বোর্ডের মধ্যে সাফল্যের শীর্ষে রয়েছে রাজধানী ঢাকা। এ বোর্ডে সামগ্রিক পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৬১.৩৮ শতাংশে। অংশ নেওয়া ২ লাখ ৯৯ হাজার ৬২১ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ১ লাখ ৮৩ হাজার ৯৩০ জন।

দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা চট্টগ্রাম বোর্ডে পাসের হার ৫২.০৭ শতাংশ, যেখানে ৯৬ হাজার ৩৩৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ৫০ হাজার ১৬৬ জন।

ময়মনসিংহ বোর্ডে পাসের হার ৫১.৪৪ শতাংশ (অংশগ্রহণকারী ৭০ হাজার ৬৭৩ জনের মধ্যে পাস করেছে ৩৬ হাজার ৩৫৪ জন)।

এছাড়া সিলেট বোর্ডে পাসের হার ৫০.৯০ শতাংশ (অংশগ্রহণকারী ৭১ হাজার ৮৮৯ জনের মধ্যে উত্তীর্ণ ৩৬ হাজার ৫৯৭ জন)। সাধারণ বোর্ডগুলোর মধ্যে শুধু এই চারটি বোর্ডেই পাসের হার ৫০ শতাংশের ওপরে রয়েছে।

ফেলে শীর্ষে বরিশাল
অন্যদিকে সবচেয়ে হতাশাজনক চিত্র দেখা গেছে বরিশাল বোর্ডে। এ বোর্ডে ফেলের হার সবচেয়ে বেশি, অর্থাৎ ৫৫.১৬ শতাংশ পরীক্ষার্থীই উত্তীর্ণ হতে পারেনি। বোর্ডে মোট অংশ নিয়েছিল ৫৭ হাজার ৯১২ জন শিক্ষার্থী, যার মধ্যে পাস করেছে মাত্র ২৫ হাজার ৯৭০ জন এবং ফেল করেছে ৩১ হাজার ৯৪২ জন। ফলে পাসের হার দাঁড়িয়েছে মাত্র ৪৪.৮৪ শতাংশে, যা দেশের ৯টি সাধারণ বোর্ডের মধ্যে সর্বনিম্ন।

বরিশালের পরই সবচেয়ে বেশি ফেলের তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে রাজশাহী বোর্ড। রাজশাহীতে ফেলের হার ৫৪.৯৪ শতাংশ। এ বোর্ডে অংশ নেওয়া ১ লাখ ৩৭ হাজার ৩৫৬ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ৬১ হাজার ৮৭৪ জন এবং ফেল করেছে ৭৫ হাজার ৪৮২ জন; বোর্ডে পাসের হার ৪৫.০৬ শতাংশ।

তলানির দিকে যশোর, দিনাজপুর ও কুমিল্লা
ফেলের উচ্চ হারের তালিকায় শীর্ষ দুই বোর্ডের কাছাকাছি রয়েছে যশোর, দিনাজপুর ও কুমিল্লা বোর্ডও। যশোর বোর্ডে ফেলের হার ৫৫.০৮ শতাংশ এবং পাসের হার ৪৪.৯২ শতাংশ। সেখানে অংশ নেওয়া ১ লাখ ১২ হাজার ৭৯১ জনের মধ্যে পাস করেছে ৫০ হাজার ৬৬৮ জন এবং অনুত্তীর্ণ হয়েছে ৬২ হাজার ১২৩ জন।

দিনাজপুর বোর্ডে ফেলের হার ৫৪.০২ শতাংশ ও পাসের হার ৪৫.৯৮ শতাংশ (১ লাখ ১১ হাজার ৭৮৭ জনের মধ্যে পাস করেছে ৫১ হাজার ৩৯৮ জন এবং ফেল করেছে ৬০ হাজার ৩৮৯ জন)।

এছাড়া কুমিল্লা বোর্ডে ফেলের হার ৫২.০২ শতাংশ ও পাসের হার ৪৭.৯৮ শতাংশ; এ বোর্ডে ৯২ হাজার ১৯২ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ৪৪ হাজার ২৭২ জন এবং ফেল করেছে ৪৭ হাজার ৯২০ জন।

বোর্ডভিত্তিক ফলাফলে স্পষ্ট ব্যবধান
সার্বিকভাবে ৯টি সাধারণ বোর্ডে মোট অংশ নিয়েছিল ১০ লাখ ৪৮ হাজার ৫৩০ জন শিক্ষার্থী, যার মধ্যে ৫ লাখ ৪১,২৪৯ জন পাস করায় গড় পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৫১.৬২ শতাংশ এবং মোট ফেল করেছে ৫ লাখ ৭ হাজার ২৮১ জন।

কিন্তু বিভাগভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, ঢাকা বোর্ডের শিক্ষার্থীরা যেখানে ৬১ শতাংশের বেশি পাসের হার নিয়ে এগিয়ে রয়েছে, সেখানে বরিশাল, রাজশাহী ও যশোরের মতো গুরুত্বপূর্ণ বোর্ডগুলোতে অর্ধেকেরও বেশি শিক্ষার্থী ফেল করেছে। বিশেষ করে বরিশাল বোর্ডে ছেলেদের অবস্থা ছিল সবচেয়ে নাজুক; সেখানে ছাত্রদের ফেলের হার দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬৪.৬২ শতাংশে।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ