খুলনা | শনিবার | ৩১ অক্টোবর ২০২৬ | ১৬ কার্তিক ১৪৩৩

সম্পর্ক ভাঙার পর পূর্বের সম্মতিভিত্তিক যৌনতা ‘ধর্ষণ’ গণ্য হবে না: ভারতের সুপ্রিম কোর্ট

খবর প্রতিবেদন |
০৪:৫০ পি.এম | ৩১ অক্টোবর ২০২৬

 

পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে গড়ে ওঠা সম্পর্কের অবনতি ঘটলে বা তা ভেঙে গেলে পরবর্তীতে অতীত যৌন সম্পর্ককে ‘ধর্ষণ’ হিসেবে গণ্য করা যাবে না বলে রায় দিয়েছেন ভারতের সুপ্রিম কোর্ট।

গতকাল শুক্রবার এক আপিলের পর্যবেক্ষণে আদালত স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, প্রতারণার মাধ্যমে সম্মতি নেওয়া এবং সম্পর্ক শেষ হওয়ার পর অতীত সম্মতির জন্য অনুশোচনা বোধ করার মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য টানা প্রয়োজন।

বিচারপতি বি. ভি. নাগারথনার বেঞ্চ কেরালা থেকে আসা একটি মামলার শুনানি শেষে এই মন্তব্য করেন। মামলাটিতে সাত বছরের একটি সম্পর্কের অবনতি হওয়ার পর এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগ আনা হয়েছিল। অভিযোগকারী নারীর দাবি ছিল, ওই ব্যক্তি তাঁর আগের বিয়ে ও দুই সন্তানের তথ্য গোপন রেখেছিলেন।

রায়ে বিচারপতি নাগারথনা উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সম্পর্ক শেষ হওয়ার পর অতীতে ঘটে যাওয়া সম্মতিভিত্তিক ঘটনাগুলোকে নতুন করে পর্যালোচনা করে পরবর্তীতে যৌন সহিংসতা হিসেবে চিহ্নিত করার এক আশঙ্কাজনক প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।

আদালত জানান, অনুশোচনা বা সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার ঘটনাটি দুর্ভাগ্যজনক হলেও তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে কোনো অপরাধ হিসেবে গণ্য হতে পারে না। রায়ে উলে­খ করা হয়, ‘সম্পর্কের টানাপোড়েনের পর অতীতে ঘটে যাওয়া শারীরিক ঘনিষ্ঠতাকে পেছনের তারিখে গিয়ে ধর্ষণ আখ্যা দেওয়া যায় না। এতে পুরুষ সঙ্গীর স্বাধীন সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার ক্ষুণ্ন হয় এবং অতীতের সম্মতির কারণে ভবিষ্যতে ধর্ষণের মামলার ভয়ে সম্পর্ক বজায় রাখতে বাধ্য থাকার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়।’

বিচারপতি নাগারথনা আরও পর্যবেক্ষণ দেন, ‘ধর্ষণ একটি অত্যন্ত ঘৃণ্য অপরাধ এবং প্রকৃত যৌন সহিংসতা বা বলপ্রয়োগের ঘটনার ক্ষেত্রেই এটি সীমাবদ্ধ থাকা উচিত। প্রতিটি ব্যর্থ সম্পর্ককে যখন ধর্ষণের অভিযোগে রূপ দেওয়া হয়, তখন অপরাধটির গুরুত্ব যেমন হ্রাস পায়, তেমনি অভিযুক্ত ব্যক্তিকে অপূরণীয় সামাজিক নিপীড়ন ও অন্যায়ের মুখোমুখি হতে হয়।’

তবে এই রায়ের সঙ্গে আদালত একটি সতর্কবার্তাও উচ্চারণ করেছেন। বেঞ্চ উলে­খ করেন, ধর্ষণ এখনো সমাজব্যবস্থায় সবচেয়ে কম রিপোর্ট হওয়া অপরাধগুলোর একটি, যা নারীর শারীরিক স্বায়ত্তশাসন ও মর্যাদায় সরাসরি আঘাত হানে।

আদালতের মতে, আইনি বিধির অপব্যবহারের ঘটনার পাশাপাশি এমন অসংখ্য প্রকৃত ঘটনা রয়েছে যা কখনোই আদালতে আসে না। তাই যেসব ক্ষেত্রে প্রকৃত যৌন সহিংসতা বা প্রতারণা প্রমাণিত হবে, সেসব ঘটনায় কঠোর আইনি পদক্ষেপ নিশ্চিত করতে হবে।

তবে কোনোভাবেই যেন এই বিচারব্যবস্থাকে সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পর প্রতিশোধ নেওয়ার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা না হয়, সে বিষয়ে জোর দিয়েছেন ভারতের সর্বোচ্চ আদালত।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ