খুলনা | বৃহস্পতিবার | ২৬ মে ২০২২ | ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯

বাস্তবায়নে মেয়াদ আর ২০ দিন, বাড়তে পারে ব্যয়

খুলনায় বঙ্গবন্ধু অডিটোরিয়াম-কাম-মাল্টিপারপাস হল প্রকল্পের ভৌত অগ্রগতি ৪০ শতাংশ

এস এম আমিনুল ইসলাম |
১২:৫৩ এ.এম | ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২২


বাস্তবায়নে মেয়াদ আছে ২০ দিন, অথচ ভৌত অগ্রগতি হয়েছে মাত্র ৪০ শতাংশ। অর্থাৎ বাকী রয়েছে এখনও ৬০ ভাগ কাজ। ফলে দেখা দিয়েছে ব্যয় বৃদ্ধির শঙ্কা। এমন পরিস্থিতির মুখে এসে দাঁড়িয়েছে বিশ কোটি টাকা ব্যয়ে খুলনায় বঙ্গবন্ধু অডিটোরিয়াম-কাম-মাল্টিপারপাস হল নির্মাণ প্রকল্প। নাগরিক নেতারা বলছেন, বাস্তবায়নকারী সংস্থার গাফিলতির কারণেই অগ্রগতির এ দশা। এতে প্রকল্পের ব্যয় বেড়ে যাবে।
প্রকল্পের সাইনবোর্ড সূত্রে জানা গেছে, খুলনা জেলা পরিষদের পুরোনো রূপসা রেস্ট হাউসের ৬০ শতক জমিতে এক হাজার আসন বিশিষ্ট বঙ্গবন্ধু অডিটোরিয়াম-কাম-মাল্টিপারপাস হল নির্মাণে প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। এজন্য বাস্তবায়নকারী সংস্থা জেলা পরিষদ প্রাক্কলিত ব্যয় নির্ধারণ করে ২০ কোটি ২৩ লাখ ২২ হাজার ৯৬০ টাকা। প্রকল্প অনুমোদন ও অর্থ বরাদ্দ পাওয়ার পর এটি নির্মাণে দরপত্র আহŸান করা হয়। ২০ কোটি ১৭ লাখ ৪১ হাজার ৫০৭ টাকা চুক্তিমূল্য কাজটি পায় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স শহীদ ব্রাদার্স-স্মার্ট প্রপার্টিজ লিমিটেড জেভি। এরপর ২০২০ সালের ১০ মার্চ নির্মাণ কাজ শুরু হয়। কাজ সমাপ্তির তারিখ নির্ধারণ হয় ২০২২ সালের ৯ মার্চ। বর্তমানে অডিটোরিয়ামটির নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে। তবে অভিযোগ উঠেছে, ভবনের নির্মাণ কাজ শুরু থেকেই ধীরগতিতে এগোচ্ছে। যার কারণে নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হতে মাত্র ২০ দিন বাকী থাকলেও কাজে বাস্তবে অগ্রগতি হয়েছে মাত্র ৪০ শতাংশ।
নগরের বিশিষ্টজনরা জানান, রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের জন্য খুলনায় তেমন কোন ভেন্যু বা স্থান নেই। একমাত্র ভেন্যু ছিল জিয়া হল, তাও ভেঙে ফেলা হচ্ছে। তাই সময়ের চাহিদার কারণে এটি নির্মাণ করা হচ্ছে। কিন্তু নির্মাণ কাজ অত্যন্ত মন্থর গতিতে বাস্তবায়ন হচ্ছে। এতে সময় ও ব্যয় বাড়বে। এ সুফল থেকেও বঞ্চিত হচ্ছে সাধারণ মানুষ। তাই প্রকল্পের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য পূরণে কাজের গতি বাড়ানো দরকার।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেশ কয়েকজনের অভিযোগ, অডিটোরিয়াম নির্মাণে ব্যবহৃত বিভিন্ন সামগ্রীর মানও সন্তোষজনক নয়। যার কারণে নির্মাণাধীন প্রকল্পে সবাইকে ঢুকতে দেয়া হচ্ছে না। এছাড়া টেন্ডারে উলে­খিত কোম্পানির রড ছাড়াও বিভিন্ন কোম্পানির রড ব্যবহৃত হচ্ছে। অনেক রডে এখনই মরিচা ধরছে।
সুজন-এর জেলা সম্পাদক ও নাগরিক নেতা কুদরত-ই-খুদা বলেন, সঠিকভাবে তদারকি করা উচিত ছিল বাস্তবায়নকারী সংস্থার। কিন্তু তারা সেটি না করায় প্রকল্পে বাস্তবায়নে ধীরগতি। নির্ধারিত মেয়াদে কাজ শেষ হচ্ছে না বলেও প্রতীয়মান। এতে প্রকল্পে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। বেড়ে যাবে ব্যয়। জনগণের টাকায় প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে। তাই জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে।
নির্মাণ সামগ্রীর নিম্নমানের অভিযোগের বিষয়ে কোন কথা বলতে রাজি হননি খুলনা জেলা পরিষদের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মাসুদ রহমান। তিনি বলেছেন করোনার কারণে কাজে অগ্রগতি কম। এছাড়া কোন কথা বলা সম্ভব নয়।
এ ব্যাপারে খুলনা জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আছাদুজ্জামান বলেন, করোনার কারণে কাজে অগ্রগতি কম হয়েছে। তবে সময় বাড়ানোর জন্য মন্ত্রণালয়ে আবেদন করা হয়েছে। সেই আবেদনে ব্যয় বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ