খুলনা | সোমবার | ০২ নভেম্বর ২০২৬ | ১৮ কার্তিক ১৪৩৩

মিরপুরে হামলা-সংঘর্ষের মামলায় আসামি সাড়ে ১০ হাজার, গ্রেপ্তার ৪৮

খবর প্রতিবেদন |
০৩:০৯ পি.এম | ০২ নভেম্বর ২০২৬


রাজধানীর মিরপুরে পোশাক শ্রমিকদের বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর ও পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় পাঁচটি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় অজ্ঞাতনামা হিসেবে প্রায় সাড়ে ১০ হাজার জনকে আসামি করা হয়েছে। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত ৪৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

সোমবার (২ নভেম্বর) দুপুরে মিরপুর মডেল ও পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা (ওসি) এসব তথ্য জানান। ডিএমপির পল্লবী থানায় তিনটি, মিরপুর মডেল থানা ও কাফরুল থানায় একটি করে মামলা হয়েছে।

মিরপুর মডেল থানার ওসি মো. হাফিজুর রহমান বলেন, ট্রাফিক বক্স ভাঙচুর ও পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় থানায় একটি মামলা হয়েছে। এ মামলায় অজ্ঞাতনামা তিন হাজার ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

তিনি বলেন, সোমবারও কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের পরিচয় ও সংশ্লিষ্টতা যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে গ্রেপ্তার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

পল্লবী থানার ওসি জালাল উদ্দিন বলেন, পুলিশের গাড়িতে অগ্নিসংযোগ, পুলিশের ওপর হামলা, সরকারি কাজে বাধা এবং ট্রাফিক বক্স ভাঙচুরের অভিযোগে থানায় তিনটি মামলা হয়েছে। এসব মামলার বাদী পুলিশ।

তিনি জানান, তিন মামলার প্রতিটিতে অজ্ঞাতনামা হিসেবে দুই থেকে আড়াই হাজার ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। এসব মামলায় এখন পর্যন্ত ১৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, মিরপুর মডেল থানার একটি মামলায় তিন হাজার এবং পল্লবী থানার তিন মামলায় মোট সাত থেকে সাড়ে সাত হাজার ব্যক্তিকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। চার মামলায় মোট আসামির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় সাড়ে ১০ হাজার।

মিরপুরে আটক হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ১১ জন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মী। তারা মূলত স্থানীয় পোশাক কারখানার শ্রমিক নন। বিভিন্ন জেলা থেকে এসে শ্রমিক আন্দোলনের আড়ালে নাশকতার উদ্দেশ্যে মিরপুরে জড়ো হয়েছিলেন। সাধারণ শ্রমিকদের আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করে জনমনে আতঙ্ক ও দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে।
‎
‎মিরপুরে পোশাকশ্রমিকদের টানা দুই দিনের বিক্ষোভ-সংঘর্ষের পর সোমবার সকাল থেকে সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। সকাল থেকে মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বর ও আশপাশের এলাকায় পুলিশ সদস্যদের অবস্থান করতে দেখা যায়। গোলচত্বরে পুলিশের দাঙ্গা দমনের যান, জলকামানসহ বিভিন্ন যানবাহন প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

সিসিটিভি ফুটেজ দেখে গ্রেপ্তার
পুলিশ জানিয়েছে, সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করতে সিসিটিভি ফুটেজসহ বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। শনাক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। মামলাগুলোর তদন্তের পাশাপাশি ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ