খুলনা | মঙ্গলবার | ০৩ নভেম্বর ২০২৬ | ১৮ কার্তিক ১৪৩৩

টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ

ফাইনালের দরজা এখনো খোলা, তবে বাংলাদেশের ভুল করার সুযোগ শেষ

ক্রীড়া প্রতিবেদক |
০৩:৫৭ পি.এম | ০২ নভেম্বর ২০২৬

 

মিরপুরের টেস্ট চার দিনেই শেষ হয়ে গেল। ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে আট উইকেটের হারের পর আইসিসি ওয়ার্ল্ড টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট তালিকায় বাংলাদেশ চার থেকে নেমে গেল পাঁচে। ম্যাচের আগে যে পয়েন্ট শতাংশ ছিল ৫৫.৫৬, এখন তা নেমে এসেছে ৪৭.৬২-এ। পাকিস্তানকে ঘরে দুই ম্যাচে হারিয়ে, অস্ট্রেলিয়ায় গিয়ে এক ম্যাচ জিতে যে দল ফাইনালের স্বপ্ন দেখছিল, তাদের সামনে এখন বড় প্রশ্ন; দরজাটা কি বন্ধ হয়ে গেল, নাকি শুধু আরও কঠিন হয়ে উঠেছে?

উত্তরটা পরিষ্কার। বন্ধ হয়নি। কিন্তু এতটাই কঠিন যে এখন থেকে ভুলের জায়গা প্রায় নেই। তালিকার শীর্ষে নিউজিল্যান্ড ৭২.২২ পয়েন্ট নিয়ে, দ্বিতীয় স্থানে দক্ষিণ আফ্রিকা ৭১.৪৩, তৃতীয় অস্ট্রেলিয়া ৬৯.২৩। ভারত চারে উঠে এসেছে ৫১.৫২ পয়েন্ট নিয়ে। বাংলাদেশ তাদের ঠিক পেছনে। তৃতীয় স্থানের দলের সঙ্গে ব্যবধান প্রায় ২২ পয়েন্ট। তবে বাংলাদেশের হাতে এখনো পাঁচটি টেস্ট বাকি। মানে লড়াই করার মতো ৬০ পয়েন্টের সুযোগ এখনো আছে।

হিসাবটা সোজা। পাঁচটিই জিতলে পয়েন্ট শতাংশ দাঁড়াবে ৮৩.৩৩। চারটি জিতে একটি ড্র করলে ৭৬.৬৭। চার জয় ও এক হারে ৭৩.৩৩। তিন জয় ও দুই ড্রতে ঠিক ৭০। গত চক্রে ফাইনালিস্টরা শেষ করেছিল ৬৭ থেকে ৬৯ শতাংশের আশপাশে। সেই হিসাবে বাংলাদেশের বাস্তব লক্ষ্য হলো পাঁচ ম্যাচে অন্তত চার জয়, নয়তো তিন জয় আর বাকি দুটো ড্র। এর নিচে নামলে সমীকরণ পুরোপুরি অন্যদের ওপর নির্ভর করবে।

প্রথম ধাপ সিলেট। ৫ নভেম্বর থেকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট। এই ম্যাচ জেতা ছাড়া উপায় নেই। হারলে বাকি চারটি জিতলেও ৭৩.৩৩ পর্যন্ত যাওয়া যায়। কিন্তু চারটিই জেতা কতটা কঠিন, সেটা সবাই জানে। ড্র হলেও লাভ নেই। কারণ তাতে সিরিজ হার পাকা হয়ে যাবে আর পয়েন্টও আটকে থাকবে। মিরপুরে অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত হারের কারণ হিসেবে স্পিনারদের ধারাবাহিকতার অভাবের কথা বলেছেন। সিলেটে বোলিং ইউনিটকে ঠিক এই জায়গাটাই শুধরে নিতে হবে।

এরপর নভেম্বরের মাঝামাঝি দক্ষিণ আফ্রিকা সফর। জোহানেসবার্গ আর সেঞ্চুরিয়নে দুটি টেস্ট। কন্ডিশন আর প্রতিপক্ষ দুই দিক থেকেই এটা সবচেয়ে বড় পরীক্ষা। সেখান থেকে একটা জয় আর একটা ড্র আনতে পারলেই সেটা বড় অর্জন হবে। মজার ব্যাপার হলো, দক্ষিণ আফ্রিকা এখন টেবিলের দুই নম্বরে। মানে সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বী। বাংলাদেশ তাদের কাছ থেকে পয়েন্ট কেড়ে নিতে পারলে নিজের পথও খোলে, তাদের পথও কঠিন হয়। তবে ওদের নিজেদের মাঠে সেটা করা সহজ নয়।

শেষ সিরিজ ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে ঘরের মাঠে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দুই টেস্ট। সব ঠিকঠাক চললে হয়তো এই সিরিজেই ফাইনালের ভাগ্য ঠিক হবে। স্পিনবান্ধব উইকেটে দুটো ম্যাচই জেতার লক্ষ্য নিয়ে নামতে হবে। কারণ ততদিনে হিসাবে আর কোনো আপস চলবে না।

শুধু নিজেদের ম্যাচ জিতলেই সব হবে, এমনটাও নয়। অস্ট্রেলিয়া এখনো নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে চারটি আর ভারতের বিপক্ষে পাঁচটি টেস্ট খেলবে। ভারত আবার নিউজিল্যান্ডের মুখোমুখি হবে দুটি টেস্টে। শীর্ষ দলগুলো নিজেরাই একে অপরের পয়েন্ট কাটবে। তাই কেউ না কেউ নিচে নামবেই। বাংলাদেশকে শুধু সেই সুযোগের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ