খুলনা | মঙ্গলবার | ০৩ নভেম্বর ২০২৬ | ১৮ কার্তিক ১৪৩৩

মাকে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত সন্তানের খুলনা কারাগারে মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক |
১২:০১ এ.এম | ০৩ নভেম্বর ২০২৬

 

যশোরে বঁটি দিয়ে মায়ের দেহ থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া সেই আলোচিত হত্যার ঘটনার আসামি ছেলে মামুনুর রশিদ মামুন (৪৫) মারা গেছেন। খুলনা আড়াইশ বেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়েছে।

রোববার (১ নভেম্বর) রাত ৮টা ১০ মিনিটে হৃদরোগে তার মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের চিকিৎসক।

খুলনা কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার সৈয়দ হাসান আলী বিষয়টি নিশ্চিত করেন। যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার আবিদ আহমেদও বিষয়টি জানিয়েছেন।

এর আগে গত ২৭ আগস্ট বিকেলে যশোর সদর উপজেলার বাজে দুর্গাপুর গ্রামে ওই হত্যাকাÐের ঘটনা ঘটে।

যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার আবিদ আহমেদ জানান, আসামি মামুন একটি হত্যা মামলার আসামি। রোববার তার কার্ডিয়াক অ্যাটাক হয়। সেসময় তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা আড়াইশ বেড হাসপাতালে রেফার করা হয়েছিল। একই সঙ্গে খুলনা কারাগারের জেলারকে অবহিত করা হয়। খুলনা কারাগারের সদস্যরা হাসপাতালে তার প্রহরায় নিয়োজিত ছিলেন। রোববার রাত ৮টা ২০ মিনিটে মামুনুর রশিদ মামুন মারা যান।

খুলনা কারাগারের জেলার সৈয়দ হাসান আলী জানান, হাজতির মরদেহ যথাযথ প্রক্রিয়ায় যশোরে পাঠানো হয়েছে।

মামুন বাজেদুর্গাপুর গ্রামের মৃত আলতাফ হোসেন মাস্টারের ছেলে। তিনি নিজেও যশোরের ঝিকরগাছার লাউজানী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ইংরেজির শিক্ষক ছিলেন। তার মায়ের নাম আনোয়ারা বেগম (৫৮)।

স্থানীয় স‚ত্র জানায়, মামুনের দুটি বিয়ে হয়েছিল। ৮-৯ বছর আগে সদর উপজেলার ভেকুটিয়া গ্রামের মিথিলাকে বিয়ে করেন। বনিবনা না হওয়ায় তাকে তালাক দেন মামুন। এরপর বিয়ে করেন ঝিকরগাছার অমৃতবাজার গ্রামের রিনাকে। বছরছয়েক আগে রিনাও তালাক দিয়ে চলে যান। উভয় স্ত্রীর সঙ্গে দাম্পত্য কলহের কারণে বিবাহবিচ্ছেদ হয়েছিল। মামুন তার স্ত্রীদের সঙ্গে বিচ্ছেদের জন্য মাকে দায়ী করতেন। এ নিয়ে এর আগেও মায়ের সঙ্গে তার বিরোধ ও মারধরের ঘটনা ঘটে।

এলাকাবাসী জানিয়েছেন, পারিবারিক অশান্তির কারণে মামুন মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন। প্রায় তিন বছর আগে তাকে পাবনা মানসিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তিনি দুই থেকে তিন মাস চিকিৎসাধীন ছিলেন। স্থানীয়দের দাবি, মামুন দীর্ঘদিন ধরে বাড়িতে থাকতেন না। প্রায় পাঁচ বছর পর গত ২৭ আগস্ট তিনি বাড়িতে এসেছিলেন।

ওইদিন বিকেলে বাড়িতে এসে মায়ের সঙ্গে কথা বলার একপর্যায়ে পারিবারিক বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়। একপর্যায়ে মামুন উত্তেজিত হয়ে ধারালো বঁটি দিয়ে আঘাত করলে আনোয়ারার শরীর থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে বঁটি ফেলে পালিয়ে যান মামুন। পরে তাকে আটক করে পুলিশ। এ ঘটনায় কোতোয়ালি থানায় একটি মামলা হয়েছিল। ওই মামলায় যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে ছিলেন মামুন।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ