খুলনা | মঙ্গলবার | ০৩ নভেম্বর ২০২৬ | ১৮ কার্তিক ১৪৩৩

নেতাকর্মী ও তৃণমূলে চলছে নানা প্রস্তুতি : দেয়ালে ইতিহাস-ঐতিহ্যের গ্রাফিতি জুলাইয়ের গ্রাফিতির পাশাপাশি খুলনার ঐতিহ্য ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের ছবি

প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে ঘিরে বর্ণিল সাজে সেজেছে খুলনা, উৎসবের আমেজ সর্বত্র

নিজস্ব প্রতিবেদক |
০২:০৬ এ.এম | ০৩ নভেম্বর ২০২৬


প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান খুলনায় আসছেন আগামী ৫ নভেম্বর। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বরণ করে নিতে বর্ণিল সাজে প্রস্তুত হচ্ছে খুলনা। নগরীর সড়ক বিভাজকে রঙের প্রলেপ, দেয়ালে ইতিহাস-ঐতিহ্যের গ্রাফিতি, পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও নিরাপত্তা প্রস্তুতিতে ব্যস্ত প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তর। কোথাও চলছে ধুলোময় সড়ক পরিচ্ছন্নতা, সৌন্দর্যবর্ধন ও সাজসজ্জার কর্মযজ্ঞ। আবার কোথাও পুরোনো স্থাপনায় তুলির নিপুণ আঁচড়, কোথাও সড়ক বিভাজকে রঙের বর্ণিল ছোঁয়া। প্রতিদিনের চেনা নগরী ধারণ করছে নতুন রূপ। নগরীর এই নতুন সাজে যুক্ত হয়েছে উৎসবের আবহ, সৃষ্টি হয়েছে বাঁধভাঙা উল্লাস, আনন্দ ও অভূতপূর্ব উদ্দীপনা। রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের মধ্যে বিরাজ করছে আনন্দ-উচ্ছ্বাস।
স্টেডিয়ামের মূল ফটক ও আশপাশের দেয়াল আগে রাজনৈতিক পোস্টার-ব্যানারে ঢাকা ছিল। দোকান ও হকারদের দখলও সরিয়ে জায়গাটি পরিষ্কার করা হয়েছে। নতুন গ্রাফিতিতে বদলে গেছে পুরো এলাকার চেহারা। নগরীর শিববাড়ী এলাকার রেলওয়ের দেয়ালেও জুলাইয়ের গ্রাফিতির পাশাপাশি খুলনার ঐতিহ্য ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের ছবি আঁকার কাজ চলছে।
খুলনা সিটি কর্পোরেশন ও জেলা ক্রীড়া সংস্থার উদ্যোগে খুলনা জেলা স্টেডিয়ামের দেয়ালে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে সুন্দরবনের ম্যানগ্রোভ বন, চিত্রা হরিণ, নকশিকাঁথার নকশা ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের প্রতিকৃতি। সেখানে স্থান পেয়েছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া, কবি কাজী নজরুল ইসলাম, শিল্পী এস এম সুলতান ও বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের ছবি। 
দেয়ালে লেখা হয়েছে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগান। তুলে ধরা হয়েছে জিয়াউর রহমানের খাল খনন কর্মসূচির ঐতিহাসিক চিত্রও।
এই উদ্যোগটির লক্ষ্য হলো শহরের সাধারণ দেয়ালগুলোকে স্থানীয় ঐতিহ্যের প্রাণবন্ত প্রদর্শনীতে পরিণত করা এবং একই সাথে বাসিন্দা ও দর্শনার্থীদের জন্য আরও আকর্ষণীয় একটি নগর পরিবেশ তৈরি করা।
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের এটি খুলনায় তাঁর দ্বিতীয় সফর। ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দিতে তার এ সফরকে কেন্দ্র করে নগর জুড়ে তৈরি হয়েছে বাড়তি কর্মচাঞ্চল্য। আয়োজকদের প্রত্যাশা, এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে খুলনা শুধু প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানানোর সুযোগই পাবে না, বরং সারা দেশের সঙ্গে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের কার্যক্রমকে আরো বিস্তৃত ও সুসংহত করার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
আয়োজকরা আশা করছেন, ‘নতুন কুড়ি স্পোর্টস-২০২৬’ কর্মসূচিটি এই উদ্যোগকে দেশব্যাপী প্রসারিত করতে সাহায্য করার পাশাপাশি খুলনাকে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানানোর সুযোগ করে দেবে।
এদিকে, সফরটি সুষ্ঠু ও সফল করতে প্রস্তুতি সম্পন্ন করার জন্য জেলা প্রশাসন সংশ্লিষ্ট সরকারি বিভাগ ও সংস্থাগুলোকে নির্দেশ দিয়েছে। 
এরই মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা ও ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নগরীতে স্থাপন করা সব তোরণ, প্যানা, ব্যানার ও ফেস্টুন আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অপসারণের নির্দেশ দিয়েছে মহানগর ও জেলা বিএনপি।
গত শনিবার গণমাধ্যমে প্রেরিত বিজ্ঞপ্তিতে বিএনপি’র নেতাকর্মী, বিভিন্ন সংগঠন ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে নিজ উদ্যোগে এসব প্রচার সামগ্রী সরিয়ে নেওয়ার আহŸান জানানো হয়েছে। মহানগর বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম তুহিন এবং জেলা বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত সদস্যসচিব এস এম মনিরুল হাসানের পক্ষ থেকে এ আহŸান জানানো হয়। এদিকে প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে নগরীর সৌন্দর্যবর্ধনের কাজেও এসেছে ভিন্নমাত্রা।
আগামী ৫ নভেম্বর তার খুলনা সফরকে ঘিরে নগর জুড়ে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি। গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, মোড়, সড়ক বিভাজক ও বিভিন্ন স্থাপনা সাজিয়ে তুলতে দিন-রাত ব্যস্ত সময় পার করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও কর্মীরা। প্রশাসনিক তৎপরতা, রাজনৈতিক প্রস্তুতি এবং নগরসজ্জার সমন্বয়ে খুলনা এখন যেন এক বিশাল কর্মযজ্ঞের নগরী।
প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও জনসমাগমস্থলগুলোতে চলছে বিশেষ সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ। পুরোনো স্থাপনায় নতুন রঙের প্রলেপ, সড়ক বিভাজকে রংতুলির কারুকাজ, পরিচ্ছন্নতার মাধ্যমে রাস্তা ও আশপাশের পরিবেশকে দৃষ্টিনন্দন করে তোলার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। কোথাও চলছে দেয়াল ও স্থাপনা রঙের কাজ, কোথাও আবার পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের ব্যস্ত পদচারণা। সব মিলিয়ে নগরীর চেহারায় আসছে দৃশ্যমান পরিবর্তন।
নগরবাসীর প্রত্যাশা, প্রধানমন্ত্রীর এই সফর কেবল একটি আনুষ্ঠানিক আগমনেই সীমাবদ্ধ থাকবে না বরং খুলনার উন্নয়ন, সম্ভাবনা ও নাগরিক প্রত্যাশার বিষয়গুলোও নতুন করে গুরুত্ব পাবে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের ক্রীড়া প্রতিভা বিকাশে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৬’ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সফর নির্বিঘœ করতে জেলা প্রশাসন যানবাহন অধিগ্রহণ, বিশ্রামাগার প্রস্তুত, হেলিপ্যাড নির্মাণ, এ্যাম্বুলেন্স ও জরুরি চিকিৎসা, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ, জেনারেটর এবং অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থাসহ নানা প্রস্তুতি নিচ্ছে। নিরাপত্তা পাস ইস্যু ও বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয়ের কাজও চলছে।
খুলনা জেলা রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির নির্বাহী সদস্য মঈনুর রহমান মঈন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে সৌন্দর্যবর্ধন, প্রশাসনিক প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার পাশাপাশি রাজনৈতিক তৎপরতাও চলছে। তবে নগরবাসীর প্রত্যাশা, সফরটি যেন শুধু আনুষ্ঠানিকতা ও সাময়িক সাজসজ্জায় সীমাবদ্ধ না থাকে। খুলনার দীর্ঘদিনের উন্নয়ন-চাহিদা, অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা ও সম্ভাবনাগুলো জাতীয় পর্যায়ে গুরুত্ব পাক।
খুলনার জেলা প্রশাসক হুর জান্নাত বলেছেন, জেলার সকল সরকারি অফিসের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নিয়মিত হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই সময়ে অপ্রয়োজনীয় নৈমিত্তিক ছুটি নিরুৎসাহিত করার জন্যও ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, জনগণকে স্বেচ্ছায় অবৈধ স্থাপনাগুলো সরিয়ে নিতে বলা হয়েছে এবং সতর্ক করা হয়েছে যে অন্যথায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অননুমোদিত প্রতিষ্ঠানগুলোকে উচ্ছেদ করা হবে।
মহানগর বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালক শফিকুল আলম তুহিন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের মধ্যেও বিরাজ করছে উৎসবমুখর পরিবেশ। সফরকে সফল করতে বিভিন্ন পর্যায়ে চলছে প্রস্তুতি ও সমন্বয়। নগরীর গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সাজসজ্জার পাশাপাশি দলীয় কর্মসূচি ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যেও তৈরি হয়েছে কৌতূহল ও উৎসাহ-উদ্দীপনা। সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে খুলনাকে প্রস্তুত করছেন। প্রধানমন্ত্রী যতবার খুলনা সফর করবেন, খুলনার উন্নয়ন ততই ত্বরান্বিত হবে বলে আমরা আশা করি। ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৬’-এর প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, খুলনা থেকে সারা দেশের জন্য এ কর্মসূচির দ্বিতীয় ধাপ উদ্বোধন করা হবে। ভার্চুয়াল মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সঙ্গে সংযোগ স্থাপিত হবে, যা কর্মসূচিটিকে জাতীয় পর্যায়ে আরো বিস্তৃত করবে।
খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে ঘিরে খুলনাকে একটি পরিচ্ছন্ন, নান্দনিক ও দৃষ্টিনন্দন নগরী হিসেবে উপস্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এটি শুধু অতিথিকে বরণ করার আনুষ্ঠানিক প্রস্তুতি নয়, বরং আমাদের প্রিয় নগরীকে নতুন ভাবে সাজিয়ে তোলার একটি সম্মিলিত প্রয়াস। আমরা চাই, খুলনায় প্রধানমন্ত্রীর আগমন স্মরণীয় হয়ে থাকুক। একই সঙ্গে নগরীর এই সৌন্দর্য যেন সফর শেষ হওয়ার পরও স্থায়ী থাকে এবং নগরবাসী এর সুফল ভোগ করতে পারেন। খুলনার উন্নয়ন, ঐতিহ্য ও সম্ভাবনাকে তুলে ধরতেই আমাদের এই আয়োজন।
সব মিলিয়ে ৫ নভেম্বরকে সামনে রেখে খুলনা এখন অপেক্ষার নগরী। রঙের পরশে, পরিচ্ছন্নতার ছোঁয়ায় আর উৎসবের আবহে বদলে যাচ্ছে চিরচেনা নগরীর দৃশ্যপট। নগরীর পথে পথে যেন একটাই প্রস্তুতি, অতিথিকে বরণ করার। নতুন সাজে সজ্জিত খুলনা অপেক্ষা করছে প্রধানমন্ত্রীর আগমনের।
খুলনা জেলা পরিষদ প্রশাসক এবং জেলা বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত সদস্য সম্পাদক এস এম মনিরুল হাসান বাপ্পি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সফরকে সামনে রেখে শহর জুড়ে উদ্দীপনা ছড়িয়ে পড়েছে।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে শহরকে প্রস্তুত করতে বিভিন্ন স্তরের নেতা ও কর্মীরা একসঙ্গে কাজ করছেন। আমরা আশা করি, প্রধানমন্ত্রী যত ঘন ঘন খুলনা সফর করবেন, এই অঞ্চলের উন্নয়ন তত দ্রুত এগিয়ে যাবে।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ