খুলনা | মঙ্গলবার | ০৩ নভেম্বর ২০২৬ | ১৮ কার্তিক ১৪৩৩

মৃত্যুরপুরীতে পরিণত হচ্ছে খুলনা, বাড়ছে হত্যার তালিকা

আঠারো বাকী নদীর পাড়ে পড়ে ছিল দুই যুবকের গুলিবিদ্ধ লাশ

নিজস্ব প্রতিবেদক |
০২:০৯ এ.এম | ০৩ নভেম্বর ২০২৬


মৃত্যুরপুরীতে পরিণত হয়েছে খুলনা। প্রতিদিনই মহানগরীসহ খুলনাতে ঘটছে হত্যকান্ড, ছিনতাই, কুপিয়ে জখম, চাঁদাবাজী, গুলি, ভাঙচুরসহ নানা অপরাধ। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় প্রতিদিন ধরা পড়ছে সন্ত্রাসীরা, তবুও যেন থামছে না অপরাধ জগতের সদস্যরা। বেপরোয়া হয়ে উঠছে বিভিন্ন নামে আড়ালে সন্ত্রাসীরা।
সবশেষ রূপসা উপজেলায় আঠারো বাকী নদী-সংলগ্ন একটি কলাবাগানের পাশ থেকে গুলিবিদ্ধ দুই যুবকের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। সোমবার বেলা দেড়টার দিকে উপজেলার আইচগাতী ইউনিয়নের চরমোছাব্বরপুর গ্রামের হাবিবের কলাবাগানের উত্তর পাশ থেকে মরদেহ দু’টি উদ্ধার করা হয়।
নিহত দু’জন হলেন রূপসা উপজেলার রাজাপুর গ্রামের আব্দুল্লাহর ছেলে মেহেদী হাসান সোহাগ (৩৫) ও একই উপজেলার সিংহেরচর এলাকার বাসিন্দা রেজাউল করিম (৩০)। নিহত সোহাগ স্থানীয় জেলখানা ঘাটের মাঝি হিসেবে কাজ করতেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে নদীর কাঁদার মধ্যে প্রথমে একটি মরদেহ ও কিছুক্ষণ পর একই স্থানে দ্বিতীয় মরদেহটি ভাসতে দেখে রূপসা থানায় খবর দেন স্থানীয় বাসিন্দারা। খবর পেয়ে বেলা দেড়টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে নদীতীর থেকে মরদেহ দু’টি উদ্ধার করে।
প্রাথমিক অনুসন্ধানে পুলিশ জানায়, নিহত মেহেদী হাসান সোহাগ স্থানীয় সন্ত্রাসী দল ‘বি কোম্পানি’র সদস্য ছিলেন বলে তথ্য রয়েছে। তবে ঠিক কীভাবে তাঁদের মৃত্যু হয়েছে ও মাথায় আঘাতের চিহ্ন কীভাবে তৈরি হয়েছে, তা এখনই নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ঘটনাস্থল থেকে রূপসা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) নূর আলম জানান, দুপুরের দিকে খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশ সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন এবং দু’জনের গুলিবিদ্ধ ও গলাকাটা লাশ উদ্ধার করেন।
হত্যাকান্ডের নেপথ্য কারণ অনুসন্ধানের কথা জানিয়ে এসআই আরও জানান, কী কারণে বা কোন শত্র“তার জেরে এই জোড়া হত্যাকান্ড ঘটেছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। নিহত যুবকদের বিরুদ্ধে আগে থেকে কোনো মামলা ছিল কি না অথবা তাঁরা কোনো অপরাধী বা সন্ত্রাসী চক্রের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন কি না, সে বিষয়েও তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।
এসআই আরও জানান, আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ দু’টি ময়নাতদন্তের জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় হত্যা মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।
রূপসা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ মাসুম খান নদী থেকে দু’টি মরদেহ উদ্ধারের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ঘটনার নেপথ্য কারণ ও মৃত্যুর সঠিক সময় অনুসন্ধানে পুলিশের একাধিক দল কাজ শুরু করেছে।
এদিকে, গত দুই দিনের ব্যবধানে খুলনায় পরপর জোড়া হত্যাকাÐের ঘটনার পর নদী থেকে এই দুই মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে চরম উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
এর আগে রোববার সন্ধ্যায় মহানগরীর আড়ংঘাটা থানার রায়মহল এলাকায় নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে সন্ত্রাসীদের ধারালো অস্ত্রের হামলায় নিহত হন তাঁতী দল নেতা সৈয়দ হুমায়ুন কবির। এর আগের রোববার দিবাগত রাতে নগরের দারোগাপাড়া এলাকায় চাপাতির কোপে খুন হন শহিদুল (৩৫) নামের আরও এক যুবক।
অন্যদিকে রোববার রাত সাড়ে ১১টার দিকে জাতিসংঘ পার্ক সংলগ্ন এলাকার পূর্ব পাশে ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। একজন ওষধ কোম্পানির রিপ্রেজেন্টেটিভ-এর মোবাইল ছিনতাই করে পালিয়ে যায় দুই মোটরসাইকেল আরোহী। একপর্যায়ে ছিনতাইকারীরা দ্রুত র‌্যায়েল মোড় হয়ে পালিয়ে যায় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ