খুলনা | বুধবার | ০৪ নভেম্বর ২০২৬ | ১৯ কার্তিক ১৪৩৩

বাংলাদেশে পোশাকশ্রমিক আন্দোলন ও প্রধানমন্ত্রীর সফর নিয়ে যা বললেন জয়সওয়াল

খবর প্রতিবেদন |
১১:২৬ পি.এম | ০৩ নভেম্বর ২০২৬


বাংলাদেশে পোশাকশ্রমিকদের চলমান আন্দোলন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর এবং গঙ্গা পানি চুক্তিসহ দ্বিপক্ষীয় বিভিন্ন বিষয়ে নিজেদের অবস্থান জানিয়েছে ভারত। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেছেন, বাংলাদেশের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে ভারত। একই সঙ্গে বাংলাদেশের সঙ্গে ইতিবাচক, ভবিষ্যৎমুখী ও গঠনমূলক সম্পর্ক বজায় রাখতে চায় নয়াদিল্লি।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দিল্লিতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন রণধীর জয়সওয়াল।

বাংলাদেশে পোশাকশ্রমিকদের চলমান আন্দোলন নিয়ে প্রশ্ন করা হলে জয়সওয়াল বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশের চলমান সার্বিক পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছি।’

বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতির প্রভাব ভারতের অর্থনীতি ও আন্তসীমান্ত বাণিজ্যে পড়তে পারে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবেও তিনি বলেন, বাংলাদেশে কী ঘটছে, তা ভারত নজরে রাখছে। দুই দেশের সম্পর্কের বিষয়ে ভারতের অবস্থান ইতিবাচক।

জয়সওয়াল বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি। সেখানে বিভিন্ন ঘটনা ঘটছে এবং আমরা সেগুলো পর্যবেক্ষণ করছি। ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ক্ষেত্রে আমরা ইতিবাচক, ভবিষ্যৎমুখী ও গঠনমূলক সম্পর্কের দিকে এগিয়ে যেতে চাই।’

গঙ্গা পানি চুক্তি নিয়েও ব্রিফিংয়ে প্রশ্ন ওঠে। পিটিআইয়ের এক সাংবাদিক জানতে চান, বাংলাদেশের বিরোধী দলের এক নেতা বলেছেন, ভারত পানি না দিলে ভারতীয় পণ্য, করিডর ও ট্রানজিট বন্ধ করে দেওয়া হবে। একই সঙ্গে গঙ্গা চুক্তিতে বাংলাদেশের পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করার দাবিও জানিয়েছেন তিনি।

জবাবে রণধীর জয়সওয়াল বলেন, গঙ্গাসহ অভিন্ন নদীগুলোর পানি নিয়ে আলোচনার জন্য দুই দেশের মধ্যে যৌথ নদী কমিশন রয়েছে। সীমান্ত অতিক্রমকারী সব নদী নিয়ে আলোচনার জন্য এটিই নির্ধারিত কাঠামো। তিনি বলেন, ‘গঙ্গা পানি চুক্তির বিষয়ে আগেও বলেছি, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে যৌথ নদী কমিশন রয়েছে। গঙ্গাসহ সব আন্তসীমান্ত নদী নিয়ে আলোচনার জন্য এটিই কাঠামোবদ্ধ ব্যবস্থা।’

এদিকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর নিয়ে প্রশ্ন করেন এক সাংবাদিক। তিনি বলেন, অনেক দিন ধরেই বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের অপেক্ষা করা হচ্ছে। কিন্তু এখনো তিনি সফরে আসেননি। এর পেছনে কোনো কারণ রয়েছে কি না, তা জানতে চান ওই সাংবাদিক।

জবাবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জয়সওয়াল বলেন, ‘আমরা ইতিমধ্যে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছি। এ বিষয়ে কোনো হালনাগাদ তথ্য থাকলে আপনাদের জানাব।’

আরেকজন সাংবাদিক জানতে চান, নতুন সরকার গঠনের পর কি বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সঙ্গে দূরত্ব বেড়েছে। আপনার কী মনে হয়, বাংলাদেশ চীন ও পাকিস্তানের দিকে বেশি ঝুঁকছে। জবাবে জয়সওয়াল বলেন, ‘ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যকার ঐতিহাসিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে আমরা একটি ইতিবাচক, গঠনমূলক এবং ভবিষ্যৎমুখী দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক বজায় রাখতে ও কাজ করে যেতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’
 

প্রিন্ট

আরও সংবাদ