খুলনা | বুধবার | ০৪ নভেম্বর ২০২৬ | ২০ কার্তিক ১৪৩৩

রাজনীতি যখন বাণিজ্যস্বচ্ছতা ও জবাবদিহি কোথায়

|
১২:০৯ এ.এম | ০৪ নভেম্বর ২০২৬


স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি কোথায় একটি রাজনৈতিক দলের মূল কাজ হলো জনগণের আশা-আকাক্সক্ষার প্রতিফলন ঘটানো, নাগরিক অধিকার সুসংহত করা-একই সঙ্গে প্রয়োজন দলের অভ্যন্তরে গণতান্ত্রিক চর্চার মাধ্যমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্যি, দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর কর্মকাণ্ডে এসব বিষয় পরিলক্ষিত হয় না, বরং দলগুলো যেন ক্ষমতাকেন্দ্রিক ব্যবসায়ী মডেলে পরিণত হয়েছে। টাকার বিনিময়ে মনোনয়ন দেওয়া, ব্যবসায়ী বিবেচনায় বিশেষ সুযোগ-সুবিধা দেওয়া সাধারণ ঘটনায় পরিণত হয়েছে। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) প্রতিবেদনে এমন চিত্র উঠে এসেছে।
প্রকাশিত খবরে বলা হয়, কোনো রাজনৈতিক দলের মনোনয়ন পেতে প্রার্থীদের ৫০ কোটি টাকা পর্যন্ত দিতে হয়। ছোট-বড় সব রাজনৈতিক দলের প্রায় একই অবস্থা। শুধু মনোনয়ন বাণিজ্য নয়, রাজনৈতিক দলগুলোর অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র, আর্থিক ব্যবস্থাপনা, নেতৃত্ব নির্বাচন ও জবাবদিহির ক্ষেত্রেও ব্যাপক ঘাটতি পেয়েছে টিআইবি; যদিও দলগুলো প্রকাশ্যে এ ধরনের বাণিজ্যের কথা অস্বীকার করে থাকে। গবেষণায় ১০টি রাজনৈতিক দলে পরিবারকেন্দ্রিক নেতৃত্বের প্রমাণ পাওয়া গেছে। বিএনপি’র মতো দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল ১০ বছরের বেশি সময় ধরে জাতীয় কাউন্সিল আয়োজন করেনি। গত রোববার রাজধানীতে টিআইবির কার্যালয়ে ‘বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলের প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়।
একটি রাজনৈতিক দলের আয়-ব্যয়ের নথিতে স্বচ্ছতা থাকা জরুরি। বাস্তবতা হলো, দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে এমন চর্চা নেই। টিআইবির গবেষণায় দেখা গেছে, দলগুলো নিয়মিত বার্ষিক বাজেট প্রণয়ন করে না। আয়-ব্যয়ের বড় অংশ কর্মসূচিভিত্তিক ও অনানুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ায় পরিচালিত হয়। গঠনতন্ত্রে সদস্যদের চাঁদার হার, অনুদান গ্রহণের শর্ত, আর্থিক লেনদেন, ফরম ফি, নিরীক্ষা এবং আর্থিক জবাবদিহি নিশ্চিত করার বিষয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশনার অভাব রয়েছে।
মনে রাখা দরকার, রাজনীতি যখন ব্যবসা হয়ে দাঁড়ায়, তখন দলের আদর্শ, নৈতিকতা মুখ থুবড়ে পড়ে। গণতান্ত্রিক চর্চা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। তখন ক্ষমতা ধরে রাখাই প্রধান লক্ষ্য হয়ে ওঠে। এতে সাধারণ নাগরিকের মতামত ও ভোটাধিকার মূল্যহীন হয়ে পড়ে এবং রাজনীতির প্রতি সাধারণ মানুষের এক বিদ্বেষ ও বিমুখতা জন্ম নেয়। পাশাপাশি রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের ত্যাগী ও সৎ নেতারা বঞ্চিত হন, যা শেষ পর্যন্ত যেকোনো দলের জন্যই ক্ষতিকর।
আমরা মনে করি, কোনো রাজনৈতিক দল যদি গণমানুষের হয়ে উঠতে চায়, তাহলে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির কোনো বিকল্প নেই। বলা যায়, দেশে সুস্থ গণতন্ত্র বিকাশের জন্য এটি প্রথম শর্ত। দেশে প্রায়ই রাজনৈতিক সহিংসতা, হানাহানির খবর পাওয়া যায়। এর পেছনে পেশিশক্তি কাজ করে থাকে। কিন্তু স্বচ্ছতা থাকলে এসব অপশক্তি মাথাচাড়া দেওয়ার সুযোগ পায় না।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ