খুলনা | বুধবার | ০৪ নভেম্বর ২০২৬ | ২০ কার্তিক ১৪৩৩

রাজনৈতিক সহিংসতায় অক্টোবরে নিহত ১২, গণপিটুনিতে ২২

খবর প্রতিবেদন |
০১:৩৩ এ.এম | ০৪ নভেম্বর ২০২৬


চলতি বছরের অক্টোবর মাসে সারাদেশে রাজনৈতিক সহিংসতার অন্তত ৭০টি ঘটনায় ১২ জন নিহত এবং ৩৩৪ জন আহত হয়েছেন। একই সময়ে গণপিটুনির ৩৩ ঘটনায় ২২ জন নিহত ও ২০ জন আহত হয়েছেন। মব সহিংসতার ২২ ঘটনায় নিহত হয়েছেন একজন এবং আহত হয়েছেন ৩৬ জন। এ ছাড়া মাসটিতে কারাগারে ১৯ বন্দির মৃত্যু হয়েছে। নির্যাতন ও হয়রানির শিকার হয়েছেন ৪৬ সাংবাদিক। আর নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ২৬১ জন।
মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির (এইচআরএসএস) অক্টোবর মাসের মানবাধিকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।  মঙ্গলবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ প্রতিবেদন প্রকাশ করে সংগঠনটি।
প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশের ১৬ জাতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ, এইচআরএসএসের নিজস্ব তথ্য সংগ্রহ এবং ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং রিপোর্টের ভিত্তিতে অক্টোবর মাসের মানবাধিকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনের তথ্যানুযায়ী, অক্টোবর মাসে অন্তত ৭০ রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনায় ১২ জন নিহত এবং ৩৩৪ জন আহত হয়েছেন। সেপ্টেম্বর মাসের তুলনায় অক্টোবর মাসে রাজনৈতিক সহিংসতায় আহতের সংখ্যা কমলেও ঘটনা ও নিহতের সংখ্যা বেড়েছে। গত সেপ্টেম্বরে অন্তত ৬৮ রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনায় চারজন নিহত এবং ৫২৭ জন আহত হয়েছিলেন।
অক্টোবর মাসে বিএনপি’র অভ্যন্তরীণ কোন্দলে ৩৫ ঘটনায় অন্তত ১৮৫ জন আহত এবং নয়জন নিহত হয়েছেন। বিএনপি-জামায়াতের মধ্যে ছয়টি সংঘর্ষে আহত হয়েছেন ১৬ জন। বিএনপি-আওয়ামী লীগের মধ্যে সাতটি সংঘর্ষে ২৭ জন আহত ও দু’জন নিহত হয়েছেন। আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দলে একটি ঘটনায় একজন আহত হয়েছেন। বিএনপি-এনসিপির মধ্যে দু’টি সংঘর্ষে আহত হয়েছেন তিনজন। বিএনপি ও অন্যান্য দলের মধ্যে ১১ সংঘর্ষে আহত হয়েছেন ৩৩ জন। এ ছাড়া বিভিন্ন দলের মধ্যে আটটি সংঘর্ষে আহত হয়েছেন ৭০ জন। রাজনৈতিক সহিংসতায় নিহত ১২ জনের মধ্যে বিএনপি’র ১০ জন এবং আওয়ামী লীগের দুজন রয়েছেন।
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখেও প্রার্থী ও তাদের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সহিংসতা ও হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ মাসে নির্বাচনকেন্দ্রিক ছয়টি সহিংসতার ঘটনায় ৩৫ জন আহত এবং একজন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে বিএনপি’র অভ্যন্তরীণ কোন্দলে চারটি ঘটনায় ৩১ জন আহত ও একজন নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে বিভিন্ন দলের মধ্যে দু’টি ঘটনায় আহত হয়েছেন চারজন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, আধিপত্য বিস্তার, রাজনৈতিক বিরোধ, হামলা, আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন, দলীয় কোন্দল ও চাঁদাবাজিকে কেন্দ্র করে অধিকাংশ সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। পাশাপাশি রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের ওপর পৃথক হামলা, গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনা এবং দেশের বিভিন্ন স্থানে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটেছে।
এছাড়া দুর্বৃত্তদের হামলায় রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাকর্মীদের হতাহতের অন্তত ১১ ঘটনায় ছয়জন আহত এবং সাতজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে বিএনপি’র দু’জন, আওয়ামী লীগের চারজন এবং একজন চরমপন্থি রয়েছেন। এ মাসে অন্তত ৩১ জন রাজনৈতিক নেতাকর্মী গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।
আধিপত্য বিস্তার, দখলদারিত্ব, রাজনৈতিক সহিংসতা ও চাঁদাবাজিকে কেন্দ্র করে সারাদেশে অন্তত ২২ ঘটনায় ৭০ বাড়িঘর, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও দলীয় কার্যালয়ে হামলা, সংঘর্ষ, লুটপাট, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ