খুলনা | বুধবার | ০৪ নভেম্বর ২০২৬ | ২০ কার্তিক ১৪৩৩

মোংলা বন্দর এলাকায় যৌথ বাহিনীর অভিযানে চোরাকারবারীরা লাপাত্তা, জনমনে প্রশ্ন

মোংলা প্রতিনিধি |
০১:৫৯ এ.এম | ০৪ নভেম্বর ২০২৬


মোংলা বন্দর সংলগ্ন এলাকায় সুকৌশলে পাচারকালে মবিল সদৃশ বিপুল পরিমাণ চোরাই তেল বোঝাই একটি স্টীল বডি ট্রলার এবং তেলবাহী দু’টি বড় লরি জব্দ করেছে যৌথ বাহিনী। সোমবার গভীর রাতে পরিচালিত এই অভিযানে বিপুল পরিমাণ তেল উদ্ধার করা হলেও রহস্যজনক কারণে জড়িত কোনো পাচারকারীকে আটক করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। চোরাকারবারীদের আটক না করা নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং চোরাকারবারিদের সিন্ডিকেট নিয়ে স্থানীয় মহলে নানা প্রশ্ন উঠেছে। 
স্থানীয় সূত্র ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দেওয়া তথ্য মতে, সোমবার গভীর রাতে মোংলা উপজেলার চিলা ইউনিয়নের হলদিবুনিয়া এলাকার স্কুলের পেছনের খালে জলপথ দিয়ে একটি বোটে করে প্রায় ৬৫ ব্যারেল মবিল সদৃশ চোরাই তেল পাচার করে আনা হয়। তেলবাহী ট্রলারটি হলদিবুনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পেছনের ফাঁকা জায়গায় নোঙর করে ব্যারেলগুলো তীরে নামাচ্ছিল। এ সময় সহযোগিতায় থাকা অপর একটি ট্রলার দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। মূল তেল বোঝাই ট্রলারটি তখন খালাসের অপেক্ষায় সেখানে অবস্থান করছিল। এর কিছুক্ষণ পরই তেল নেওয়ার জন্য নির্ধারিত স্থানে এসে হাজির হয় পদ্মা অয়েল কোম্পানির ১০ হাজার লিটার ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন দু’টি বড় লরি (যার নম্বর-৪১০৪৮৫)। প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, জব্দকৃত এই লরি দু’টির মালিক চট্টগ্রামের বাসিন্দা মোঃ হারুন মিয়া।
খালে নোঙর করা ট্রলার থেকে অবৈধভাবে ডিজেল পাম্পের মাধ্যমে তেল পাইপ দিয়ে লরি দু’টিতে বোঝাই করার কাজ শুরু করলে স্থানীয়রা দেখতে পায়। গভীর রাতে এই সন্দেহজনক কর্মকান্ড স্থানীয় জনতা লক্ষ্য করলে তাদের মধ্যে সন্দেহের দানা বাঁধে। স্থানীয় জনতা এটি চোরাই তেল বুঝতে পেরে তাৎক্ষণিকভাবে কোস্ট গার্ড ও পুলিশ প্রশাসনকে খবর দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ ও কোস্ট গার্ডের একটি যৌথ দল দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। তবে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার উপস্থিতি টের পাওয়ার আগেই তেল চুরির সাথে জড়িত চক্রের সদস্যরা অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। ফলে যৌথ বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও কাউকে আটক করতে পারেনি। অভিযান শেষে ক্রড অয়েল বা মবিল সদৃশ চোরাই তেল বোঝাই ট্রলারটি সোমবার ভোর রাতেই নিরাপদে মোংলা ফেরি ঘাটে এনে রশি দিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছে।
অপর দিকে, তেল চুরির কাজে ব্যবহৃত পদ্মা অয়েলের ১০ হাজার লিটার ধারণ ক্ষমতার লরি দু’টি এখনো হলদিবুনিয়া স্কুলের পাশের ওই ঘটনাস্থলেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারিতে রয়েছে। এ বিষয়ে মোংলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ আতিকুর রহমান জানান, চোরাই তেল, তেলবাহী দু’টি লরি এবং ট্রলার আটকের ঘটনায় আইনি প্রক্রিয়া বর্তমানে চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করণে তদন্ত ও মামলার দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। তবে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত এ ঘটনায় পুলিশ বা কোস্ট গার্ড সুনির্দিষ্ট কাউকে আটক করতে পারেনি এবং কোনো মামলা রেকর্ড হয়নি। বন্দরভিত্তিক তেল চুরির এই সংঘবদ্ধ চক্রের সাথে আর কারা জড়িত এবং এর নেপথ্যে প্রভাবশালী কোনো সিন্ডিকেট আছে কি না তা খতিয়ে দেখতে পুলিশের তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে জানান থানার ওসি। 

প্রিন্ট

আরও সংবাদ