খুলনা | বুধবার | ০৪ নভেম্বর ২০২৬ | ২০ কার্তিক ১৪৩৩

মাগুরায় শাকের হত্যা : ১৩ দিন পর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক গ্রেফতার

মাগুরা প্রতিনিধি |
০২:০০ এ.এম | ০৪ নভেম্বর ২০২৬


মাগুরা পৌর যুবদল নেতা শাকের হোসেন হত্যার ১৩ দিন পর মাগুরা জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক গোলাম জাহিদ হোসেনকে (৪৬) গ্রেফতার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এ নিয়ে আলোচিত এ হত্যা মামলায় মোট পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হলো। সোমবার দিবাগত গভীর রাতে ঢাকার বিমানবন্দর থানা এলাকা থেকে গোলাম জাহিদকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি মাগুরা সদর উপজেলার পারনান্দুয়ালী গ্রামের বাসিন্দা। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি পুলিশের কাছে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন বলে জানা গেছে।
পুলিশের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। তবে পরিবহন থেকে ডাকাতি করা স্বর্ণের ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে বিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
শাকের হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মাগুরা ডিবি পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) কামরুজ্জামান গোলাম জাহিদের গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, গ্রেফতার গোলাম জাহিদকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা গেলে শাকের হত্যাকাণ্ড এবং স্বর্ণ ডাকাতির ঘটনা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে।
গত ২১ অক্টোবর বুধবার ভোরে মাগুরা কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে রয়েল এক্সপ্রেসের কাউন্টারের ভেতরে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন মাগুরা পৌর যুবদলের যুগ্ম-আহŸায়ক শাকের হোসেন। তিনি শহরের পারনান্দুয়ালী গ্রামের মৃত কুতুব উদ্দিনের ছেলে। দীর্ঘদিন ধরে ওই কাউন্টারে কাউন্টার মাস্টার হিসেবে কর্মরত ছিলেন তিনি। ঘটনার দিন ভোর সাড়ে ৫টার দিকে মোটরসাইকেলে করে দুই যুবক এসে কাউন্টারে ঢুকে শাকেরকে গুলি করে পালিয়ে যান। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে মাগুরা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে হাসপাতালে নেওয়ার পথেই তার মৃত্যু হয়। এ সময় হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের কেউ কেউ শাকের স্ট্রোক করে মারা গেছেন বলে প্রচার করেন। দ্রুত মরদেহ বাড়িতে নিয়ে দাফনের প্রস্তুতিও শুরু হয়। তবে বাড়িতে নেওয়ার পর তার মাথা থেকে রক্ত বের হতে দেখে পরিবারের সদস্যদের সন্দেহ হয়। পরে মরদেহ আবার হাসপাতালে নেওয়া হলে ময়নাতদন্তে মাথার ভেতর থেকে একটি গুলি উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নিহত শাকেরের স্ত্রী শারমিন নাহার মাগুরা সদর থানায় অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন।
মামলার তদন্তে ঘটনার রাতেই শাকেরের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ঢাকা মহানগর যুবদলের সদস্য রনি শিকদার ও শামীমা তাবাসসুম লুবনা নামে এক নারীকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করে পুলিশ। পরে তাদের রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের তথ্যের ভিত্তিতে স্বর্ণ ব্যবসায়ী অনিমেষ মজুমদার এবং মাগুরা পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক ও নবনির্বাচিত শ্রমিক নেতা মারুফ হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়।
সর্বশেষ মারুফ হোসেনকে রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের মধ্যেই জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক গোলাম জাহিদ হোসেনকে গ্রেফতার করল গোয়েন্দা পুলিশ। তার গ্রেফতারের মধ্য দিয়ে মামলায় গ্রেফতারের সংখ্যা দাঁড়াল পাঁচজন।
তদন্ত সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, গোলাম জাহিদকে জিজ্ঞাসাবাদে এ হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের কারণ এবং স্বর্ণ ডাকাতির সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ