খুলনা | বুধবার | ০৪ নভেম্বর ২০২৬ | ২০ কার্তিক ১৪৩৩

সুন্দরবনে কোস্ট গার্ডের পৃথক অভিযান

জিম্মি থাকা ৫ জেলেকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার, অস্ত্র-গোলাবারুদ জব্দ

মোংলা ও কয়রা প্রতিনিধি |
০২:০৩ এ.এম | ০৪ নভেম্বর ২০২৬


সুন্দরবনের উপকূলীয় অঞ্চলে নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং সক্রিয় সকল বনদস্যু বাহিনী নির্মূলের লক্ষ্যে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের চলমান বিশেষ অভিযানে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে। একই সঙ্গে ডাকাত সাত্তার বাহিনীর হাতে জিম্মি থাকা পাঁচ জেলেকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করেছে কোস্ট গার্ড। মঙ্গলবার কোস্ট গার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।
কোস্ট গার্ড সূত্রে জানায়, সুন্দরবনকে সম্পূর্ণরূপে দস্যুমুক্ত করতে বর্তমানে কোস্ট গার্ডের নেতৃত্বে “অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন” এবং “অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড” নামক দু’টি বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় সুনির্দিষ্ট গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ৩ নভেম্বর পৃথক দু’টি অভিযান পরিচালনা করা হয়।
কোস্ট গার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, সুন্দরবনের দুর্ধর্ষ ডাকাত সাত্তার বাহিনী সুন্দরবনের আড়শীপসা নদীর গানধার খাল এলাকায় মুক্তিপণ আদায়ের উদ্দেশ্যে কয়েকজন জেলেকে জিম্মি করে রেখেছে। এই তথ্যের ভিত্তিতে ৩ নভেম্বর ভোর ৪টার দিকে কোস্ট গার্ড স্টেশন কয়রা ও স্টেশন দোবেকী যৌথভাবে ওই এলাকায় বিশেষ অভিযান চালায়। আভিযানিক দলের উপস্থিতি টের পেয়ে ডাকাত দল জিম্মিদের ফেলে সুন্দরবনের গহীনে পালিয়ে যাওয়ায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে ওই এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে ১টি ডিঙ্গি নৌকা থেকে ৪টি দেশীয় ওয়ান শুটার গান, ৬ রাউন্ড তাজা কার্তুজ, ১৩ রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ উদ্ধার করা হয়। পাশাপাশি ডাকাতদের কবল থেকে ৫ জন জেলেকে অক্ষত অবস্থায় জীবিত উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত জেলেরা হলো কয়রা থানার বাসিন্দা জহুরুল ইসলাম (২৭), ফারুক গাজী (৪২), রেজাউল করিম (২৬), নুরুল হুদা (২৩) ও হাসান গাজী (২৭)।
অন্যদিকে অপর একটি গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, একটি সশস্ত্র ডাকাতদল ডাকাতির প্রস্তুতি নিয়ে সুন্দরবনের কুমড়োখালী খাল সংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। এই তথ্যের সত্যতা যাচাইয়ে ৩ নভেম্বর সকাল ১১টায় কোস্ট গার্ড বেইস মোংলা এবং কোস্ট গার্ড স্টেশন নলিয়ানের সমন্বয়ে ওই এলাকায় আরেকটি বিশেষ অভিযান চালানো হয়। কোস্ট গার্ড সদস্যদের উপস্থিতি টের পেয়ে ডাকাত দলের সদস্যরা বনের গহীনে পালিয়ে যাওয়ায় কাউকে আটক বা শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে ওই এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে অভিনব কায়দায় লুকায়িত অবস্থায় ৪টি একনলা বন্দুক, ১টি ০.২২ ক্যালিবার বন্দুক, ২০ রাউন্ড তাজা কার্তুজ, ৫২ রাউন্ড ০.২২ ক্যালিবার বন্দুকের গোলা ও ২টি ম্যাগজিন উদ্ধার করা হয়।
কোস্ট গার্ড বেইস মোংলার নির্বাহী কর্মকর্তা লেঃ মীর আকিব মোস্তাফিজ জানান, উদ্ধারকৃত অস্ত্র ও গোলাবারুদ পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। পাশাপাশি, উদ্ধারকৃত জেলেদের নিরাপদে তাদের পরিবারের নিকট ফিরিয়ে দেওয়ার কার্যক্রমও বর্তমানে চলমান রয়েছে।
কোস্ট গার্ডের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, সরকারের সুস্পষ্ট নির্দেশনা, সাধারণ জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত সহযোগিতা এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে অচিরেই সুন্দরবনকে সম্পূর্ণরূপে দস্যুমুক্ত করা সম্ভব হবে বলে তারা আশাবাদী। সুন্দরবনের নিরাপত্তা রক্ষায় কোস্ট গার্ডের এমন অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। 

প্রিন্ট

আরও সংবাদ