খুলনা | শুক্রবার | ০৬ নভেম্বর ২০২৬ | ২২ কার্তিক ১৪৩৩

কাটাখালি ও কুদির বটতলায় পথসভায় প্রধানমন্ত্রী

সীমান্তের ওপার থেকে গার্মেন্টস শিল্পে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা হচ্ছে

নিজস্ব প্রতিবেদক, রূপসা ও ফকিরহাট প্রতিনিধি |
০২:২১ এ.এম | ০৬ নভেম্বর ২০২৬


আগামী দুই-এক মাসের মধ্যে পোশাক শ্রমিকদের জন্য নতুন নিম্নতম মজুরি নির্ধারণ করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, শ্রমিকদের মজুরি সংক্রান্ত দাবি বিবেচনায় নিয়ে এরই মধ্যে মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছে। বোর্ড কাজও শুরু করেছে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে বাগেরহাটে হযরত খানজাহান আলী (রহঃ)-এর মাজার জিয়ারতে যাওয়ার পথে খুলনা- মোংলা মহাসড়কের কাটাখালী মোড় ও রূপসা উপজেলার তিলক কুদির বটতলায় পৃথক আয়োজিত পথসভায় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, ‘মজুরি বোর্ড এরই মধ্যে কাজও শুরু করে দিয়েছে। ইনশাআল­াহ আগামী দুই-এক মাসের মধ্যে মজুরি বোর্ড নতুন নিম্নতম মজুরি নির্ধারণ করবে, যাতে করে আমাদের শ্রমিক ভাই-বোনেরা এর চেয়েও ভালো থাকতে পারেন।’
পথসভায় প্রধানমন্ত্রী দেশের শিল্পকারখানায় হামলা, ভাঙচুর ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপচেষ্টার বিরুদ্ধে শ্রমিকসহ সর্বস্তরের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহŸান জানান। তিনি বলেন, শিল্পকারখানায় হামলা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পেছনে যারা ষড়যন্ত্র করছে, ২০২৪ সালের মতোই জনগণ তাদের উচিত জবাব দেবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা সকল শক্তি নিয়ে দেশের মানুষ, খেটে খাওয়া মানুষ ও শ্রমিক ভাই-বোনদের সঙ্গে নিয়ে ষড়যন্ত্রকারীদের রুখে দাঁড়াব। ২০২৪ সালে যেভাবে বাংলাদেশের মানুষ তাদের উচিত জবাব দিয়েছিল, সামনের দিনেও একইভাবে তাদের উচিত জবাব দেওয়া হবে।’
তারেক রহমান অভিযোগ করেন, বিগত ১৫-১৬ বছরে যারা মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করতে পারেনি, ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়েছিল এবং দেশ থেকে অর্থ-সম্পদ বিদেশে পাচার করেছিল, তারা ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের মুখে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে। এখন তারা সীমান্তের ওপার থেকে কলকাঠি নাড়ছে এবং দেশে বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের মিল-কারখানা জনগণ ও শ্রমিকদের সম্পদ। এসব কারখানা ধ্বংস হলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন শ্রমিকেরা এবং তাঁদের সন্তানেরা। তাই ষড়যন্ত্রকারীদের কোনো সুযোগ দেওয়া যাবে না। এখন দেশ গঠন ও মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের সময়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচিত সরকার দেশের সমস্যা সমাধান, শিল্পের প্রসার এবং ব্যবসা-বাণিজ্য জোরদারে দিনরাত কাজ করছে। বিএনপি কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বন্ধ হয়ে যাওয়া সরকারি-বেসরকারি শিল্পকারখানা পুনরায় চালুর প্রতিশ্রæতি দিয়েছিল। সরকার সেই প্রতিশ্রæতি বাস্তবায়নে কাজ করবে। পাশাপাশি দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের উৎসাহিত করে নতুন শিল্পকারখানা স্থাপন এবং তরুণদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তারেক রহমান বলেন, একসময় খুলনা ছিল দেশের অন্যতম প্রধান শিল্পাঞ্চল। নানা কারণে এ অঞ্চলের অনেক কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। খুলনা, বাগেরহাট, কুষ্টিয়া ও চুয়াডাঙ্গাসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল থেকে উত্তরের পঞ্চগড় পর্যন্ত হাজার হাজার শিল্পকারখানা গড়ে তুলতে চায় সরকার। এর মাধ্যমে দেশের তরুণদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং দীর্ঘদিন অবহেলিত দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের উন্নয়ন করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের আগে বিএনপি প্রতিশ্রæতি দিয়েছিল, সরকার গঠন করতে পারলে দেশের মানুষের জন্য কাজ করবে। এর অংশ হিসেবে বিভিন্ন স্থানে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ হয়ে থাকা মিল-কারখানা পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের নতুন শিল্পকারখানা স্থাপনে উৎসাহিত করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, একসময় খুলনা একটি শিল্পাঞ্চল হিসেবে পরিচিত ছিল। এখানে বহু মিল-কারখানা ছিল। কিন্তু সময়ের বিবর্তনে বিভিন্ন কারণে সেগুলো বন্ধ হয়ে গেছে। আমরা চাই বাগেরহাট, খুলনা, কুষ্টিয়া ও চুয়াডাঙ্গা থেকে শুরু করে উত্তরাঞ্চলের পঞ্চগড় পর্যন্ত হাজার হাজার শিল্পকারখানা গড়ে তুলতে। এতে শুধু কর্মসংস্থানই হবে না; বছরের পর বছর অবহেলিত দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলসহ বিভিন্ন এলাকার মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন ঘটবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার দেশের সমস্যা সমাধান, শিল্পের প্রসার এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের উন্নয়নে দিনরাত কাজ করছে। তবে গত কয়েক দিন ধরে ঢাকার কিছু এলাকায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা চলছে। শ্রমিকদের মজুরি নিয়ে দাবি-দাওয়া রয়েছে। এসব দাবি পর্যালোচনার জন্য সরকার মজুরি বোর্ড গঠন করেছে। বোর্ড ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে। আগামী এক থেকে দুই মাসের মধ্যে নতুন মজুরি নির্ধারণ করা হবে।
শ্রমিকদের দাবি-দাওয়াকে কেন্দ্র করে একটি মহল দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, কোনো শ্রমজীবী মানুষ নিজের শিল্পপ্রতিষ্ঠানের ক্ষতি করতে পারেন না। কিন্তু বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে দেখা গেছে, কিছু লোক কারখানায় গিয়ে ভাঙচুর করছে। গাড়ি ও যন্ত্রপাতি ধ্বংস করছে।
তিনি আরও বলেন, গত প্রায় ৫০ বছরে দেশে গার্মেন্টসসহ বিভিন্ন শিল্প গড়ে উঠেছে। এসব শিল্পের মাধ্যমে বাংলাদেশ উলে­খযোগ্য পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করছে। একটি মহল নিজেদের স্বার্থে এসব শিল্পপ্রতিষ্ঠান ধ্বংস করতে চায়। যারা মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নিয়েছিল এবং দেশের অর্থ-সম্পদ লুটপাট করে বিদেশে পাচার করেছিল, তারা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার পরও সীমান্তের ওপার থেকে কলকাঠি নাড়ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, মিল-কারখানাগুলো দেশের সম্পদ, দেশের মানুষের সম্পদ এবং শ্রমিকদের সম্পদ। এসব কারখানা ধ্বংস হলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন খেটে খাওয়া মানুষ ও শ্রমিকেরা। তাঁদের সন্তানদের ভবিষ্যৎও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
বাগেরহাট জেলা বিএনপি’র নেতা ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার জাকির হোসেনের সভাপতিত্বে পথসভায় উপস্থিত ছিলেন নৌপরিবহন, সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং রেলপথমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান, পরিবেশ ও জলবায়ু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, খুলনা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র নজরুল ইসলাম মঞ্জু, ফকিরহাট উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি শেখ কামরুল ইসলাম গোরা, বিএনপি নেতা কপিল কৃষ্ণ মন্ডল, সোমনাথ দে প্রমুখ। 
রূপসার কুদির বটতলায় পথসভার আয়োজন করেন খুলনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য আজিজুল বারী হেলাল। এ সময় খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু, খুলনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য আজিজুল বারী হেলাল, জেলা বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত সদস্য সচিব ও জেলা পরিষদের প্রশাসক এস এম মনিরুল হাসান বাপ্পী, আহবায়ক মনিরুজ্জামান মন্টু, যুগ্ম-আহবায়ক খান জুলফিকার আলী জুলু, রূপসা উপজেলা বিএনপি’র আহবায়ক মোল্লা সাইফুর রহমান, সদস্য সচিব জাবেদ মলি­কসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ