খুলনা | শুক্রবার | ০৬ নভেম্বর ২০২৬ | ২২ কার্তিক ১৪৩৩

হাসানের ৬ উইকেটের পরও বাংলাদেশের হতাশার দিন

ক্রীড়া প্রতিবেদক |
০৫:২২ পি.এম | ০৬ নভেম্বর ২০২৬

 

সকালের শুরুতে নতুন বল হাতে পেয়ে আগুনে বোলিংয়ে জাদু দেখিয়েছেন হাসান মাহমুদ। ক্যারিয়ারে দ্বিতীয়বারের মতো নিয়েছেন ৬ উইকেট। হতে পারতো হ্যাটট্রিকও। হাসানের এমন সাফল্যের পরও ওয়েস্ট ইন্ডিজকে তিনশর নিচে আটকাতে পারেনি বাংলাদেশ। বরং লেজের ব্যাটে ক্যারিবীয়রা ছাড়িয়ে গেছে সাড়ে তিনশ। চোটের কারণে সাদমান ইসলাম না থাকায় বাংলাদেশের ধাক্কাটা ছিল আগে থেকেই। সেই ধাক্কার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে টপ অর্ডারের ধস।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে আবারও ধস নেমেছে বাংলাদেশের টপ অর্ডারে। নাঈম হাসান, তানজিদ হাসান তামিম ও নাজমুল হোসেন শান্ত ফেরেন দ্রুতই। শেষ বিকেলে মুশফিকুর রহিম ও তাওহীদ হৃদয় মিলে প্রতিরোধ গড়ে ধাক্কা সামাল দিয়েছেন। সিলেট টেস্টের দ্বিতীয় দিনে হাসান ৬ উইকেট পেলেও ব্যাটিংয়ে হতাশাময় বিকেলে কাটাতে হয়েছে বাংলাদেশকে। ৩ উইকেটে ৮৮ রান তোলা স্বাগতিকরা এখনো ২৬৮ রানে পিছিয়ে।

ফিল্ডিং করার সময় গোড়ালিতে চোট পেয়েছেন সাদমান। সেই চোটে হাসপাতালে যেতে হয়েছে তাকে। সাদমান না থাকায় প্রথমবারের মতো তানজিদের সঙ্গে ওপেনিংয়ে নেমেছিলেন নাঈম। তবে সুযোগটা কাজে লাগাতে পারেননি তিনি। ইনিংসের পঞ্চম ওভারেই ফেরেন নাঈম। জেইডেন সিলসের বলে স্লিপে ব্রেন্ডন কিংয়ের হাতে ক্যাচ দেন।

নাঈম আউট হয়েছেন ৬ বলে ৫ রান করে। আরেক ওপেনার তানজিদও ইনিংস বড় করতে পারেননি। গ্রিভসের ফুলার লেংথ ডেলিভারিতে ডাউন দ্য উইকেটে এসে ড্রাইভ করেছিলেন তানজিদ। কভারে দাঁড়ানো কেভিন উইকহ্যাম অবিশ্বাস্য ক্যাচ নিলে ৩৩ বলে ১৬ রান করে ফেরেন বাঁহাতি ওপেনার। ধাক্কা সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন শান্ত ও হৃদয়।

উইকেটে থিতুও হয়েছিলেন শান্ত। তবে ইনিংসটা বড় করতে পারেননি তিনি। শামার জোসেফের দুর্দান্ত ডেলিভারিতে বলের লাইন মিস করে বোল্ড হয়েছেন ৬৫ বলে ১৮ রান করে। ৫১ রানে ৩ উইকেট হারানোর পর প্রতিরোধ গড়ে তোলেন হৃদয় ও মুশফিক। তাদের দুজনের ১০৪ বলে অবিচ্ছিন্ন ৩৭ রানের জুটিতে দিনের খেলা শেষ হয়েছে।

প্রথম দিনের ৪ উইকেটে ২৩৫ রান নিয়ে দ্বিতীয় দিনের খেলা শুরু করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। দিন শুরুর পরও প্রতিরোধ গড়ে তোলেন আমির জাঙ্গু ও জাস্টিন গ্রিভস। পঞ্চম উইকেটে দুজনের ১০৬ রানের জুটিতে বড় সংগ্রহের পথে এগোচ্ছিল ক্যারিবীয়রা। তবে দ্বিতীয় নতুন বল হাতে নিয়েই ম্যাচে ফেরে বাংলাদেশ। জাঙ্গুকে বোল্ড করে জুটি ভাঙেন হাসান।

১৩টি চার ও ২টি ছক্কায় ২১২ বলে ১৩৩ রান করেন এই ক্যারিবীয় ব্যাটার। সেঞ্চুরির পর দেড়শ ছোঁয়ার সুযোগ থাকলেও তা আর হয়নি। এরপর রস্টন চেজকে শূন্য রানে ফিরিয়ে দেন হাসান। পরপর দুই বলে দুই উইকেট নিয়ে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনাও জাগিয়েছিলেন তিনি। জশুয়া বিশপকে এলবিডব্লিউও করেছিলেন হাসান। তবে রিভিউ নিয়ে বেঁচে যান বিশপ।

লাঞ্চের আগে জাস্টিন গ্রিভসকে বোল্ড করে বাংলাদেশকে আরও সাফল্য এনে দেন মিরাজ। একপ্রান্ত আগলে রেখে ১১২ বলে ৫১ রান করেন গ্রিভস। তাতে লাঞ্চ বিরতিতে যাওয়ার আগে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৮ উইকেটে ৩২২ রান। বিরতির পর প্রথম ওভারেই শামার জোসেফকে বোল্ড করেন হাসান।

এরপর জশুয়া বিশপকে স্টাম্পিংয়ের ফাঁদে ফেলে ইনিংসে নিজের পঞ্চম উইকেট তুলে নেন তিনি। ২৫ বলে ২৩ রান করেন বিশপ। শেষ পর্যন্ত জেইডেন সিলসকে এলবিডব্লিউ করে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ইনিংসের ইতি টানেন মিরাজ। ৮২ রানে ২ উইকেট নেন এই স্পিনার।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ