খুলনা | শুক্রবার | ০৬ নভেম্বর ২০২৬ | ২২ কার্তিক ১৪৩৩

ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের ফোনে আড়িপাতার অভিযোগ, গ্রেপ্তার চিফ অব স্টাফ

খবর প্রতিবেদন |
০৫:৩১ পি.এম | ০৬ নভেম্বর ২০২৬


ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তোর ফোনালাপে আড়িপাতার অভিযোগ ওঠার পর দেশটিতে সম্ভাব্য রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে তদন্ত শুরু করেছে কর্তৃপক্ষ। এই ঘটনায় প্রেসিডেন্টের চিফ অব স্টাফ লিসতিও সিগিত প্রাবোওসহ ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই কেলেঙ্কারিকে কেন্দ্র করে সাবেক প্রেসিডেন্ট জোকো উইদোদোর (জোকোই) সঙ্গে বর্তমান প্রেসিডেন্টের রাজনৈতিক টানাপোড়েন আরও প্রকাশ্যে এসেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

প্রেসিডেন্টের চিফ অব স্টাফ লিসতিও সিগিত প্রাবোও ও দুই ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাকে মঙ্গলবার গ্রেপ্তার করা হয়। নাম একই হলেও লিসতিওর সঙ্গে প্রেসিডেন্টের কোনো পারিবারিক সম্পর্ক নেই। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, আদালতের পরোয়ানা বা আনুষ্ঠানিক কোনো তদন্ত প্রতিবেদন ছাড়াই পুলিশের ইলেকট্রনিক নজরদারি ব্যবস্থায় প্রেসিডেন্ট প্রাবোওসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের ফোন নম্বর যুক্ত করে গোপনে আড়িপাতা হচ্ছিল।

গত সপ্তাহে এক পুলিশ কর্মকর্তার দেয়া গোপন তথ্যের ভিত্তিতে বিষয়টি ফাঁস হয়। তবে কর্তৃপক্ষের ধারণা, লিসতিও যখন জাতীয় পুলিশপ্রধানের দায়িত্বে ছিলেন, অর্থাৎ ২০২৫ সাল থেকেই এই আড়িপাতা কার্যক্রম চলছিল।

বুধবার প্রেসিডেন্টের এক মুখপাত্র সাংবাদিকদের বলেন, এই নজরদারিতে ‘সংবেদনশীল তথ্য’ যুক্ত থাকায় তা ‘দেশের স্বার্থ ও সার্বভৌমত্বকে বিপন্ন করতে পারে’, যা রাষ্ট্রদ্রোহের শামিল। ইন্দোনেশিয়ার আইনে রাষ্ট্রদ্রোহের সর্বোচ্চ শাস্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা মৃত্যুদণ্ড। তবে গত এক দশকে দেশটিতে কারও মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়নি। মুখপাত্র জানান, আড়িপাতার মূল উদ্দেশ্য এখনো স্পষ্ট নয়। শুধু প্রেসিডেন্টই নন, রাজনীতিবিদ, সাংবাদিক, বেসরকারি সংস্থার (এনজিও) প্রতিনিধি ও ব্যবসায়ীদের ফোনেও এই আড়িপাতা চালানো হয়েছিল।

বৃহস্পতিবার রাতে দেশটির পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের কর্মকর্তা স্লামেত উলিয়ান্দিকে চতুর্থ সন্দেহভাজন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। তবে স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে গুরুতর অসুস্থ থাকায় তাকে আটক করা হয়নি। এদিকে গত মাসে প্রেসিডেন্টের চিফ অব স্টাফ পদে নিয়োগ পাওয়া লিসতিওকে গ্রেপ্তারের পরপরই পদ থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে।

ইন্দোনেশিয়ার বর্তমান পুলিশপ্রধান সুয়ুদি আরিও সেতো বৃহস্পতিবার দাবি করেন, এই তদন্ত পুরোপুরি আইনের প্রয়োগ এবং এর সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক বৈরিতার সম্পর্ক নেই। তবে অনেকেই এটিকে প্রাবোও ও উইদোদোর মধ্যকার রাজনৈতিক জোট ভাঙনের স্পষ্ট লক্ষণ হিসেবে দেখছেন। ২০১৪ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকা উইদোদোর সমর্থনে ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ী হন প্রাবোও। সেই নির্বাচনে উইদোদোর বড় ছেলে জিবরান রাকাবুমিং রাকা ভাইস প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন।

ক্ষমতায় আসার পর উইদোদোর অন্যতম অগ্রাধিকার প্রকল্প নতুন রাজধানী নুসানতারা নির্মাণে প্রাবোও খুব একটা আগ্রহ দেখাননি। উল্টো তিনি উইদোদোর আমলের অর্থমন্ত্রী শ্রী মুলিয়ানি ইন্দ্রাবতীসহ বেশ কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তাকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেন। এছাড়া উইদোদোর ছেলে জিবরানের শিক্ষাগত সনদের বৈধতা নিয়েও রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র বিতর্ক চলছে।

লিসতিও মূলত উইদোদোর দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত। বৃহস্পতিবার এক আদালতের কার্যক্রম শেষে আড়িপাতা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে উইদোদো সাংবাদিকদের বলেন, ‘চলমান আইনি প্রক্রিয়ার প্রতি আমাদের সবার শ্রদ্ধা দেখানো উচিত।’

দেশটিতে ভয়াবহ দাবানল, অর্থনৈতিক অস্থিরতা ও জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধির মতো নানা সংকটের মধ্যেই এই শীর্ষ পর্যায়ের রাজনৈতিক কেলেঙ্কারির ঘটনা প্রকাশ্যে এলো।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ